০২:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাংবাদিক নেতার ওপর হামলা: আসামি অধরা, বাড়ছে ক্ষোভ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৩৯:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
  • / ৫৭১ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমের ওপর সশস্ত্র হামলা ও চাঁদা দাবির ঘটনায় দুই আসামি গ্রেপ্তার হলেও মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পার হলেও প্রধান অভিযুক্ত নুরে ইসলাম মিলন ও সুরুজ আলীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে রাজশাহীর সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
সাংবাদিক নেতাদের অভিযোগ, প্রধান আসামি নুরে ইসলাম মিলন ও সুরুজসহ হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের ‘পলাতক’ বলে দাবি করছে। এমনকি আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হলেও পুলিশ অভিযানে তেমন তৎপরতা দেখাচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।


প্রেসক্লাব নেতারা দাবি করেন, রেজাউল করিমকে হত্যার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে মাইক্রোবাস ভাড়া করে এই হামলা চালানো হয়। হামলার সঙ্গে জড়িতরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে দম্ভোক্তি করছে এবং বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেন। এমনকি হামলাকারীরা প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করার কথাও প্রকাশ্যে বলছে বলে দাবি করা হয়।


এ ঘটনায় বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলামের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিক নেতারা। তাদের অভিযোগ, সক্রিয় হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা দেখাচ্ছে না। ওসি জানিয়েছেন, এজাহারভুক্ত আসামি ছাড়া অন্য কাউকে এ মুহূর্তে গ্রেপ্তার করা সম্ভব নয়। তবে হামলার সময় অজ্ঞাতনামা আসামিদের উপস্থিতির প্রমাণ পেলে তাদেরও গ্রেপ্তার করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, ওসি আসামিপক্ষের ইশারায় চলছেন এবং মামলার তদন্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। যদিও পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।


প্রেসক্লাবের সাংবাদিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না। ঈদের আগে জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনায় কঠোর কর্মসূচি না দিলেও ঈদের পর থেকে লাগাতার আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাব পরিচালনার নামে বেশ কিছুদিন ধরে নুরে ইসলাম মিলন, সুরুজ আলীসহ তাদের সহযোগীরা চার লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত শনিবার (৭ মার্চ) রাত ৮টার দিকে দেশীয় অস্ত্র, চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে একদল ব্যক্তি প্রেসক্লাবে হামলা চালায়।


হামলার সময় প্রধান অভিযুক্ত নুরে ইসলাম মিলন পিস্তল বের করে সভাপতির মাথায় ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় সুরুজ আলী ধারালো অস্ত্র দিয়ে রেজাউল করিমের পেটে আঘাতের চেষ্টা করলে তিনি হাত দিয়ে তা প্রতিহত করেন। এতে তার উরুতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং তাকে ১৩টি সেলাই দিতে হয়। বর্তমানে তিনি নিজ বাসায় চিকিৎসাধীন।


এ ঘটনার প্রতিবাদে গত রোববার (৮ মার্চ) দুপুর ১২টায় মহানগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে সাংবাদিকদের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধান আসামি নুরে ইসলাম মিলন ও সুরুজ আলীর বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক মামলা রয়েছে। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় তাদের ভূমিকা নিয়েও এলাকায় বিতর্ক রয়েছে। ওই ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে বলে জানা গেছে।


এ বিষয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি রবিউল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি মাইক্রোবাস জব্দ করেছে এবং মামলায় এখন পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এদিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সাংবাদিক সমাজ।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সাংবাদিক নেতার ওপর হামলা: আসামি অধরা, বাড়ছে ক্ষোভ

আপডেট সময় : ০২:৩৯:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমের ওপর সশস্ত্র হামলা ও চাঁদা দাবির ঘটনায় দুই আসামি গ্রেপ্তার হলেও মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পার হলেও প্রধান অভিযুক্ত নুরে ইসলাম মিলন ও সুরুজ আলীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে রাজশাহীর সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
সাংবাদিক নেতাদের অভিযোগ, প্রধান আসামি নুরে ইসলাম মিলন ও সুরুজসহ হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের ‘পলাতক’ বলে দাবি করছে। এমনকি আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হলেও পুলিশ অভিযানে তেমন তৎপরতা দেখাচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।


প্রেসক্লাব নেতারা দাবি করেন, রেজাউল করিমকে হত্যার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে মাইক্রোবাস ভাড়া করে এই হামলা চালানো হয়। হামলার সঙ্গে জড়িতরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে দম্ভোক্তি করছে এবং বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেন। এমনকি হামলাকারীরা প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করার কথাও প্রকাশ্যে বলছে বলে দাবি করা হয়।


এ ঘটনায় বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলামের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিক নেতারা। তাদের অভিযোগ, সক্রিয় হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা দেখাচ্ছে না। ওসি জানিয়েছেন, এজাহারভুক্ত আসামি ছাড়া অন্য কাউকে এ মুহূর্তে গ্রেপ্তার করা সম্ভব নয়। তবে হামলার সময় অজ্ঞাতনামা আসামিদের উপস্থিতির প্রমাণ পেলে তাদেরও গ্রেপ্তার করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, ওসি আসামিপক্ষের ইশারায় চলছেন এবং মামলার তদন্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। যদিও পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।


প্রেসক্লাবের সাংবাদিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না। ঈদের আগে জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনায় কঠোর কর্মসূচি না দিলেও ঈদের পর থেকে লাগাতার আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাব পরিচালনার নামে বেশ কিছুদিন ধরে নুরে ইসলাম মিলন, সুরুজ আলীসহ তাদের সহযোগীরা চার লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত শনিবার (৭ মার্চ) রাত ৮টার দিকে দেশীয় অস্ত্র, চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে একদল ব্যক্তি প্রেসক্লাবে হামলা চালায়।


হামলার সময় প্রধান অভিযুক্ত নুরে ইসলাম মিলন পিস্তল বের করে সভাপতির মাথায় ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় সুরুজ আলী ধারালো অস্ত্র দিয়ে রেজাউল করিমের পেটে আঘাতের চেষ্টা করলে তিনি হাত দিয়ে তা প্রতিহত করেন। এতে তার উরুতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং তাকে ১৩টি সেলাই দিতে হয়। বর্তমানে তিনি নিজ বাসায় চিকিৎসাধীন।


এ ঘটনার প্রতিবাদে গত রোববার (৮ মার্চ) দুপুর ১২টায় মহানগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে সাংবাদিকদের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধান আসামি নুরে ইসলাম মিলন ও সুরুজ আলীর বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক মামলা রয়েছে। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় তাদের ভূমিকা নিয়েও এলাকায় বিতর্ক রয়েছে। ওই ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে বলে জানা গেছে।


এ বিষয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি রবিউল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি মাইক্রোবাস জব্দ করেছে এবং মামলায় এখন পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এদিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সাংবাদিক সমাজ।