বরেন্দ্র প্রেসক্লাব সভাপতির ওপর সশস্ত্র হামলার প্রতিবাদে রাজশাহী উত্তাল
- আপডেট সময় : ১২:৫২:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
- / ৫৫৩ বার পড়া হয়েছে
রাজশাহী প্রতিনিধি : রাজশাহী শহরে বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমের ওপর সশস্ত্র হামলার প্রতিবাদে এবং আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে শনিবার (২৮ মার্চ) বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি আয়োজিত হয় মহানগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের উদ্যোগে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৭ মার্চ রাতে শিরোইল কাঁচাবাজার এলাকার বরেন্দ্র প্রেসক্লাবে নূরে ইসলাম মিলন ও তার সহযোগীরা চার লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে দেশীয় অস্ত্রসহ হামলা চালায়। ভুক্তভোগী রেজাউল করিম জানান, হামলাকারীরা তাঁর মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এতে তাঁর উরুতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়, যা সারানোর জন্য ১৩টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন থাকলেও প্রধান আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
মানববন্ধনে সভাপতিমণ্ডলীর বক্তব্যে রেজাউল করিম বলেন, “আমার ওপর হামলা মানে পুরো সাংবাদিক সমাজকে ভয় দেখানোর চেষ্টা। সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার না করলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবো।”
রিভারসিটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা রাব্বানী অভিযোগ করেন, প্রধান অভিযুক্ত নূরে ইসলাম মিলন ও সুরুজ আলী গ্রেপ্তার না হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় রয়েছেন। তিনি বলেন, রাজশাহী প্রেসক্লাব থেকে অভিযুক্তদের সাময়িক বরখাস্ত করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।
মানববন্ধনে বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম, সহ-সভাপতি শেখ রহমতুল্লাহ, কোষাধ্যক্ষ মামুনুর রশীদসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। তারা একত্রিতভাবে এই ন্যাক্কারজনক হামলার বিচার এবং অভিযুক্তদের ক্লাব থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ড. জিললুর রহমানকে ফোন দেওয়ার পরও তিনি রিসিভ না করলেও, মিডিয়া মুখপাত্র (উপ-পুলিশ কমিশনার) গাজিউর রহমান জানিয়েছেন, “মামলা রুজু হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে ডিবিসহ পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। দ্রুতই তারা আইনের আওতায় আনা হবে।”
সাংবাদিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হলে বৃহত্তর আন্দোলন করা হবে।



















