০১:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আইসিইউ সংকটে শিশু মৃত্যু, অবশেষে চালু হচ্ছে রাজশাহী শিশু হাসপাতাল

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:২০:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
  • / ৫০৭ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে শিশুদের চিকিৎসা সংকট ঘিরে নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকা রাজশাহী শিশু হাসপাতাল। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর আইসিইউ সংকটে শিশু মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসার পর অবশেষে হাসপাতালটি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রামেক হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী জানান, আগামী তিন মাসের মধ্যেই শিশু হাসপাতালটি আংশিকভাবে চালু করা হবে। তিনি বলেন, প্রথম ধাপে সেখানে বহির্বিভাগ (আউটডোর) সেবা চালু করা হবে। এরপর পরবর্তী অর্থবছরে ধাপে ধাপে ইনডোর ও অন্যান্য বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

জানা গেছে, রাজশাহী নগরের বন্ধগেট এলাকায় প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট এই শিশু হাসপাতালের নির্মাণকাজ শুরু হয় প্রায় আট বছর আগে। প্রায় তিন বছর আগে অবকাঠামোগত কাজ শেষ হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এটি গ্রহণ না করায় এতদিন ধরে হাসপাতালটি চালু হয়নি।

দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় হাসপাতালের কিছু যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম চুরির ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা যায়।


হাসপাতালটি চালু না থাকায় রামেক হাসপাতালের শিশু বিভাগে রোগীর চাপ দিন দিন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। ২০০ শয্যার বিপরীতে প্রতিনিয়ত প্রায় ৭০০ শিশুকে ভর্তি রাখতে হচ্ছে। শুধু রাজশাহী বিভাগের নয়, রংপুর ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকেও অসংখ্য রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসছে।

বিশেষ করে আইসিইউ সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বর্তমানে রামেক হাসপাতালে শিশুদের জন্য মাত্র ১২টি আইসিইউ শয্যা রয়েছে। এসব শয্যার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার তালিকা তৈরি হয়, যেখানে অনেক সময় ৩০ থেকে ৫০ জন রোগীর পর সিরিয়াল আসে। ফলে গুরুতর অসুস্থ শিশুদের দ্রুত আইসিইউ সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় আইসিইউর চাহিদা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে হাসপাতালটির ওপর চাপ আরও বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে নতুন শিশু হাসপাতালটি চালু হলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন হাসপাতালেও ১২টি আইসিইউ শয্যা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় স্বাস্থ্যসচিব বলেন, দেশের যেসব হাসপাতালের অবকাঠামো প্রস্তুত রয়েছে কিন্তু এখনো চালু হয়নি, সেগুলো দ্রুত চালুর জন্য সরকার কাজ করছে।


তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, রাজশাহীর শিশু হাসপাতালটি চালু হলে এই অঞ্চলের শিশুদের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে এবং রামেক হাসপাতালের ওপর চাপ অনেকটাই কমে আসবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আইসিইউ সংকটে শিশু মৃত্যু, অবশেষে চালু হচ্ছে রাজশাহী শিশু হাসপাতাল

আপডেট সময় : ০৪:২০:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে শিশুদের চিকিৎসা সংকট ঘিরে নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকা রাজশাহী শিশু হাসপাতাল। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর আইসিইউ সংকটে শিশু মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসার পর অবশেষে হাসপাতালটি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রামেক হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী জানান, আগামী তিন মাসের মধ্যেই শিশু হাসপাতালটি আংশিকভাবে চালু করা হবে। তিনি বলেন, প্রথম ধাপে সেখানে বহির্বিভাগ (আউটডোর) সেবা চালু করা হবে। এরপর পরবর্তী অর্থবছরে ধাপে ধাপে ইনডোর ও অন্যান্য বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

জানা গেছে, রাজশাহী নগরের বন্ধগেট এলাকায় প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট এই শিশু হাসপাতালের নির্মাণকাজ শুরু হয় প্রায় আট বছর আগে। প্রায় তিন বছর আগে অবকাঠামোগত কাজ শেষ হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এটি গ্রহণ না করায় এতদিন ধরে হাসপাতালটি চালু হয়নি।

দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় হাসপাতালের কিছু যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম চুরির ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা যায়।


হাসপাতালটি চালু না থাকায় রামেক হাসপাতালের শিশু বিভাগে রোগীর চাপ দিন দিন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। ২০০ শয্যার বিপরীতে প্রতিনিয়ত প্রায় ৭০০ শিশুকে ভর্তি রাখতে হচ্ছে। শুধু রাজশাহী বিভাগের নয়, রংপুর ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকেও অসংখ্য রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসছে।

বিশেষ করে আইসিইউ সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বর্তমানে রামেক হাসপাতালে শিশুদের জন্য মাত্র ১২টি আইসিইউ শয্যা রয়েছে। এসব শয্যার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার তালিকা তৈরি হয়, যেখানে অনেক সময় ৩০ থেকে ৫০ জন রোগীর পর সিরিয়াল আসে। ফলে গুরুতর অসুস্থ শিশুদের দ্রুত আইসিইউ সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় আইসিইউর চাহিদা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে হাসপাতালটির ওপর চাপ আরও বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে নতুন শিশু হাসপাতালটি চালু হলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন হাসপাতালেও ১২টি আইসিইউ শয্যা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় স্বাস্থ্যসচিব বলেন, দেশের যেসব হাসপাতালের অবকাঠামো প্রস্তুত রয়েছে কিন্তু এখনো চালু হয়নি, সেগুলো দ্রুত চালুর জন্য সরকার কাজ করছে।


তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, রাজশাহীর শিশু হাসপাতালটি চালু হলে এই অঞ্চলের শিশুদের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে এবং রামেক হাসপাতালের ওপর চাপ অনেকটাই কমে আসবে।