জাতীয় শোক উপেক্ষা করে কাজ ও পিকনিক—আশা এনজিওর বিরুদ্ধে
- আপডেট সময় : ০১:৫৭:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ৫৯৪ বার পড়া হয়েছে
রাজশাহী প্রতিনিধি: বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বুধবার থেকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূস মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে এ ঘোষণা দেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি সব অফিস বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
তবে রাজশাহীতে দেশের অন্যতম বৃহৎ ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান আশা (ASA) সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বুধবার স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, নগরীর কিছু শাখায় কর্মীদের নিয়ে পিকনিকের আয়োজনের ঘটনাও জানা গেছে।
রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়া ও অন্যান্য শাখায় সরেজমিন দেখা যায়, অফিসের দরজা বন্ধ রেখে ভেতরে কর্মকর্তা- কর্মচারীরা কাজ করছেন। পতাকা অর্ধনমিত রাখার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও কোথাও জাতীয় পতাকা বা কালো পতাকা উত্তোলনের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
বোয়ালিয়া শাখার ম্যানেজার রাশেদুল ইসলামকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “এ ধরনের নির্দেশনা আমার জানা নেই।” পরে পিয়নকে ডেকে পতাকা উত্তোলনের নির্দেশ দেন তিনি।
রাজশাহীর ডিভিশনাল ম্যানেজার মো. রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, “আজ বছরের শেষ দিন, হিসাব-নিকাশের কাজ চলছে। কেউ হয়তো নিজের উদ্যোগে অফিসে এসেছে।” তবে সরকারি ছুটি ঘোষণার পরও অফিস খোলা রাখার বিষয়ে তিনি কোনো পরিষ্কার জবাব না দিয়ে ফোন কেটে দেন।
জেলা ম্যানেজার (ডিএম) লতিফ হোসেন বলেন, “আমাদের হেড অফিস থেকে ছুটির নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তবে কিছু কর্মী হয়তো নিজেরা হিসাবের কাজ সারছে।” একই বক্তব্য দেন এরিয়া ম্যানেজার মিজানুর রহমান।
অন্যদিকে, নগরীর লক্ষীপুর শাখায় পিকনিক আয়োজনের অভিযোগ পাওয়া গেলে পুলিশ সেখানে টহল দেয়। রাজপাড়া থানার ওসি মো. আব্দুল মতিন বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত কর্মীরা পরে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।”
রাজশাহী জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন, “রাষ্ট্রীয় শোক ও সরকারি ছুটির দিনে আশা এনজিওর কার্যক্রম চালু রাখা সরকারের নির্দেশ অমাননার শামিল। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
এ বিষয়ে রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সবুর আলী বলেন, “সরকারি নির্দেশনা অমান্য করলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সরকারি আদেশ অমান্য করে শোক দিবসে অফিস কার্যক্রম ও আনন্দ আয়োজনের ঘটনায় রাজশাহীতে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।










