০২:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কালিয়াকৈর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:১২:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৫১৩ বার পড়া হয়েছে

ফজলে রাব্বি, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ে রোগী ও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও সেবার ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালটির আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. নাজমুন নাহার ইতির বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের জন্য সরবরাহকৃত খাবারের মান নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধ হাসপাতালের বাইরে থেকে করাতে বলা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। এতে রোগীদের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে বলে তারা জানান।

কিছু রোগী ও স্বজনদের দাবি, হাসপাতালে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ওষুধ সবসময় পাওয়া যায় না। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও নবজাতকদের চিকিৎসা সেবায় কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।

এছাড়া ইনজুরি সার্টিফিকেট প্রদান, রোগীর সংখ্যা সংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপন এবং প্রশাসনিক বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে, যদিও এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ২০১২ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। তবে স্থানীয়দের মতে, কাঠামোগত উন্নয়ন হলেও সেবার মান প্রত্যাশিতভাবে বাড়েনি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ডা. নাজমুন নাহার ইতি ২০১৪ সালে মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগদান করেন এবং পরবর্তীতে আরএমও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার দায়িত্ব পালন ও উপস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাদিয়া তাসনিম মুনমুন জানান, “আরএমও ছুটিতে ছিলেন এবং নির্ধারিত সময়ের বাইরে কিছুদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে দেখা হয়েছে।”

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে ডা. নাজমুন নাহার ইতি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

গাজীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমান বলেন, “উত্থাপিত অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কালিয়াকৈর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

আপডেট সময় : ০৮:১২:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

ফজলে রাব্বি, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ে রোগী ও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও সেবার ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালটির আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. নাজমুন নাহার ইতির বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের জন্য সরবরাহকৃত খাবারের মান নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধ হাসপাতালের বাইরে থেকে করাতে বলা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। এতে রোগীদের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে বলে তারা জানান।

কিছু রোগী ও স্বজনদের দাবি, হাসপাতালে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ওষুধ সবসময় পাওয়া যায় না। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও নবজাতকদের চিকিৎসা সেবায় কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।

এছাড়া ইনজুরি সার্টিফিকেট প্রদান, রোগীর সংখ্যা সংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপন এবং প্রশাসনিক বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে, যদিও এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ২০১২ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। তবে স্থানীয়দের মতে, কাঠামোগত উন্নয়ন হলেও সেবার মান প্রত্যাশিতভাবে বাড়েনি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ডা. নাজমুন নাহার ইতি ২০১৪ সালে মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগদান করেন এবং পরবর্তীতে আরএমও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার দায়িত্ব পালন ও উপস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাদিয়া তাসনিম মুনমুন জানান, “আরএমও ছুটিতে ছিলেন এবং নির্ধারিত সময়ের বাইরে কিছুদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে দেখা হয়েছে।”

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে ডা. নাজমুন নাহার ইতি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

গাজীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমান বলেন, “উত্থাপিত অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।