০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে

প্রার্থীদের নিরাপত্তা যাচাই শুরু করেছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৬:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৫৪৬ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা, ৭ নভেম্বর ২০২৫ :আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়নে মাঠে নেমেছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। পুলিশের পক্ষে এ কাজটি শুরু করেছে স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি)। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রার্থীদের ঝুঁকি বিশ্লেষণের পর তাদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় থাকবে। প্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাড়ানো হবে নিরাপত্তা বলয়ও।

প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা

বিএনপি, জামায়াতসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল ইতোমধ্যে তাদের প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেছে এবং প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেছেন। এ অবস্থায় প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম–৮ আসনের প্রার্থী মো. এরশাদ উল্লাহ গণসংযোগকালে সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নতুনভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে সারাদেশে সব দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে ১১টি নির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করেছে এসবি। এসব তথ্য বিশ্লেষণ শেষে পুলিশ সদর দপ্তর ও এসবির মূল কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। মনোনয়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলে প্রার্থীদের বিষয়ে নতুন করে হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

আসনভিত্তিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন

আসন্ন নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুলিশ সদর দপ্তর আসনভিত্তিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরির কাজ শুরু করেছে। এতে প্রতিটি আসনের ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র, সহিংসতাপ্রবণ এলাকা, প্রার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং কোথায় কতটুকু নিরাপত্তা প্রয়োজন—এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। কোন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, টহল বৃদ্ধি কিংবা বডি ওর্ন ক্যামেরাসহ বিশেষ নিরাপত্তা টিম মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে, তাও নির্ধারণ করা হচ্ছে।

আইজিপির আশ্বাস

প্রার্থীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, “প্রার্থীদের নিরাপত্তা আমাদের মাথায় আছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি প্রার্থীদের নিজেদেরও সতর্ক ও সচেতন থাকার পরামর্শ দেন।

নির্বাচনী প্রস্তুতিতে পুলিশ

অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণায় আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে পুলিশ সদর দপ্তর প্রায় দেড় লাখ সদস্যকে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। ভোটের দিন ও তার আগে-পরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে নতুন করে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে।

এছাড়া প্রার্থীদের গণসংযোগকালে যেন কোনো ধরনের সহিংসতা না ঘটে, সে বিষয়ে মাঠ পুলিশকে আগাম সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, “চট্টগ্রাম–৮ আসনের ঘটনাটি শুধু ওই এলাকার নয়, সারাদেশের প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। অতীতে যেসব আসনে সংঘাত হয়েছে বা যেখানে সহিংসতার আশঙ্কা বেশি, সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। না হলে নির্বাচনী প্রচারে প্রাণহানির মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটতে পারে।”

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে

প্রার্থীদের নিরাপত্তা যাচাই শুরু করেছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো

আপডেট সময় : ০৪:৪৬:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫

ঢাকা, ৭ নভেম্বর ২০২৫ :আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়নে মাঠে নেমেছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। পুলিশের পক্ষে এ কাজটি শুরু করেছে স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি)। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রার্থীদের ঝুঁকি বিশ্লেষণের পর তাদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় থাকবে। প্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাড়ানো হবে নিরাপত্তা বলয়ও।

প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা

বিএনপি, জামায়াতসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল ইতোমধ্যে তাদের প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেছে এবং প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেছেন। এ অবস্থায় প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম–৮ আসনের প্রার্থী মো. এরশাদ উল্লাহ গণসংযোগকালে সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নতুনভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে সারাদেশে সব দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে ১১টি নির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করেছে এসবি। এসব তথ্য বিশ্লেষণ শেষে পুলিশ সদর দপ্তর ও এসবির মূল কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। মনোনয়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলে প্রার্থীদের বিষয়ে নতুন করে হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

আসনভিত্তিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন

আসন্ন নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুলিশ সদর দপ্তর আসনভিত্তিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরির কাজ শুরু করেছে। এতে প্রতিটি আসনের ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র, সহিংসতাপ্রবণ এলাকা, প্রার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং কোথায় কতটুকু নিরাপত্তা প্রয়োজন—এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। কোন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, টহল বৃদ্ধি কিংবা বডি ওর্ন ক্যামেরাসহ বিশেষ নিরাপত্তা টিম মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে, তাও নির্ধারণ করা হচ্ছে।

আইজিপির আশ্বাস

প্রার্থীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, “প্রার্থীদের নিরাপত্তা আমাদের মাথায় আছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি প্রার্থীদের নিজেদেরও সতর্ক ও সচেতন থাকার পরামর্শ দেন।

নির্বাচনী প্রস্তুতিতে পুলিশ

অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণায় আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে পুলিশ সদর দপ্তর প্রায় দেড় লাখ সদস্যকে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। ভোটের দিন ও তার আগে-পরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে নতুন করে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে।

এছাড়া প্রার্থীদের গণসংযোগকালে যেন কোনো ধরনের সহিংসতা না ঘটে, সে বিষয়ে মাঠ পুলিশকে আগাম সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, “চট্টগ্রাম–৮ আসনের ঘটনাটি শুধু ওই এলাকার নয়, সারাদেশের প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। অতীতে যেসব আসনে সংঘাত হয়েছে বা যেখানে সহিংসতার আশঙ্কা বেশি, সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। না হলে নির্বাচনী প্রচারে প্রাণহানির মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটতে পারে।”