০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ মার্চ ২০২৫, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে সরিষা ফুলের হলুদ রঙে প্রকৃতি সেজেছ অপরুপ সাজে

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫০:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৫
  • / ৫৮৫ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী প্রতিবেদকঃ পৌষের সকালে শিশির ভেজা ঘন কুয়াশার চাদরে মোড়ানো হলুদ ফুলের সমারোহ। সরিষা ফুলের হলুদ রঙে ভরে উঠেছে ফসলের মাঠ। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে প্রকৃতির রূপ বৈচিত্র্য। সরিষা ফুলের নয়নাভিরাম দৃশ্য পাল্টে দিয়েছে দেশের উত্তরের জেলা রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার আমরাইল,মৌগাছি, ধুরইল, মোহনপুর সদর, মহব্বতপুরসহ বিভিন্ন মাঠ। এ যেন প্রকৃতির এক জীবন্ত অপরুপ ক্যানভাস। মাঠের এ সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে মৌমাছি দলের ফুলে ফুলে মধূ সংগ্রহ দৃশ্যটি নজর কেঁড়ে নেয় প্রকৃতি-প্রেমিকদেরও। কৃষকরা বলছেন গত বছর স্থানীয় বাজারগুলোতে চাহিদা ও দাম ভাল পাওয়ায় কৃষকরা এবার সরিষা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এবছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ফসলটির ভাল আবাদ হয়েছে প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে এবারও ভাল ফলনের আশা তাঁদের।

উপজেলার বাকশিমইল গ্রামের আব্দুর রহিম বলেন, ধান কাটার পরে জমিটা পড়ে থাকত। পরে এখন সরিষা করেছি। সরিষা উঠানোর পরে আমরা আবার ধান লাগাবো। আরেক আদর্শ কৃষক ভাতুড়িয়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম সোহেল বলেন, এক বিঘাতে আট দশ মন সরিষা পায় এতে লাভবান বেশি । অন্য বছরের থেকে আশা করছি এবার দাম ভাল পাব।

এদিকে আবাদ বৃদ্ধি ও ফলন ভাল পেতে কৃষি বিভাগের পক্ষে থেকে কৃষকদের দেওয়া হচ্ছে প্রনোদনাসহ প্রযুক্তিগত নানা পরামর্শ।

মোহনপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কামরুল ইসলাম জানান, এবছর বারি সরিষা ১৪, ১৭, ও ১৮ নতুন জাত বিনা সরিষা ৪ ও ৯। বারি সরিষা ১৪ এটা পচাত্তর দিনের মধ্যেই ঘরে তোলা যায় এবং বারি সরিষা ৯ যেটা এটা আশি দিনের ভিতরেই ঘরে তোলা যায়। কাজেই কৃষক সরিষা ঘরে তোলার পর পরেই বোরো ধানের আবাদ করতে পারে কোন সমস্যা হয়না।

মোহনপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য মতে এবছর উপজেলায়ং ৬ হাজার ৩০ হেক্টর জমিতে ৯ হাজার ৪৫ মেট্রিকটন সরিষার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ পরিচালক উম্মে সালমা’র দেওয়া তথ্য মতে এবছর জেলার ৯ উপজেলায় ৬৫ হাজার ৯’শ ৭০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছে। সম্ভাব্য উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লক্ষ ১২ হাজার ১’শ ৫০ মেট্রিকটন। এবছর গম, ভুট্রা, চিনা বাদাম, শীতকালীন পেঁয়াজ,মসুরসহ সরিষায় প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে ৬৫ হাজার বিঘা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাজশাহীতে সরিষা ফুলের হলুদ রঙে প্রকৃতি সেজেছ অপরুপ সাজে

আপডেট সময় : ০৬:৫০:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৫

রাজশাহী প্রতিবেদকঃ পৌষের সকালে শিশির ভেজা ঘন কুয়াশার চাদরে মোড়ানো হলুদ ফুলের সমারোহ। সরিষা ফুলের হলুদ রঙে ভরে উঠেছে ফসলের মাঠ। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে প্রকৃতির রূপ বৈচিত্র্য। সরিষা ফুলের নয়নাভিরাম দৃশ্য পাল্টে দিয়েছে দেশের উত্তরের জেলা রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার আমরাইল,মৌগাছি, ধুরইল, মোহনপুর সদর, মহব্বতপুরসহ বিভিন্ন মাঠ। এ যেন প্রকৃতির এক জীবন্ত অপরুপ ক্যানভাস। মাঠের এ সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে মৌমাছি দলের ফুলে ফুলে মধূ সংগ্রহ দৃশ্যটি নজর কেঁড়ে নেয় প্রকৃতি-প্রেমিকদেরও। কৃষকরা বলছেন গত বছর স্থানীয় বাজারগুলোতে চাহিদা ও দাম ভাল পাওয়ায় কৃষকরা এবার সরিষা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এবছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ফসলটির ভাল আবাদ হয়েছে প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে এবারও ভাল ফলনের আশা তাঁদের।

উপজেলার বাকশিমইল গ্রামের আব্দুর রহিম বলেন, ধান কাটার পরে জমিটা পড়ে থাকত। পরে এখন সরিষা করেছি। সরিষা উঠানোর পরে আমরা আবার ধান লাগাবো। আরেক আদর্শ কৃষক ভাতুড়িয়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম সোহেল বলেন, এক বিঘাতে আট দশ মন সরিষা পায় এতে লাভবান বেশি । অন্য বছরের থেকে আশা করছি এবার দাম ভাল পাব।

এদিকে আবাদ বৃদ্ধি ও ফলন ভাল পেতে কৃষি বিভাগের পক্ষে থেকে কৃষকদের দেওয়া হচ্ছে প্রনোদনাসহ প্রযুক্তিগত নানা পরামর্শ।

মোহনপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কামরুল ইসলাম জানান, এবছর বারি সরিষা ১৪, ১৭, ও ১৮ নতুন জাত বিনা সরিষা ৪ ও ৯। বারি সরিষা ১৪ এটা পচাত্তর দিনের মধ্যেই ঘরে তোলা যায় এবং বারি সরিষা ৯ যেটা এটা আশি দিনের ভিতরেই ঘরে তোলা যায়। কাজেই কৃষক সরিষা ঘরে তোলার পর পরেই বোরো ধানের আবাদ করতে পারে কোন সমস্যা হয়না।

মোহনপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য মতে এবছর উপজেলায়ং ৬ হাজার ৩০ হেক্টর জমিতে ৯ হাজার ৪৫ মেট্রিকটন সরিষার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ পরিচালক উম্মে সালমা’র দেওয়া তথ্য মতে এবছর জেলার ৯ উপজেলায় ৬৫ হাজার ৯’শ ৭০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছে। সম্ভাব্য উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লক্ষ ১২ হাজার ১’শ ৫০ মেট্রিকটন। এবছর গম, ভুট্রা, চিনা বাদাম, শীতকালীন পেঁয়াজ,মসুরসহ সরিষায় প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে ৬৫ হাজার বিঘা।