রাজশাহী-৩ আসনে উত্তাপ পৃথক পথে বিএনপি ও জামায়াত
- আপডেট সময় : ১১:৫৫:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫
- / ৫৪৩ বার পড়া হয়েছে
রাজশাহী প্রতিনিধি | এশিয়ান ভয়েস ২৪.কম
৫৪, রাজশাহী–৩ (পবা–মোহনপুর) আসনটি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত আসনগুলোর একটি। এই আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর মধ্যে ব্যাপক প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি ও জামায়াত এ আসনে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করে আসলেও এবারের নির্বাচনে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। উভয় দলের পক্ষ থেকেই স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে বিএনপি ও জামায়াত–ঘরানার ভোটারদের মধ্যে বিভাজনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন— যিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ–সম্পাদক এবং রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। ২০১৩ সাল থেকে তিনি রাজশাহী–৩ আসনে তৃণমূলে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন। দীর্ঘদিনের দলীয় আনুগত্য ও স্থানীয় জনপ্রিয়তার কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীরা আশা করছেন, ধানের শীষ প্রতীকে মিলনকে বিজয়ী করতে পারবে।
অন্যদিকে, জামায়াতের পক্ষ থেকে এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন রাজশাহী জেলা জামায়াতের আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ। তিনি পবা–মোহনপুর এলাকায় পরিচিত মুখ এবং স্থানীয়ভাবে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। অতীতেও তিনি এ আসন থেকে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি–জামায়াত প্রার্থীরা যদি পৃথকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তাহলে ঐক্যবদ্ধ ভোটভাগ হয়ে যাবে— যা অন্য দলের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। পবা ও মোহনপুর উপজেলা জুড়ে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের ত্রিমুখী প্রভাব রয়েছে।
কিছু সূত্রের দাবি, এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ শেষ পর্যন্ত জামায়াতপন্থী প্রার্থীর প্রতি সমর্থন দিতে পারে— যদিও বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ মুখ খোলেননি।
তবে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে শেষ মুহূর্তে সমঝোতা হলে আসনটি একপক্ষের জন্য ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
রাজশাহী–৩ আসনটি ঐতিহ্যগতভাবে একটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ আসন। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজারের বেশি।
স্থানীয় রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, শফিকুল হক মিলনের সাংগঠনিক দক্ষতা ও মাঠে উপস্থিতি যেমন শক্তিশালী, তেমনি আবুল কালাম আজাদের দীর্ঘদিনের ধর্মভিত্তিক সামাজিক সংযোগও একটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে রাজশাহী–৩ আসনটি আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি–জামায়াতের টক্করের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে।














