০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘গণভোট আগে, নির্বাচন পরে’—রাজশাহীতে আট দলের ঘোষণা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:২০:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৫৮০ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি ও এর ওপর গণভোট আয়োজনসহ পাঁচ দফা দাবিতে রাজশাহীতে বিভাগীয় সমাবেশ করেছে ইসলামপন্থি আট দল। রোববার দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে অংশ নেওয়া দলগুলো হলো— বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ, খেলাফত মজলিশ, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)।

পাঁচ দফা দাবি

১. জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে আদেশ জারি ও এর ওপর গণভোট আয়োজন,
২. আগামী জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি চালু,
৩. অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা,
৪. ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের’ সব জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা,
৫. ‘স্বৈরাচারের দোসর’ জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা।

জামায়াত নেতার বক্তব্য

সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “আট দলের ঐক্যে নতুন জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে অবশ্যই গণভোট দিতে হবে। সরকার একদিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।”
তিনি আরও বলেন, “জনগণ পরিবর্তন চায়, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের অবসান চায়। আমাদের ৮ দলের বার্তা জাগরণের বার্তা—নতুন বাংলাদেশের বার্তা।”

অন্য বক্তাদের বক্তব্য

জামায়াতের সিনিয়র নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, “আগামী সংসদ হবে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত। রাষ্ট্র পরিচালিত হবে কুরআনের আলোকে।”
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন্দ বলেন, “দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে ইসলামী দলগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।”

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, “একটি মহল সংস্কারকে বাধাগ্রস্ত করে স্বৈরাচারী ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে চায়।”
জাগপার সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান বলেন, “একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন ইতিহাসে নজিরবিহীন। এটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা।”

নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল মাজেদ আতহারি বলেন, “গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।”
বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান বলেন, “গণভোটে জনগণ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দেবে। ইসলামের পক্ষে ভোটই হবে জনগণের ভোট।”

সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, “এই দেশ কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের নয়, ১৮ কোটি মানুষের দেশ। নির্বাচনের আগে গণভোট হতে হবে, গণহত্যার বিচার করতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাতে হবে।”

সভায় রাজশাহী মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ও সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ইমাজ উদ্দিন মন্ডল এবং মুফতি ইমরান যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন।

এসময় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি শেখ মো. নুরুন্নবী, খেলাফত মজলিশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মো. সালাউদ্দিন, জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগর আমির ড. মাওলানা কেরামত আলী, নায়েবে আমির ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক রাকসু ভিপি ও ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদসহ আট দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

‘গণভোট আগে, নির্বাচন পরে’—রাজশাহীতে আট দলের ঘোষণা

আপডেট সময় : ০৪:২০:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি ও এর ওপর গণভোট আয়োজনসহ পাঁচ দফা দাবিতে রাজশাহীতে বিভাগীয় সমাবেশ করেছে ইসলামপন্থি আট দল। রোববার দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে অংশ নেওয়া দলগুলো হলো— বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ, খেলাফত মজলিশ, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)।

পাঁচ দফা দাবি

১. জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে আদেশ জারি ও এর ওপর গণভোট আয়োজন,
২. আগামী জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি চালু,
৩. অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা,
৪. ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের’ সব জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা,
৫. ‘স্বৈরাচারের দোসর’ জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা।

জামায়াত নেতার বক্তব্য

সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “আট দলের ঐক্যে নতুন জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে অবশ্যই গণভোট দিতে হবে। সরকার একদিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।”
তিনি আরও বলেন, “জনগণ পরিবর্তন চায়, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের অবসান চায়। আমাদের ৮ দলের বার্তা জাগরণের বার্তা—নতুন বাংলাদেশের বার্তা।”

অন্য বক্তাদের বক্তব্য

জামায়াতের সিনিয়র নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, “আগামী সংসদ হবে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত। রাষ্ট্র পরিচালিত হবে কুরআনের আলোকে।”
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন্দ বলেন, “দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে ইসলামী দলগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।”

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, “একটি মহল সংস্কারকে বাধাগ্রস্ত করে স্বৈরাচারী ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে চায়।”
জাগপার সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান বলেন, “একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন ইতিহাসে নজিরবিহীন। এটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা।”

নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল মাজেদ আতহারি বলেন, “গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।”
বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান বলেন, “গণভোটে জনগণ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দেবে। ইসলামের পক্ষে ভোটই হবে জনগণের ভোট।”

সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, “এই দেশ কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের নয়, ১৮ কোটি মানুষের দেশ। নির্বাচনের আগে গণভোট হতে হবে, গণহত্যার বিচার করতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাতে হবে।”

সভায় রাজশাহী মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ও সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ইমাজ উদ্দিন মন্ডল এবং মুফতি ইমরান যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন।

এসময় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি শেখ মো. নুরুন্নবী, খেলাফত মজলিশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মো. সালাউদ্দিন, জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগর আমির ড. মাওলানা কেরামত আলী, নায়েবে আমির ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক রাকসু ভিপি ও ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদসহ আট দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।