পদ্মার চরে ক্ষমতার সমীকরণ বালু মহল নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, সংঘর্ষ ও হত্যা
পদ্মার চরে কাকন বাহিনীর দৌরাত্ম্য:যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু
- আপডেট সময় : ০৭:৩৩:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫
- / ৬০৩ বার পড়া হয়েছে
রাজশাহী, পাবনা ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের পদ্মা নদীর চরে এখন সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। বালুমহাল দখল, চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র সংঘর্ষের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করছে কথিত “কাকন বাহিনী” নামে একটি সংগঠন।
গত সোমবার রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বিপরীতে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের পদ্মা নদীর চরে চরদখলকে কেন্দ্র করে গুলিবর্ষণের ঘটনায় দুজন নিহত ও দুজন আহত হন। পরদিন পদ্মা নদীতে আরেক ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, তিনিও এই সংঘর্ষে জড়িত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, নদীপাড়ের বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ, চাঁদা আদায় এবং চরের জমি দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই সংঘবদ্ধভাবে কাজ করছে এ চক্র। অভিযোগ রয়েছে, তারা মাঝনদীতে বালু উত্তোলনের নৌযান আটকে চাঁদা দাবি করে।
রাজশাহীর বাঘা, নাটোরের লালপুর, পাবনার ঈশ্বরদী, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও ভেড়ামারা — এই পাঁচ উপজেলার বিস্তীর্ণ চরে প্রায় এক যুগ ধরে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে চক্রটি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এই চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন এক ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষিত ব্যক্তি, যিনি দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে আছেন। বাহিনীর প্রায় ৪০ জন সদস্য রয়েছে বলে ধারণা। তাদের মধ্যে ৮ থেকে ১০ জন সর্বদা সশস্ত্র অবস্থায় থাকে।
বালুমহাল দখল ও চাঁদাবাজির ঘটনায় এর আগে একাধিক অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও নৌ-পুলিশ। এসব অভিযানে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধার হলেও মূল হোতা এখনও অধরা।
আজ ৯ অক্টোবর (রোববার) সকালে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে যৌথ বাহিনী পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে কাকন বাহিনীর সদস্যদের ধরতে বৃহৎ অভিযান পরিচালনা করছে। সেনাবাহিনী, র্যাব, নৌ-পুলিশ ও জেলা পুলিশের সদস্যরা এতে অংশ নিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযান চলমান রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নদীপারের বিভিন্ন প্রবেশপথে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, “বালুমহাল ও চাঁদাবাজি সংক্রান্ত বেশ কিছু মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পদ্মা নদীর চরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজশাহী ও খুলনা রেঞ্জের মধ্যে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) খন্দকার মো. শামীম হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, “সংশ্লিষ্ট জেলার এসপিরা বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। চরের নিরাপত্তা ও মানুষের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে।”
স্থানীয়রা জানান, পদ্মার চরে কৃষক, মাঝি ও বালু ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত ভয়ভীতির মধ্যে থাকছেন। সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধ না হলে এ অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।














