০৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজনীতিতে আবারো বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু কৃষকলীগ নেত্রী শেখ হাবিবা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:১২:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৫৭০ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলা কৃষক লীগের সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছাঃ হাবিবা বেগম ওরফে শেখ হাবিবা আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায়।

পুলিশ সদস্যকে মারধর ও কামড় দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার, সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে অসদাচরণ এবং দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গসহ নানা ঘটনায় আলোচিত এই নারী নেত্রী এবার হাইকোর্টের নির্দেশে রাজশাহী–৩ (পবা–মোহনপুর) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হয়েছেন।

২৭ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) রাজশাহী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আকতার তাকে ফুটবল প্রতীক বরাদ্দ দেন। আদালতের নির্দেশে তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা পাওয়ার পর স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়—একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে ঘিরে পুনরায় নির্বাচনী মাঠে উত্তাপ ছড়িয়েছে।

হাবিবা বেগম ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নের সিংহমারা গ্রামের বাসিন্দা ও মাসুদ রানার স্ত্রী। তিনি একসময় ঘাসিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী আসনের ইউপি সদস্য ছিলেন এবং পরে মোহনপুর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

তবে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে বিতর্কের ছায়া দীর্ঘদিনের। ২০২৩ সালে পুলিশ সদস্যের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় তিনি আলোচনায় আসেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তুচ্ছ ঘটনায় তিনি কর্তব্যরত এক পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা চালান এবং কামড় দেন—পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ওই ঘটনায় মামলা হলেও পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি জামিনে মুক্ত হন।

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা পরিষদের দায়িত্বে থাকাকালে তিনি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও দলীয় পদ ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করেছেন। আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা একাধিকবার তাঁর বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ তুলেছিলেন।
দলীয় রাজনীতিতেও তাঁর অবস্থান ছিল বিতর্কিত। তিনি রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি আসাদুজ্জামান আসাদের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের দাবি, এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্কই তাঁকে বারবার বিতর্ক থেকে রক্ষা করেছে।

স্থানীয় এক আওয়ামীলীগ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “হাবিবা বেগম দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন। তবুও কিছু প্রভাবশালী মহলের কারণে তাঁকে কেউ কিছু বলতে সাহস পায় না।”

নির্বাচনী মাঠে ফিরে আসায় এখন প্রশ্ন উঠেছে—বিতর্ক ও অভিযোগে জর্জরিত একজন ব্যক্তিকে ঘিরে জনগণের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে। অনেকেই বলছেন, হাইকোর্টের নির্দেশে তিনি প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পেলেও জনমতের আদালতে এই বিতর্ক তাঁর জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাজনীতিতে আবারো বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু কৃষকলীগ নেত্রী শেখ হাবিবা

আপডেট সময় : ১২:১২:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলা কৃষক লীগের সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছাঃ হাবিবা বেগম ওরফে শেখ হাবিবা আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায়।

পুলিশ সদস্যকে মারধর ও কামড় দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার, সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে অসদাচরণ এবং দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গসহ নানা ঘটনায় আলোচিত এই নারী নেত্রী এবার হাইকোর্টের নির্দেশে রাজশাহী–৩ (পবা–মোহনপুর) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হয়েছেন।

২৭ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) রাজশাহী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আকতার তাকে ফুটবল প্রতীক বরাদ্দ দেন। আদালতের নির্দেশে তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা পাওয়ার পর স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়—একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে ঘিরে পুনরায় নির্বাচনী মাঠে উত্তাপ ছড়িয়েছে।

হাবিবা বেগম ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নের সিংহমারা গ্রামের বাসিন্দা ও মাসুদ রানার স্ত্রী। তিনি একসময় ঘাসিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী আসনের ইউপি সদস্য ছিলেন এবং পরে মোহনপুর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

তবে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে বিতর্কের ছায়া দীর্ঘদিনের। ২০২৩ সালে পুলিশ সদস্যের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় তিনি আলোচনায় আসেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তুচ্ছ ঘটনায় তিনি কর্তব্যরত এক পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা চালান এবং কামড় দেন—পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ওই ঘটনায় মামলা হলেও পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি জামিনে মুক্ত হন।

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা পরিষদের দায়িত্বে থাকাকালে তিনি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও দলীয় পদ ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করেছেন। আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা একাধিকবার তাঁর বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ তুলেছিলেন।
দলীয় রাজনীতিতেও তাঁর অবস্থান ছিল বিতর্কিত। তিনি রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি আসাদুজ্জামান আসাদের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের দাবি, এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্কই তাঁকে বারবার বিতর্ক থেকে রক্ষা করেছে।

স্থানীয় এক আওয়ামীলীগ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “হাবিবা বেগম দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন। তবুও কিছু প্রভাবশালী মহলের কারণে তাঁকে কেউ কিছু বলতে সাহস পায় না।”

নির্বাচনী মাঠে ফিরে আসায় এখন প্রশ্ন উঠেছে—বিতর্ক ও অভিযোগে জর্জরিত একজন ব্যক্তিকে ঘিরে জনগণের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে। অনেকেই বলছেন, হাইকোর্টের নির্দেশে তিনি প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পেলেও জনমতের আদালতে এই বিতর্ক তাঁর জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।