০৩:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:১৯:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
  • / ৫৬৪ বার পড়া হয়েছে

এম এস সাগর : ঘুষ, দুর্নীতি ও দলিল বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে রাজশাহীর মোহনপুর সাব-রেজিস্ট্রার তানিয়া তাহের এর বিরুদ্ধে। অফিসে আসা সাধারণ মানুষদের নানা অজুহাতে হয়রানি। “কাগজে সমস্যা আছে” বলে ভয় দেখিয়ে নেয়া হয় মোটা অংকের উৎকোচ। সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে দলিল প্রতি সহকারীর মাধ্যমে আদায় করা হয় অতিরিক্ত অর্থ। এসব টাকা ‘নাস্তা খরচ’, ‘ম্যানেজ ফি’ বা ‘সহযোগিতা’র নামে নিয়মিতভাবে তোলা হয়। ভুক্তভোগীরা জানান, এই ঘুষ বাণিজ্য শুধু সাব-রেজিস্ট্রার একক প্রচেষ্টায় চলছে না। এতে জড়িত রয়েছে সাব-রেজিস্ট্রারের মুল সহযোগী পেশকার জান্নাতুল ফেরদৌস। যার মাধ্যমে জমি রেজিস্ট্রির দিন লাখ লাখ টাকা ঘুষ আদায় করেন সাবরেজিস্টার তানিয়া তাহের। এসব টাকা থেকে একটি অংশ ‘ম্যানেজ’ করতে খরচ হলেও অধিকাংশই নিজের কাছে তুলে নেন সাব-রেজিস্ট্রার।

অভিযোগে জানা যায়, দলিল লেখক মোঃ আসাদুজ্জামান প্রাং (সনদ নং-৩৭) এর স্বাক্ষর জাল করে দলিল রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দলিল লেখকের বিরুদ্ধে মোহনপুর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন ভুক্তভোগী দলিল লেখক আসাদুজ্জামান।

গত ২৭ অক্টোবর সোমবার দলিল লেখক মোঃ আসাদুজ্জামান প্রাং ১২ হাজার টাকার বিনিময়ে ০.০১৫০ একর জমির একটি হেবা ঘোষণা দলিল সম্পাদন করেন। দলিলের দাতা ছিলেন উপজেলার ধুরইল ইউনিয়ন পাঁচপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোসাঃ ছামেনা বেগম ও গ্রহীতা মোসাঃ সাহিদা বেগম। দাতা ও গ্রহীতা সম্পর্কে মা মেয়ে।

আসাদুজ্জামান প্রাং অভিযোগে উল্লেখ করেন, দলিল দাতার নাম ও ঠিকানা ও দাতা অসুস্থ হওয়ার কারণে দলিলটি তখন রেজিষ্ট্রেশন করে দেননি সাব রেজিস্ট্রার তানিয়া তাহের।

একাধিকবার দলিল লেখক আসাদুজ্জামান ও দাতা গ্রহীতা সাবরেজিস্টারকে অনুরোধ করে ব্যর্থ হয়ে দলিল লেখক আসাদুজ্জামান
বাড়ি ফিরে গেলে তার অনুপস্থিতিতে সাবরেজিস্টার তানিয়া তাহের টাকার বিনিময়ে সাইদুর রহমান (সনদ নং-৬৩) নামে এক দলিল লেখকের সাথে যোগসাজশে টিপ বহিতে তার স্বাক্ষর জাল করে রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করেছেন।

আসাদুজ্জামান দাবি করেন, “আমি টিপ বহিতে কোনো স্বাক্ষর করিনি। অথচ আমার নামেই দলিলটি রেজিস্ট্রেশন করে দিয়েছেন সাবরেজিস্টার। এটা চরম জালিয়াতি।” আমি এর সঠিক বিচার চাই।

এ ঘটনায় তিনি মোহনপুর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি ও সম্পাদক বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন এবং এর সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এবিষয়ে অভিযুক্ত দলিল লেখক সাইদুর রহমান এ প্রতিবেদককে জানান, উক্ত দলিলের গ্রহীতার অনুরোধে সাব-রেজিস্টারকে অনুনয় বিনয় করে দলিলটির রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। আসাদুজ্জামান বাবু’র টিপ / স্বাক্ষর কে বা কারা করেছে তা বলতে পারছিনা। বিষয়টি নিয়ে খুবই চিন্তায় আছি।

এবিষয়ে মোহনপুর উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আতাউর রহমান পিটার বলেন, এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি।
ঘটনাটি তদন্ত করে সত্যি প্রমানিত হলে ওই দলিল লেখকের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হবে।

এবিষয়ে বক্তব্যের জন্য সাবরেজিস্টার তানিয়া তাহের এর কাছে একাধিকবার যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আপডেট সময় : ১২:১৯:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

