রাজশাহী পবায় হাতকড়াসহ আসামি ছিনতাই, গ্রেফতার হয়নি মূল অভিযুক্ত
- আপডেট সময় : ০২:৫২:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
- / ৫০৮ বার পড়া হয়েছে
রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর পবা থানার পুলিশের হেফাজত থেকে হাতকড়াসহ এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর হাতকড়াটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার হলেও এখনো মূল আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (২২ মার্চ) বিকেল পৌনে ৬টার দিকে পবা উপজেলার পিল্লাপাড়া মোড়স্থ সাহিদা হক ফিলিং স্টেশনের সামনে একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রাসেলকে গ্রেফতার করে পবা থানার একটি টিম।
গ্রেফতারের সময় আসামির মা ও স্বজনসহ কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশের উপস্থিত ৮ সদস্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন। এ সময় উত্তেজিত জনতা হাতকড়াসহ আসামিকে ছিনিয়ে নেয় বলে জানা গেছে।
ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর স্থানীয় কয়েকজনের মাধ্যমে হাতকড়াটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তবে এখনো আসামি রাসেল পলাতক রয়েছে।
এদিকে হাতকড়া উদ্ধারের বিষয়টি নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। সাধারণত হাতকড়া খোলার জন্য নির্দিষ্ট চাবির প্রয়োজন হলেও সেটি কীভাবে খোলা হলো—তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে।
হাতকড়া উদ্ধারকারী এক ব্যক্তি জানান, “ঘটনার সময় আমরা সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। পরে বিষয়টি জানতে পেরে আসামি ও পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে একটি বিলের মধ্যে থেকে হাতকড়াটি উদ্ধার করি। পুলিশের কাছ থেকে চাবি নিয়ে সেটি খোলা হয়েছে।”
তবে স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, সরকারি নিরাপত্তা সরঞ্জাম কীভাবে সাধারণ মানুষের মাধ্যমে উদ্ধার হলো, তা তদন্ত করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ একই এলাকায় আবু তাহেরের ছেলে আফসার আলী (৩৭)-কে পিল্লাপাড়া মোড়ে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে ১৬ মার্চ পবা থানায় তিনজনকে আসামি করে দণ্ডবিধির ৩৪১/৩২৩/৩২৫/৩০৭ ও ৫০৬ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের শাহমখদুম জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার দ্বীন ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমি কিছুক্ষণ আগে জেনেছি। হাতকড়া উদ্ধারের বিষয়টি বিস্তারিত জানা নেই। থানার সঙ্গে যোগাযোগ করলে ভালো তথ্য পাওয়া যাবে।”
অন্যদিকে আরএমপির মিডিয়া মুখপাত্র জানান, “হাতকড়া বিভিন্ন উপায়ে খোলা সম্ভব। তবে পুলিশ কাউকে চাবি দেয়নি। হাতকড়াটি ফেরত দেওয়া হয়েছে, এটি সত্য। এ ঘটনায় নতুন একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।”
ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

















