আরাফাত রহমান কোকো হাডুডু টুর্নামেন্ট পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে
একটি দল বেহেশতের টিকিট বিক্রি করছে—এ্যাড. শফিকুল হক মিলন
- আপডেট সময় : ০৪:৪৭:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫
- / ৬১৬ বার পড়া হয়েছে
রাজশাহী প্রতিনিধি: গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলা হাডুডু বাংলাদেশের জাতীয় খেলা হলেও কালের বিবর্তনে তা হারিয়ে যেতে বসেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন।
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) দিনব্যাপী রাজশাহীর পবা উপজেলার হড়গ্রাম ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের খিরশিন ফকিরপাড়া যুব সংঘ আয়োজিত “আরাফাত রহমান কোকো হাডুডু টুর্নামেন্টের” পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এ্যাড. মিলন বলেন, “গ্রামবাংলার জনপ্রিয় খেলা হাডুডু শুধু বিনোদন নয়, এটি আমাদের জাতীয় ঐতিহ্যের প্রতীক। আগে বর্ষা মৌসুমে প্রতিটি গ্রামে মাঠ কেটে খেলোয়াড়রা এই খেলায় মেতে উঠতেন। এখন সেই খেলাকে কাবাডি নামে চেনানো হচ্ছে, অথচ প্রকৃত হাডুডু প্রায় বিলুপ্তপ্রায়।”
তিনি আরো বলেন, “পূর্বে কোনো খেলা বা সাংস্কৃতিক কর্মসূচি আয়োজন করতে গেলেই ‘উপরওয়ালা’র অনুমতি নিতে হতো— মানে থানার ওসির। কিন্তু আসল উপরওয়ালা হচ্ছেন সৃষ্টিকর্তা। তিনিই সব কাজের নিয়ন্তা। বর্তমানে পার্থিব ‘উপরওয়ালাদের’ অনুমতির যুগ শেষ।”
বিএনপি নেতা মিলন অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে দলীয়করণ করে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। তার ভাষায়, “স্টার খেলোয়াড়দের রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে তাদের ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়া হয়েছে। ক্রীড়া সংগঠনগুলোতে ব্যাপক দুর্নীতি চলায় ফুটবলসহ অনেক খেলা ধ্বংসের পথে।”
তিনি দাবি করেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে ক্রীড়াঙ্গনে এমন দুর্নীতি হয়নি, কারণ বিএনপি একটি ক্রীড়ামোদী ও সংস্কৃতিমনা দল।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, “বিএনপি আবার ক্ষমতায় এলে দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে পুনর্গঠন ও নবজাগরণের পথে নিয়ে যাওয়া হবে।”
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে মিলন বলেন, “ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী যেই হোক না কেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং ভোট দিতে হবে। অন্যথায় দেশ আরও ৫০ বছরের জন্য পিছিয়ে পড়বে।”
“একটি দল জনগণের কাছে বেহেশতের টিকিট বিক্রি করছে— বলছে দাড়িপাল্লায় ভোট দিলেই জান্নাতে যাবে! মোনাফেক এই দলের কথায় কেউ যেন বিশ্বাস না করে। প্রতিটি ঘরে ঘরে এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পবা উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব কামাল হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—
পবা উপজেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক,
যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ,
মোহনপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর পরাগ,
হড়গ্রাম মডেল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ মারুফ হোসেন,
হড়গ্রাম ইউনিয়ন বিএনপি’র সদস্য সচিব শাহিন রেজা সান্নান, সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব এরশাদ আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, যুবনেতা আসিফ হোসেন বকুল এবং সমাজসেবক আবুল কালাম আজাদ।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন হড়গ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাওসার আলী।
দিনব্যাপী আয়োজিত টুর্নামেন্টে মোট ছয়টি দল অংশ নেয়। চূড়ান্ত খেলায় মামুন ট্রাক্টর একাদশ ৫০-৪৭ পয়েন্টে সাধন ও পারভেজ একাদশকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়।
পরে প্রধান অতিথি বিজয়ী ও রানার-আপ দলের হাতে ট্রফি ও নগদ পুরস্কার তুলে দেন।










