০১:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্বজনপ্রীতি ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে মোহনপুর মাদ্রাসায় পরীক্ষা স্থগিত

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪১:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৬১২ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার মহব্বতপুর দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় দুইটি পদে নিয়োগ পরীক্ষা শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মাদ্রাসার সভাপতি ও স্থানীয় বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম তার স্ত্রীকে নিয়োগ দিতে প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ নানা অনিয়মের ছক করেছিলেন।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি দুইটি শূন্য পদে নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে প্রায় ৩০ জন প্রার্থী আবেদন করেন। যাচাই-বাছাই শেষে লিখিত পরীক্ষার জন্য ৩ জানুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করা হয় এবং প্রার্থীদের প্রবেশপত্র প্রদান করা হয়।

তবে শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে পরীক্ষার আগে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, সভাপতির স্ত্রীর জন্য নিয়োগ আগে থেকেই ঠিক করা হয়েছে। এই খবর শুনে অধিকাংশ প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানান। নির্ধারিত দিনে মাত্র ৫ জন প্রার্থী উপস্থিত হন, ফলে প্রার্থী সংকটে পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সভাপতি সাইফুল ইসলাম তার আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমেও আবেদন করিয়েছিলেন, কিন্তু তারাও পরীক্ষায় অংশ নেননি। কারণ, নিয়োগ প্রক্রিয়া ‘নির্ধারিত’ হয়ে গেছে—এমন খবর এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

মাদ্রাসার সুপারিন্টেনডেন্ট মকসেদ আলী বলেন,“নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষিতে ৩০ জন আবেদন করেছিলেন। কিন্তু পরীক্ষার দিন প্রার্থীরা অভিযোগ করেন যে সভাপতি সাইফুল ইসলামের স্ত্রী ও শামীম নামে এক আবেদনকারীকে আগে থেকেই সিলেক্ট করা হয়েছে। তাই তারা পরীক্ষায় অংশ নেননি। ফলে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষায় সভাপতির কোনো সম্পৃক্ততা থাকবে না। ভাইভা বোর্ডে আমি ও সভাপতি—দুজনেই থাকব না।”

অন্যদিকে, মিজান নামের এক আবেদনকারী অভিযোগ করে বলেন, “আমরা পরীক্ষা দিতে গিয়ে জানতে পারি, সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও প্রিন্সিপাল মকসেদ আলী আগে থেকেই দুই প্রার্থীর কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়ে তাদের নিয়োগের চুক্তি করেছেন। আমরা বিষয়টি বুঝে পরীক্ষা দিইনি এবং ইউএনও স্যারকে ফোনে বিষয়টি জানাই। আমরা চাই স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ হোক।”

আরেক আবেদনকারী হাবিব জানান,
“আমি বিষয়টি জানিয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।”

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এটি হতে পারে আরও একটি চালাকি বা কৌশল, যাতে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বৈধ দেখিয়ে অনিয়ম আড়াল করার চেষ্টা করা হয়।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন তারিখ নির্ধারণ সাপেক্ষে নিয়োগ পরীক্ষা পুনরায় নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

স্বজনপ্রীতি ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে মোহনপুর মাদ্রাসায় পরীক্ষা স্থগিত

আপডেট সময় : ০৪:৪১:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার মহব্বতপুর দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় দুইটি পদে নিয়োগ পরীক্ষা শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মাদ্রাসার সভাপতি ও স্থানীয় বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম তার স্ত্রীকে নিয়োগ দিতে প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ নানা অনিয়মের ছক করেছিলেন।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি দুইটি শূন্য পদে নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে প্রায় ৩০ জন প্রার্থী আবেদন করেন। যাচাই-বাছাই শেষে লিখিত পরীক্ষার জন্য ৩ জানুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করা হয় এবং প্রার্থীদের প্রবেশপত্র প্রদান করা হয়।

তবে শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে পরীক্ষার আগে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, সভাপতির স্ত্রীর জন্য নিয়োগ আগে থেকেই ঠিক করা হয়েছে। এই খবর শুনে অধিকাংশ প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানান। নির্ধারিত দিনে মাত্র ৫ জন প্রার্থী উপস্থিত হন, ফলে প্রার্থী সংকটে পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সভাপতি সাইফুল ইসলাম তার আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমেও আবেদন করিয়েছিলেন, কিন্তু তারাও পরীক্ষায় অংশ নেননি। কারণ, নিয়োগ প্রক্রিয়া ‘নির্ধারিত’ হয়ে গেছে—এমন খবর এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

মাদ্রাসার সুপারিন্টেনডেন্ট মকসেদ আলী বলেন,“নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষিতে ৩০ জন আবেদন করেছিলেন। কিন্তু পরীক্ষার দিন প্রার্থীরা অভিযোগ করেন যে সভাপতি সাইফুল ইসলামের স্ত্রী ও শামীম নামে এক আবেদনকারীকে আগে থেকেই সিলেক্ট করা হয়েছে। তাই তারা পরীক্ষায় অংশ নেননি। ফলে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষায় সভাপতির কোনো সম্পৃক্ততা থাকবে না। ভাইভা বোর্ডে আমি ও সভাপতি—দুজনেই থাকব না।”

অন্যদিকে, মিজান নামের এক আবেদনকারী অভিযোগ করে বলেন, “আমরা পরীক্ষা দিতে গিয়ে জানতে পারি, সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও প্রিন্সিপাল মকসেদ আলী আগে থেকেই দুই প্রার্থীর কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়ে তাদের নিয়োগের চুক্তি করেছেন। আমরা বিষয়টি বুঝে পরীক্ষা দিইনি এবং ইউএনও স্যারকে ফোনে বিষয়টি জানাই। আমরা চাই স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ হোক।”

আরেক আবেদনকারী হাবিব জানান,
“আমি বিষয়টি জানিয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।”

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এটি হতে পারে আরও একটি চালাকি বা কৌশল, যাতে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বৈধ দেখিয়ে অনিয়ম আড়াল করার চেষ্টা করা হয়।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন তারিখ নির্ধারণ সাপেক্ষে নিয়োগ পরীক্ষা পুনরায় নেওয়া হবে।