০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
রাজনীতি নিয়ে উত্তেজনা, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন

গলাচিপায় বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের সংঘর্ষে আহত ২৫

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১৬:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৫৪৬ বার পড়া হয়েছে

পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর গলাচিপায় বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নের চরশিবা দক্ষিণ কপালবেড়া খলিফা বাড়ির সামনে চৌরাস্তায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত ৩ নভেম্বর ২৩৭টি আসনে দলের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলেও পটুয়াখালী-৩ আসনের প্রার্থী ঘোষণা স্থগিত রাখেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে, নির্বাচনি সমঝোতার অংশ হিসেবে এ আসনটি গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরকে ছেড়ে দিতে পারে বিএনপি।

এই সিদ্ধান্তের সম্ভাবনায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। তারা দলীয় নেতা হাসান মামুনকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভে নামেন। একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার রাতে চরশিবা এলাকায় দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২৫ জন আহত হন।

আহতদের মধ্যে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কর্মী ইলিয়াস রাঢ়ি, সবুজ রাঢ়ি, নূরনবী রাঢ়ি, হাসান রাঢ়ি, কুদ্দুস ব্যাপারী, ইয়াকুব রাঢ়ি, ওমর রাঢ়ি, রাহান রাঢ়ি ও সলেমান রাঢ়ি রয়েছেন।
অন্যদিকে, গণঅধিকার পরিষদের আহতদের মধ্যে রয়েছেন যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল খলিফা, শাহাবুল খলিফা, আজমির খলিফা, আমেনা বেগম, নাঈম খলিফা ও নবীন খলিফাসহ আরও অনেকে।

ঢাকা মহানগর উত্তর যুব অধিকার পরিষদের সহসভাপতি ও নুরুল হক নুরের ভাই আমিনুল ইসলাম নুর বলেন,

“চর কপালবেড়ায় আমাদের ওয়ার্ড কমিটি গঠনের সভা চলছিল। বিএনপি কর্মীরা ৭ নভেম্বরের কর্মসূচি শেষে আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে কয়েকজন গুরুতর আহত হন।”

অন্যদিকে, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন বলেন,

“ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। কোনো উসকানি নয়, শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষাই এখন সবচেয়ে প্রয়োজন।”

গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান বলেন,

“দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্থানীয় দুই পরিবারের পুরোনো দ্বন্দ্ব থেকেই রাজনৈতিক বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে। এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সংঘর্ষের পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাজনীতি নিয়ে উত্তেজনা, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন

গলাচিপায় বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের সংঘর্ষে আহত ২৫

আপডেট সময় : ০৪:১৬:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫

পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর গলাচিপায় বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নের চরশিবা দক্ষিণ কপালবেড়া খলিফা বাড়ির সামনে চৌরাস্তায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত ৩ নভেম্বর ২৩৭টি আসনে দলের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলেও পটুয়াখালী-৩ আসনের প্রার্থী ঘোষণা স্থগিত রাখেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে, নির্বাচনি সমঝোতার অংশ হিসেবে এ আসনটি গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরকে ছেড়ে দিতে পারে বিএনপি।

এই সিদ্ধান্তের সম্ভাবনায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। তারা দলীয় নেতা হাসান মামুনকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভে নামেন। একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার রাতে চরশিবা এলাকায় দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২৫ জন আহত হন।

আহতদের মধ্যে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কর্মী ইলিয়াস রাঢ়ি, সবুজ রাঢ়ি, নূরনবী রাঢ়ি, হাসান রাঢ়ি, কুদ্দুস ব্যাপারী, ইয়াকুব রাঢ়ি, ওমর রাঢ়ি, রাহান রাঢ়ি ও সলেমান রাঢ়ি রয়েছেন।
অন্যদিকে, গণঅধিকার পরিষদের আহতদের মধ্যে রয়েছেন যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল খলিফা, শাহাবুল খলিফা, আজমির খলিফা, আমেনা বেগম, নাঈম খলিফা ও নবীন খলিফাসহ আরও অনেকে।

ঢাকা মহানগর উত্তর যুব অধিকার পরিষদের সহসভাপতি ও নুরুল হক নুরের ভাই আমিনুল ইসলাম নুর বলেন,

“চর কপালবেড়ায় আমাদের ওয়ার্ড কমিটি গঠনের সভা চলছিল। বিএনপি কর্মীরা ৭ নভেম্বরের কর্মসূচি শেষে আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে কয়েকজন গুরুতর আহত হন।”

অন্যদিকে, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন বলেন,

“ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। কোনো উসকানি নয়, শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষাই এখন সবচেয়ে প্রয়োজন।”

গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান বলেন,

“দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্থানীয় দুই পরিবারের পুরোনো দ্বন্দ্ব থেকেই রাজনৈতিক বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে। এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সংঘর্ষের পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।