এম এস সাগর : ঘুষ, দুর্নীতি ও দলিল বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে রাজশাহীর মোহনপুর সাব-রেজিস্ট্রার তানিয়া তাহের এর বিরুদ্ধে। অফিসে আসা সাধারণ মানুষদের নানা অজুহাতে হয়রানি। “কাগজে সমস্যা আছে” বলে ভয় দেখিয়ে নেয়া হয় মোটা অংকের উৎকোচ। সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে দলিল প্রতি সহকারীর মাধ্যমে আদায় করা হয় অতিরিক্ত অর্থ। এসব টাকা ‘নাস্তা খরচ’, ‘ম্যানেজ ফি’ বা ‘সহযোগিতা’র নামে নিয়মিতভাবে তোলা হয়। ভুক্তভোগীরা জানান, এই ঘুষ বাণিজ্য শুধু সাব-রেজিস্ট্রার একক প্রচেষ্টায় চলছে না। এতে জড়িত রয়েছে সাব-রেজিস্ট্রারের মুল সহযোগী পেশকার জান্নাতুল ফেরদৌস। যার মাধ্যমে জমি রেজিস্ট্রির দিন লাখ লাখ টাকা ঘুষ আদায় করেন সাবরেজিস্টার তানিয়া তাহের। এসব টাকা থেকে একটি অংশ ‘ম্যানেজ’ করতে খরচ হলেও অধিকাংশই নিজের কাছে তুলে নেন সাব-রেজিস্ট্রার।

অভিযোগে জানা যায়, দলিল লেখক মোঃ আসাদুজ্জামান প্রাং (সনদ নং-৩৭) এর স্বাক্ষর জাল করে দলিল রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দলিল লেখকের বিরুদ্ধে মোহনপুর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন ভুক্তভোগী দলিল লেখক আসাদুজ্জামান।

গত ২৭ অক্টোবর সোমবার দলিল লেখক মোঃ আসাদুজ্জামান প্রাং ১২ হাজার টাকার বিনিময়ে ০.০১৫০ একর জমির একটি হেবা ঘোষণা দলিল সম্পাদন করেন। দলিলের দাতা ছিলেন উপজেলার ধুরইল ইউনিয়ন পাঁচপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোসাঃ ছামেনা বেগম ও গ্রহীতা মোসাঃ সাহিদা বেগম। দাতা ও গ্রহীতা সম্পর্কে মা মেয়ে।

আসাদুজ্জামান প্রাং অভিযোগে উল্লেখ করেন, দলিল দাতার নাম ও ঠিকানা ও দাতা অসুস্থ হওয়ার কারণে দলিলটি তখন রেজিষ্ট্রেশন করে দেননি সাব রেজিস্ট্রার তানিয়া তাহের।

একাধিকবার দলিল লেখক আসাদুজ্জামান ও দাতা গ্রহীতা সাবরেজিস্টারকে অনুরোধ করে ব্যর্থ হয়ে দলিল লেখক আসাদুজ্জামান
বাড়ি ফিরে গেলে তার অনুপস্থিতিতে সাবরেজিস্টার তানিয়া তাহের টাকার বিনিময়ে সাইদুর রহমান (সনদ নং-৬৩) নামে এক দলিল লেখকের সাথে যোগসাজশে টিপ বহিতে তার স্বাক্ষর জাল করে রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করেছেন।

আসাদুজ্জামান দাবি করেন, “আমি টিপ বহিতে কোনো স্বাক্ষর করিনি। অথচ আমার নামেই দলিলটি রেজিস্ট্রেশন করে দিয়েছেন সাবরেজিস্টার। এটা চরম জালিয়াতি।” আমি এর সঠিক বিচার চাই।

এ ঘটনায় তিনি মোহনপুর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি ও সম্পাদক বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন এবং এর সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এবিষয়ে অভিযুক্ত দলিল লেখক সাইদুর রহমান এ প্রতিবেদককে জানান, উক্ত দলিলের গ্রহীতার অনুরোধে সাব-রেজিস্টারকে অনুনয় বিনয় করে দলিলটির রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। আসাদুজ্জামান বাবু’র টিপ / স্বাক্ষর কে বা কারা করেছে তা বলতে পারছিনা। বিষয়টি নিয়ে খুবই চিন্তায় আছি।

এবিষয়ে মোহনপুর উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আতাউর রহমান পিটার বলেন, এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি।
ঘটনাটি তদন্ত করে সত্যি প্রমানিত হলে ওই দলিল লেখকের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হবে।

এবিষয়ে বক্তব্যের জন্য সাবরেজিস্টার তানিয়া তাহের এর কাছে একাধিকবার যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি।