মিছিলের জন্য অর্থ সরবরাহকারীদের খুঁজছে পুলিশ
টাকার বিনিময়ে ঝটিকা মিছিল: নগরীর অস্থিরতার নেপথ্যে কে দিচ্ছে অর্থ?
- আপডেট সময় : ০৬:৪৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
- / ৫৯৭ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীতে সাম্প্রতিককালে অনুষ্ঠিত হওয়া ঝটিকা মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের নগদ অর্থ দেওয়া হচ্ছে—পাঁচ হাজার টাকা স্মরণীয়ভাবে মিছিলে অংশগ্রহণ করলে, ব্যানার-dhara করলে আট হাজার—এমন তথ্য জানায় গ্রেপ্তার হওয়া কর্মীরা। ছোটখাট হলেও সময়োপযোগী এই অর্থবরাদ্ধক কার্যক্রম শহরে অস্থিরতা এবং জনদুর্ভোগ বাড়াচ্ছে বলে পুলিশ ও বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়েছেন।
পুুলিস জানায়, গত ১০ মাসে রাজধানীতে এসব ঝটিকা মিছিল থেকে অন্তত ৩৫০০’র কাছে নেতাকর্মী গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ও সাক্ষ্য অনুযায়ী মিছিলকারীদের উদ্দেশ্যমূলকভাবে নগদ অর্থ নিয়ে আসা হচ্ছে এবং কিছু ক্ষেত্রে সরকারি-নির্ধারিত পরিবেশে অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ ও বাস লক্ষ্য করে ইটপাটকেল আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ এসব ঘটনা নাশকতার কাতারে দেখছে এবং বলছে, মিছিলগুলো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি।
ডিএমপি ডিসি (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, “জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা এবং শহরে আইন-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করা—এসব কর্মকাণ্ডের ঠিকঠাকভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। যারা অর্থ দিয়ে মিছিল পরিচালনা করছে তাদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।” তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের জবানবন্দি অনুযায়ী আর্থিক লেনদেনের কোনো সূত্র ধরা পড়লে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিরাপত্তা ও সমাজ বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, পাইকারি মূল্যে লোকজোগ করে আয়োজিত এসব ঝটিকা মিছিল বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতায় রূপ নিতে পারে—বিশেষ করে নির্বাচনী সময়ে জনমনে ভীতি সৃষ্টির জন্য। সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক মন্তব্য করেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার করতে পারে, কিন্তু ব্যাপক সরকারি তৎপরতা ও সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচারের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রতিক্রিয়া না থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে।”
২০১৪ সালের পর থেকেই রাজধানীতে হঠাৎ করে সংগঠিত হওয়া ঝটিকা মিছিল ও অনানুষ্ঠানিক বিক্ষোভ দেখা গেছে—আর ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক ঘটনাবলির পর অনুমতিহীন কোনো সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলেও তাৎক্ষণিকভাবে সামাজিক অস্থিরতা কমেনি। বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু গ্রেপ্তার নয়—আর্থিক জাল, উপদেষ্টাদের চেনা, এবং অনুপ্রেরণাদাতাদের চিহ্নিত করে কোর্টের নির্দেশক্রমে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াটাই স্থায়ী সমাধান।
পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ভিত্তিকেই তারা মিছিলের অর্থদাতাদের খুঁজছে; অপরদিকে প্রশাসনের কাছে দাবি উঠেছে—নির্বাচনের আগে জনমনে চাপ কমাতে তাহাদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হোক।



















