০২:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে বরেন্দ্র প্রেসক্লাব সভাপতির উপর হামলা গ্রেফতার ২

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩০:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
  • / ৫২৬ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহী নগরীর শিরোইল কাঁচা বাজার এলাকায় অবস্থিত বরেন্দ্র প্রেসক্লাবে হামলা, ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির মামলায় এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে রাজশাহী আদালত এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—নগরীর টিকাপাড়া এলাকার করিমের ছেলে ও মামলার ৩ নম্বর আসামি মিশাল (৩০) এবং বহরমপুর এলাকার মৃত মানিকের ছেলে ও মামলার ৫ নম্বর আসামি ইব্রাহিম (৪০)।


পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া মিশালের বিরুদ্ধে আগে থেকেই অস্ত্র আইনে মামলা রয়েছে। অপরদিকে ইব্রাহিম এলাকায় চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। গ্রেপ্তারের সময় উত্তেজিত জনতা ইব্রাহিমকে গণপিটুনি দেয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মামলার অপর অভিযুক্ত সাইদ আলী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।


মামলার বিবরণে জানা যায়, গত শনিবার (৭ মার্চ) রাত আটটার দিকে বরেন্দ্র প্রেসক্লাব কার্যালয়ে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম বাদী হয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন—নুরে ইসলাম মিলন (৪৫), সুরুজ আলী (৩০), সাইদ আলী (৩৮) ও রেন্টু (৩০)। এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে প্রেসক্লাব পরিচালনার নামে চার লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। এরই জেরে গত শনিবার রাতে দেশীয় অস্ত্র, চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে তারা প্রেসক্লাবে হামলা চালান।


এ সময় প্রধান অভিযুক্ত নুরে ইসলাম মিলন পিস্তল ঠেকিয়ে ক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সুরুজ আলী ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করলে তার উরুতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে ১৩টি সেলাই দেওয়া হয়।


হামলার সময় স্থানীয় সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ এগিয়ে এলে হামলাকারীরা একটি গাড়ি (কুমিল্লা-চ-৫১-০০২৮) ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং পরিত্যক্ত গাড়িটি জব্দ করে।


বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই বিভিন্ন অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


এদিকে সাংবাদিকদের ওপর এ হামলার ঘটনায় রাজশাহীর সাংবাদিক সমাজ তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাজশাহীতে বরেন্দ্র প্রেসক্লাব সভাপতির উপর হামলা গ্রেফতার ২

আপডেট সময় : ০১:৩০:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহী নগরীর শিরোইল কাঁচা বাজার এলাকায় অবস্থিত বরেন্দ্র প্রেসক্লাবে হামলা, ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির মামলায় এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে রাজশাহী আদালত এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—নগরীর টিকাপাড়া এলাকার করিমের ছেলে ও মামলার ৩ নম্বর আসামি মিশাল (৩০) এবং বহরমপুর এলাকার মৃত মানিকের ছেলে ও মামলার ৫ নম্বর আসামি ইব্রাহিম (৪০)।


পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া মিশালের বিরুদ্ধে আগে থেকেই অস্ত্র আইনে মামলা রয়েছে। অপরদিকে ইব্রাহিম এলাকায় চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। গ্রেপ্তারের সময় উত্তেজিত জনতা ইব্রাহিমকে গণপিটুনি দেয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মামলার অপর অভিযুক্ত সাইদ আলী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।


মামলার বিবরণে জানা যায়, গত শনিবার (৭ মার্চ) রাত আটটার দিকে বরেন্দ্র প্রেসক্লাব কার্যালয়ে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম বাদী হয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন—নুরে ইসলাম মিলন (৪৫), সুরুজ আলী (৩০), সাইদ আলী (৩৮) ও রেন্টু (৩০)। এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে প্রেসক্লাব পরিচালনার নামে চার লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। এরই জেরে গত শনিবার রাতে দেশীয় অস্ত্র, চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে তারা প্রেসক্লাবে হামলা চালান।


এ সময় প্রধান অভিযুক্ত নুরে ইসলাম মিলন পিস্তল ঠেকিয়ে ক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সুরুজ আলী ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করলে তার উরুতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে ১৩টি সেলাই দেওয়া হয়।


হামলার সময় স্থানীয় সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ এগিয়ে এলে হামলাকারীরা একটি গাড়ি (কুমিল্লা-চ-৫১-০০২৮) ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং পরিত্যক্ত গাড়িটি জব্দ করে।


বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই বিভিন্ন অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


এদিকে সাংবাদিকদের ওপর এ হামলার ঘটনায় রাজশাহীর সাংবাদিক সমাজ তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।