গ্রামীণ সংস্কৃতির সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে রাজশাহী বিভাগীয় যাত্রা উৎসব শুরু
- আপডেট সময় : ০৩:০২:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
- / ৫৮০ বার পড়া হয়েছে
রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুরু হয়েছে ‘রাজশাহী বিভাগীয় যাত্রা উৎসব-২০২৬’। বাংলাদেশ যাত্রাশিল্প মালিক সমিতি ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মোহনপুর উপজেলার বসন্তকেদার ডিগ্রি কলেজ মাঠে উৎসবটির উদ্বোধন করা হয়।
উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও সরকারি কাজে ঢাকায় অবস্থান করায় রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা কালচারাল অফিসার ড. মো. ফারুকুর রহমান ফয়সল। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সেগুনবাগিচা কার্যালয়ের নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক দীপক কুমার গোস্বামী।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ যাত্রাশিল্প দল মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এম এ মান্নান, বাংলাদেশ যাত্রাশিল্প দলমালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও রাজশাহী বিভাগীয় যাত্রা উৎসবের দায়িত্বপ্রাপ্ত মো. আফসারুজ্জামান রনি, রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কালচারাল একাডেমির পরিচালক হরেন্দ্র নাথ সিং এবং ‘বাঁচার আশা’ সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি ও জাতীয় শিল্পকলা সম্মাননা প্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব মোস্তফা সরকার।
উৎসবের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন মৌগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও যাত্রা উৎসব কমিটির সভাপতি নূর-এ-আলম সিদ্দিকী মুকুল, মৌগাছি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও যাত্রা উৎসব কমিটির সাধারণ সম্পাদক মেজর আলী বিশ্বাস এবং নিরাপদ সড়ক চাই, মোহনপুর উপজেলা শাখার সভাপতি মো. মিজানুর রহমান।
বক্তারা বলেন, যাত্রাপালা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি গ্রামীণ সমাজে সচেতনতা তৈরির একটি শক্তিশালী মাধ্যম। যাত্রার মাধ্যমে সহজ ভাষায় সামাজিক অসঙ্গতি, কুসংস্কার, মাদকবিরোধী বার্তা, বাল্যবিবাহ রোধ, নারী অধিকার, শিক্ষার গুরুত্ব ও সামাজিক সম্প্রীতির বিষয়গুলো মানুষের সামনে তুলে ধরা সম্ভব হয়। ফলে সাধারণ মানুষ বিনোদনের পাশাপাশি শিক্ষা ও সচেতনতার বার্তাও পেয়ে থাকেন।
তারা আরও বলেন, যাত্রাশিল্প স্থানীয় শিল্পী, কলাকুশলী ও সংস্কৃতিকর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পধারা সংরক্ষণ ও বিকাশের মাধ্যমে দেশের সংস্কৃতি সমৃদ্ধ হয় এবং নতুন প্রজন্ম নিজেদের শিকড় ও লোকজ ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়।
উৎসবকে ঘিরে বসন্তকেদার ডিগ্রি কলেজ মাঠে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। বিভিন্ন যাত্রাপালার পাশাপাশি থাকছে নাচ, গান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। আয়োজকরা জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের স্বনামধন্য যাত্রাদল এই উৎসবে অংশ নেবে এবং প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চলবে যাত্রাপালা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মো. শাহিজুল ইসলাম।









