গণমাধ্যমের ওপর সন্ত্রাসী আচরণ: রাজশাহীতে এনসিপি নেতাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড
- আপডেট সময় : ০৫:৩১:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ৬২৩ বার পড়া হয়েছে
রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীতে জাতীয় রাজনৈতিক দল এনসিপি–এর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের আটকে রাখা, অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ, সংবাদ সংগ্রহে বাধা ও হেনস্তার হুমকির ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার বিকেলে রাজশাহী পর্যটন মোটেলে এনসিপির সদ্য ঘোষিত জেলা কমিটির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম আহুত ওই সংবাদ সম্মেলনে এ ঘটনা ঘটে।
চোখের পলকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যখন এনসিপির শোয়েব আহমেদ ও মেহেদী হাসান ফারাবিসহ কয়েকজন ব্যক্তি সম্মেলন কক্ষে ঢুকে সাংবাদিকদের উদ্দেশে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। উপস্থিত সংবাদকর্মীরা প্রতিবাদ জানালে তাদের কক্ষের দরজা বন্ধ করে তালাবদ্ধ করার হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনার সময় সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় কঠোর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজশাহী টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (আরটিজেএ) এবং বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ) রাজশাহী শাখা। সংগঠন দুটি পৃথক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর প্রকাশ্য হামলা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় সরাসরি হস্তক্ষেপ বলে অভিহিত করেছে।
আরটিজেএর আহ্বায়ক মেহেদী হাসান শ্যামল ও সদস্য সচিব আব্দুল জাবিদ অপু এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, এ ধরনের আচরণ ফ্যাসিবাদী মানসিকতার নগ্ন প্রকাশ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় গঠিত একটি দলের কর্মীদের কাছ থেকে এমন সন্ত্রাসী আচরণ লজ্জাজনক। এনসিপির ঘোষিত ‘নতুন বাংলাদেশে স্বাধীন গণমাধ্যম’ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতির সঙ্গে এর কোনো সামঞ্জস্য নেই।”
তারা অবিলম্বে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, বিপিজেএ সভাপতি শরিফুল ইসলাম তোতা ও সাধারণ সম্পাদক সামাদ খান স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, বৈধ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের হেনস্তা করা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী ও ভয়াবহ নজির। এমন কর্মকাণ্ড গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হুমকি তৈরি করে।
বিপিজেএ নেতারা ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে উদাহরণযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত শোয়েব আহমেদের অতীতেও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি রাজশাহী শহরের আসাম কলোনি এলাকায় দুই নারীকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন করার ঘটনায় জড়িত ছিলেন; সেই ঘটনায় মামলা হলেও তিনি আসামির তালিকায় ছিলেন না। এছাড়া ট্রেনে পাথর ছোঁড়ার অপরাধে ভিডিও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
আজ সেই ব্যক্তি সাংবাদিকদের তালাবদ্ধ করার হুমকি দিয়েছেন—যা রাজশাহীর সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।














