০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রাজশাহীবাসি পেল পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪৩:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৫০৯ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী প্রতিনিধি: মহান ভাষা আন্দোলনের প্রায় সাত দশক পর অবশেষে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার পেল রাজশাহীবাসী। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা এক মিনিটে শহিদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে নবনির্মিত রাজশাহী কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু।


নগরীর রাজারহাতা এলাকায় রাজশাহী জেলা পরিষদের উদ্যোগে প্রায় সাড়ে আট কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই শহিদ মিনার উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের একটি প্রত্যাশার অবসান ঘটেছে।

উদ্বোধনকালে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতারসহ প্রশাসন ও বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


উদ্বোধন শেষে মিনারটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এরপর রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষ শহিদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুল ও শ্রদ্ধায় ভরে ওঠে মিনার প্রাঙ্গণ; মুখর হয়ে ওঠে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানের সুরে।


রাজশাহীতে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার নির্মাণের দাবি ছিল বহুদিনের। ২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল এর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। জেলা পরিষদের মালিকানাধীন সরকারি সার্ভে ইনস্টিটিউট নওদাপাড়ায় স্থানান্তরিত হলে রাজারহাতায় খালি হওয়া প্রায় এক বিঘা জমি মিনার নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়।


তবে জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে মালিকানা ও বাস্তবায়নসংক্রান্ত জটিলতার কারণে কিছু সময় প্রকল্পের কাজ স্থবির হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে জেলা পরিষদের নিজস্ব অর্থায়নে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং অবশেষে তা সম্পন্ন হয়।
আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত রাজশাহী কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার এখন নগরবাসীর নতুন গৌরবের প্রতীক।


রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন, “মহান ভাষা আন্দোলন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এবং ভাষাসহ সকল শহিদদের স্মরণে এই শহিদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। রাজশাহীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি আজ পূরণ হয়েছে।”


দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রাজশাহী কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার উদ্বোধনে নগরবাসীর মাঝে দেখা যায় উচ্ছ্বাস ও গর্ব। তাঁদের প্রত্যাশা—এই মিনার কেবল শ্রদ্ধা নিবেদনের স্থান নয়, ভাষা আন্দোলনের চেতনা ধারণ ও আগামী প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রাজশাহীবাসি পেল পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার

আপডেট সময় : ১১:৪৩:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজশাহী প্রতিনিধি: মহান ভাষা আন্দোলনের প্রায় সাত দশক পর অবশেষে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার পেল রাজশাহীবাসী। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা এক মিনিটে শহিদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে নবনির্মিত রাজশাহী কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু।


নগরীর রাজারহাতা এলাকায় রাজশাহী জেলা পরিষদের উদ্যোগে প্রায় সাড়ে আট কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই শহিদ মিনার উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের একটি প্রত্যাশার অবসান ঘটেছে।

উদ্বোধনকালে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতারসহ প্রশাসন ও বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


উদ্বোধন শেষে মিনারটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এরপর রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষ শহিদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুল ও শ্রদ্ধায় ভরে ওঠে মিনার প্রাঙ্গণ; মুখর হয়ে ওঠে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানের সুরে।


রাজশাহীতে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার নির্মাণের দাবি ছিল বহুদিনের। ২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল এর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। জেলা পরিষদের মালিকানাধীন সরকারি সার্ভে ইনস্টিটিউট নওদাপাড়ায় স্থানান্তরিত হলে রাজারহাতায় খালি হওয়া প্রায় এক বিঘা জমি মিনার নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়।


তবে জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে মালিকানা ও বাস্তবায়নসংক্রান্ত জটিলতার কারণে কিছু সময় প্রকল্পের কাজ স্থবির হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে জেলা পরিষদের নিজস্ব অর্থায়নে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং অবশেষে তা সম্পন্ন হয়।
আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত রাজশাহী কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার এখন নগরবাসীর নতুন গৌরবের প্রতীক।


রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন, “মহান ভাষা আন্দোলন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এবং ভাষাসহ সকল শহিদদের স্মরণে এই শহিদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। রাজশাহীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি আজ পূরণ হয়েছে।”


দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রাজশাহী কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার উদ্বোধনে নগরবাসীর মাঝে দেখা যায় উচ্ছ্বাস ও গর্ব। তাঁদের প্রত্যাশা—এই মিনার কেবল শ্রদ্ধা নিবেদনের স্থান নয়, ভাষা আন্দোলনের চেতনা ধারণ ও আগামী প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে।