রাজশাহীতে তারেক রহমানের আগমন ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ
- আপডেট সময় : ০৬:৫৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৫৪৯ বার পড়া হয়েছে
বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রাজশাহী এবার নতুন করে সরগরম হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আসছেন পদ্মাপাড়ের এই শহরে। শুধু দলীয় নেতাকর্মীরাই নয়, সাধারণ মানুষও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন—রাজশাহীকে তিনি কী উন্নয়ন উপহার দিতে যাচ্ছেন তা শোনার জন্য।
দলীয় সূত্র জানায়, তারেক রহমান দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহীতে পৌঁছাবেন। এরপর হজরত শাহ মখদুম রূপোষ (রহ.) মাজার জিয়ারত করবেন দুপুর দেড়টার সময়। দুপুর দুইটায় ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে ভাষণ দেবেন তিনি। পরে বিকেলে নওগাঁর উদ্দেশে রওনা হয়ে সেখানে কাজির মোড়ে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় আরেকটি জনসভায় অংশ নেবেন। এরপর বগুড়ায় তাঁর পরবর্তী কর্মসূচি রয়েছে।
রাজশাহীর এই জনসভায় তিন জেলার—রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১৩টি আসনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেবেন বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। তাদের আশা, লাখো মানুষের উপস্থিতিতে এটি রাজশাহীর রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন মাইলফলক তৈরি করবে।
দলীয় প্রধানের আগমন ঘিরে রাজশাহী মহানগরসহ আশপাশের জেলাগুলোতে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। শহরজুড়ে সাজসজ্জা চলছে, ব্যানার–ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে রাজশাহী। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রিয় নেতাকে বরণ করতে শহরজুড়ে চলছে প্রস্তুতির ব্যস্ততা।
বিএনপির সাবেক মেয়র ও রাজশাহী–২ আসনের প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, “রাজশাহীর এই জনসভা হবে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ সমাবেশ। শহরের প্রতিটি সড়ক জনস্রোতে পূর্ণ হয়ে যাবে।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় দেশের মানুষ এখন তারেক রহমানের নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে আছে। তিনি ইতোমধ্যে ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ ঘোষণা দিয়েছেন, যেখানে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকে নতুন বাংলাদেশের উন্নয়ন রূপরেখা তুলে ধরেছেন।”
মিনু জানান, তারেক রহমান রাজশাহীতে কৃষক, তরুণ, নারী ও বয়োজ্যেষ্ঠদের কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। এর মধ্যে রয়েছে মায়েদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’, প্রবীণদের জন্য ‘হেলথ কার্ড’, কৃষকদের ‘কৃষি কার্ড’, তরুণদের আইটি প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ, রাজশাহীতে বিশেষায়িত ইপিজেড স্থাপন এবং ঐতিহ্যবাহী রেশম শিল্প পুনরুজ্জীবন।
তিনি অভিযোগ করেন, “গত ১৭ বছরে রাজশাহী উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। মেগা প্রকল্পের নামে দুর্নীতি হয়েছে। বিএনপি জনগণকেন্দ্রিক টেকসই উন্নয়নেই বিশ্বাস করে।”
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুন জানান, “তারেক রহমানের আগমনে দলের নেতাকর্মীরা নতুন করে উদ্দীপ্ত হয়েছেন। কয়েক লাখ মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।”
ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে ৮০ ফুট লম্বা ও ২৪ ফুট চওড়া মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। শক্তিশালী সাউন্ড সিস্টেম, বড় পর্দা, আলোকসজ্জা এবং সারিবদ্ধভাবে চেয়ার বসানো হয়েছে। পুরো এলাকাজুড়ে চলছে নিরাপত্তা জোরদার কার্যক্রম—ডগ স্কোয়াড, ড্রোন নজরদারি ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০০৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমান রাজশাহী জেলা স্টেডিয়ামে তৃণমূল প্রতিনিধি সভায় অংশ নিয়েছিলেন। প্রায় দুই দশক পর তাঁর এই সফর রাজশাহীর রাজনীতিতে নতুন প্রত্যাশা ও নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।















