স্ত্রীর নামে কোটি টাকার সম্পদ, দুদকের জালে এ এসপি মীর্জা সালাম
- আপডেট সময় : ০৪:১০:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ৫০৫ বার পড়া হয়েছে
রাজশাহী প্রতিনিধি: অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে রাজশাহীর গোদাগাড়ী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মীর্জা মো. আব্দুস সালাম ও তার স্ত্রী শাহানা পারভীনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে দুদকের রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
দুদক সূত্রে জানা যায়, শাহানা পারভীন ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে ২১ লাখ ৭৪ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য প্রদান করেন। কিন্তু অনুসন্ধানে তার নামে প্রায় ৯৫ লাখ ১৬ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের সন্ধান মেলে। অর্থাৎ, প্রায় ৭৩ লাখ ৪২ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করা হয়েছে বলে দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া শাহানা পারভীনের বৈধ আয় ৭ লাখ ১৪ হাজার টাকা হলেও পারিবারিক ব্যয়সহ মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২ লাখ ৮০ হাজার ৭৫০ টাকা। দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ৯৫ লাখ ৬৬ হাজার ৭৫০ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এএসপি মীর্জা মো. আব্দুস সালাম সরকারি চাকরির ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থে স্ত্রীর নামে সম্পদ গড়ে তুলতে সহায়তা করেছেন।
এ ঘটনায় দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, “তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এএসপি মীর্জা মো. আব্দুস সালাম বলেন, “আমাদের বৈধ আয় ও ট্যাক্স দেওয়া আছে। এগুলো আমার স্ত্রীর পারিবারিক সম্পত্তি। হয়রানি করতেই এই মামলা করা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত অবস্থায় এএসপি মীর্জা আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে অনিয়ম, আটক বাণিজ্য ও মাসিক মাসোহারা উত্তোলনের অভিযোগে গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।













