রাত ২টা পর্যন্ত ২২৬টি আসনের বেসরকারি ফলাফল
গণভোটে উৎসব, নির্বাচনে চমক বিএনপি জোট ১৫৮ জামায়াতে ইসলামী ৬৩ স্বতন্ত্র ৫
- আপডেট সময় : ০৮:৪৫:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ৫১৫ বার পড়া হয়েছে
এশিয়ান ভয়েস ২৪ ডেস্ক: দেশজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হলো বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এবারই প্রথমবারের মতো এই নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছে গণভোট। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় দেশের ২৯৯টি আসনে। দিনভর শান্তিপূর্ণ ভোট শেষে এখন চলছে ভোটগণনা পর্ব। রাত ২টা পর্যন্ত ২২৬টি আসনের বেসরকারি ফলাফল এসেছে হাতে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৫৮টি আসনে বিজয়ী হয়েছে বিএনপি ও তাদের জোটের প্রার্থীরা, ৬৩টি আসনে জয়ী হয়েছে জামায়াতে ইসলামী, আর ৫টি আসনে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দলীয় প্রার্থীরা।
বড় দলগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বের বিপুল জয় রাজধানীর ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
অন্যদিকে, ঢাকা-১৫ আসনে জয় পেয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, যিনি ৮২,৬৪৫ ভোটে এগিয়ে থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।
ঢাকা-৮ আসনে বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস পেয়েছেন ৫৭,০৯২ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পেয়েছেন ৫১,৩৯৬ ভোট।
ঢাকা-১৩ আসনে বিএনপির ববি হাজ্জাজ হারিয়েছেন মাওলানা মামুনুল হককে — ৯০,৬০১ বনাম ৮৬,৮৮৯ ভোটে।
উত্তরাঞ্চলে বিএনপি’র দাপট
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৮ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হয়েছেন। জয়পুরহাট-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে মো. আব্দুল বারী পেয়েছেন ১,৫৭,১২৮ ভোট, যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন ৯১,০১২ ভোট।
রংপুর-৪ আসনে (পীরগাছা–কাউনিয়া) ১,৪৭,৯৪৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী আখতার হোসেন (শাপলা কলি প্রতীক)।
দক্ষিণাঞ্চলে বিএনপি ও জামায়াতের শেয়ারড আধিপত্য
কক্সবাজার-১ (চকরিয়া–পেকুয়া) আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ পেয়েছেন ২,১৯,৭৫৮ ভোট—জামায়াত প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ফারুকের চেয়ে প্রায় ৯৪ হাজার ভোটে এগিয়ে।
পটুয়াখালী-৩ আসনে ট্রাক প্রতীকে গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নূর বিজয়ী হয়েছেন ৭৩,৯৩৪ ভোটে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে জোনায়েদ সাকি ৯৬,৩৪২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন, যেখানে জামায়াত প্রার্থী পেয়েছেন ৩৯,৯৬৭ ভোট।
বিএনপির হেভিওয়েটদের ধারাবাহিক জয়
সুনামগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের কামরুজ্জমান কামরুল জয়ী হয়েছেন ৭২,৫২৯ ভোটের ব্যবধানে। নেত্রকোনা-৪ আসনে বিপুল ব্যবধানে জয় পেয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, যিনি প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থীকে ১ লাখ ২১ হাজার ভোটে হারিয়েছেন। কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. ফজলুর রহমান পেয়েছেন ১,৩২,৩৫৩ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ৫৫,৬৪৬ ভোটে থেমে যান।
মুন্সীগঞ্জের তিন আসনেই বিএনপির জয়
মুন্সীগঞ্জ-১ এ আব্দুল্লাহ পেয়েছেন ১,৬৭,৫৬২ ভোট, মুন্সীগঞ্জ-২ এ আব্দুস সালাম আজাদ পেয়েছেন ১,২১,১৫৪ ভোট, আর মুন্সীগঞ্জ-৩ এ কামরুজ্জামান পেয়েছেন ১,২৪,৬৯১ ভোট — তিন আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় ব্যাপক ব্যবধানে জয়ী।
জামায়াতের শক্ত ঘাঁটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে
মেহেরপুর-১ আসনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী তাজউদ্দীন খান ১,২২,৮২৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, আর মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনে নাজমুল হুদা পেয়েছেন ৯৪,১৬৮ ভোট—বিএনপি প্রার্থীকে হারিয়ে। কুড়িগ্রাম-৪ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মোস্তাফিজুর রহমান জয়ী হয়েছেন ২১ হাজার ভোটের ব্যবধানে।
নির্বাচন প্রেক্ষাপট
শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত থাকলেও বাকি ২৯৯টি আসনে অনুষ্ঠিত হয়েছে নির্বাচন। এবার মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৩ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পান, যার মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ এবং নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ। মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ২,০২৮ জন প্রার্থী, যার মধ্যে ১,৭৫৫ জন দলীয় ও ২৭৩ জন স্বতন্ত্র।
এই নির্বাচনে এখন পর্যন্ত পাওয়া ফলাফলে স্পষ্ট—বিএনপি ও জামায়াত জোট দেশের রাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য তৈরি করেছে। ভোটারদের অংশগ্রহণ, গণভোটের উৎসব, ও বেসরকারি ফলাফলের ধারাবাহিকতা—সব মিলিয়ে এটি বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।
সুত্র: আরটিভি

















