০৫:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মোহনপুরে পুকুর খননে বাধা দেওয়ায় ভেকুর নিচে ফেলে যুবককে হত্যা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:২৭:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১২৯৮ বার পড়া হয়েছে

মোহনপুর প্রতিনিধি : রাজশাহীর মোহনপুরে পুকুর খননে বাধা দেওয়ায় ভেকুর নিচে ফেলে জুবায়ের (২৫) নামের এক যুবককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার ধুরইল ইউনিয়নের বড় পালশা গ্রামের বিলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত জুবায়ের ওই গ্রামের রফিজের ছেলে। তিনি কৃষি কাজ করে জীবন নির্বাহ করতেন। কিছুদিন আগে তিনি বিয়ে করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বড় পালশা গ্রামের আব্দুল মজিদ ওরফে মন্জিলের ছেলে আনিসুজ্জামান রহমান বকুল, মুনতাজ হাজির ছেলে রুহুল ও রুবেলের নেতৃত্বে পুকুর খননের জন্য ভেকু মেশিন দিয়ে কাজ চলছিল। এসময় কৃষিজমি রক্ষায় স্থানীয়রা বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা ভেকু চালককে উদ্দেশ্য করে বলেন, “ওদের পিষে দে।” এরপর ভেকুর নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন জুবায়ের। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছে, এ ঘটনায় ভীমনগর গ্রামের বকুল, রুহুল ও রুবেল পুকুরটি খনন করছিলেন মোহনপুর উপজেলার প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যাক্তি। তবে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিরাপত্তায় সেসব প্রভাবশালীর নাম প্রকাশ করেনি নিহতের পরিবার।

সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, নিহতের পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তড়িঘড়ি করে জুবায়েরের লাশ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার খবর পেয়ে মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহিমা বিনতে আখতার ও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মঈনুদ্দীন ঘটনাস্থল ও নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করেছেন।

ইউএনও ফাহিমা বিনতে আখতার বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত ভেকু ড্রাইভারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।”


ওসি মঈনুদ্দীন জানান, “নিহতের পরিবার শোকে ভেঙে পড়েছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য থানায় আনার চেষ্টা চলছে। আটক ভেকু চালকের নাম মো. আব্দুল হামিদ (২৮)। এঘটনায় থানায় হত্যা মামলা রজু হবে বলে জানান ওসি।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের পরিবার দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

উল্লেখ্য: উপজেলার জাহানাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বিরহী বিলে প্রায় ১০ বিঘা, একই ইউনিয়নের মতিহার বিলে সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ভুট্টু প্রায় ১৪ বিঘা, বাকশিমইল ইউনিয়নের স্থানীয় ব্যক্তি হেলাল উদ্দিন ভেটুপাড়া বিলে ৬ বিঘা কৃষিজমি কেটে পুকুর তৈরি করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব কাজের ফলে এলাকার আবাদি জমি ধ্বংস হচ্ছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাচ্ছে এবং কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এলাকার সচেতন মহল ও কৃষক সমাজ বলছেন, “যেভাবে পুকুর খনন চলছে, তাতে কয়েক বছরের মধ্যে মোহনপুরের ফসলি জমি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। প্রশাসনের কঠোর অভিযান ছাড়া এই অনিয়ম থামানো সম্ভব নয়।” তারা জরুরি ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও ভেকু মেশিন জব্দের দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মোহনপুরে পুকুর খননে বাধা দেওয়ায় ভেকুর নিচে ফেলে যুবককে হত্যা

আপডেট সময় : ০৫:২৭:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

মোহনপুর প্রতিনিধি : রাজশাহীর মোহনপুরে পুকুর খননে বাধা দেওয়ায় ভেকুর নিচে ফেলে জুবায়ের (২৫) নামের এক যুবককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার ধুরইল ইউনিয়নের বড় পালশা গ্রামের বিলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত জুবায়ের ওই গ্রামের রফিজের ছেলে। তিনি কৃষি কাজ করে জীবন নির্বাহ করতেন। কিছুদিন আগে তিনি বিয়ে করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বড় পালশা গ্রামের আব্দুল মজিদ ওরফে মন্জিলের ছেলে আনিসুজ্জামান রহমান বকুল, মুনতাজ হাজির ছেলে রুহুল ও রুবেলের নেতৃত্বে পুকুর খননের জন্য ভেকু মেশিন দিয়ে কাজ চলছিল। এসময় কৃষিজমি রক্ষায় স্থানীয়রা বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা ভেকু চালককে উদ্দেশ্য করে বলেন, “ওদের পিষে দে।” এরপর ভেকুর নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন জুবায়ের। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছে, এ ঘটনায় ভীমনগর গ্রামের বকুল, রুহুল ও রুবেল পুকুরটি খনন করছিলেন মোহনপুর উপজেলার প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যাক্তি। তবে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিরাপত্তায় সেসব প্রভাবশালীর নাম প্রকাশ করেনি নিহতের পরিবার।

সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, নিহতের পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তড়িঘড়ি করে জুবায়েরের লাশ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার খবর পেয়ে মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহিমা বিনতে আখতার ও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মঈনুদ্দীন ঘটনাস্থল ও নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করেছেন।

ইউএনও ফাহিমা বিনতে আখতার বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত ভেকু ড্রাইভারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।”


ওসি মঈনুদ্দীন জানান, “নিহতের পরিবার শোকে ভেঙে পড়েছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য থানায় আনার চেষ্টা চলছে। আটক ভেকু চালকের নাম মো. আব্দুল হামিদ (২৮)। এঘটনায় থানায় হত্যা মামলা রজু হবে বলে জানান ওসি।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের পরিবার দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

উল্লেখ্য: উপজেলার জাহানাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বিরহী বিলে প্রায় ১০ বিঘা, একই ইউনিয়নের মতিহার বিলে সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ভুট্টু প্রায় ১৪ বিঘা, বাকশিমইল ইউনিয়নের স্থানীয় ব্যক্তি হেলাল উদ্দিন ভেটুপাড়া বিলে ৬ বিঘা কৃষিজমি কেটে পুকুর তৈরি করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব কাজের ফলে এলাকার আবাদি জমি ধ্বংস হচ্ছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাচ্ছে এবং কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এলাকার সচেতন মহল ও কৃষক সমাজ বলছেন, “যেভাবে পুকুর খনন চলছে, তাতে কয়েক বছরের মধ্যে মোহনপুরের ফসলি জমি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। প্রশাসনের কঠোর অভিযান ছাড়া এই অনিয়ম থামানো সম্ভব নয়।” তারা জরুরি ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও ভেকু মেশিন জব্দের দাবি জানিয়েছেন।