নিম্নচাপের প্রভাবে রাজশাহী অঞ্চলে মোট বৃষ্টি হয়েছে ৬১ মিলিমিটার। কৃষকদের পাশে কৃষি বিভাগ
মোহনপুরে বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে ফসলের মাঠ পুকুর আর্থিক ক্ষতি কোটি কোটি টাকা
- আপডেট সময় : ০৬:৪৬:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫
- / ৬৬৭ বার পড়া হয়েছে
এমএস সাগর, মোহনপুরঃ নিম্নচাপের প্রভাবে রাজশাহী অঞ্চলের উপর দিয়ে গত ৩ দিন যাবত দফায় দফায় বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে পুকুরের মাছ, আমন ধান, পানবরজ, ঘরবাড়ি, সবজি ও অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। জানা গেছে, সাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে গত বৃহস্পতিবার রাত হতে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত টানা বর্ষনে মোহনপুর উপজেলার নীচু এলাকার বাড়িঘরে পানি জমে গেছে, ভেঙে পড়েছে ঘরবাড়ি। ডুবেছে আমন ধান, পেঁয়াজ, সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের খেত। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। এছাড়া দমকা বাতাসে পানবরজসহ বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা পড়ে গেছে। এপর্যন্ত মোট বৃষ্টি হয়েছে ৬১ মিলিমিটার।
এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষক ও মাছচাষিরা। ধান, পান, পটলসহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভেসে গেছে কোটি টাকার মাছ। প্রাথমিক হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকার বেশি।
টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যায়। এতে আগাম মৌসুমের আলু, পেঁয়াজ, মরিচ, পটলসহ শীতকালীন সবজি এবং পানবরজের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার অনেক এলাকায় খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় পানি নিষ্কাশনের সুযোগ কমে গেছে। ফলে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে।
ধানচাষি আব্দুস সালাম বলেন,
“তিন বিঘা জমিতে আমন ধান ছিল, সব পানির নিচে। পানি না নামলে কিছুই বাঁচবে না।”
উপজেলার মহব্বতপুর গ্রামের মাছচাষি সাইফুল ইসলাম জানান,
“তার ৫০ বিঘা পুকুরে প্রায় ৫০ লাখ টাকার মাছ ছিল। রাতেই পুকুর তলিয়ে যাওয়ায় সব ভেসে গেছে।”
ধুরইল ইউনিয়নের পালশা গ্রামের আব্দুল মালেক এর প্রায় ১বিঘা জমির পানবরজ মাটিতে পড়ে প্রায় ৪লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে—রোপা আমন ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। আধাপাকা ধান ঘরে তোলার আগেই পানিতে মিশে গেছে। ফলে ফলন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি অফিসের সরকারি ফেসবুক পেজে কৃষকদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে—
“অতিবৃষ্টিতে ফসল রক্ষায় নালা কেটে পানি নিষ্কাশন করুন। বৃষ্টি থেমে গেলে ধানসহ অন্যান্য ফসলে ছত্রাকনাশক স্প্রে দিন এবং প্রয়োজনে স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিন।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন,
“যেসব ধান শুয়ে পড়েছে, সেগুলো গোছা করে বেঁধে দিলে কিছুটা ক্ষতি কমানো সম্ভব। আমরা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি।”
সরকারি হিসাবে, উপজেলায় প্রায় ৭৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষকরা দাবি করেছেন, বাস্তবে ক্ষতির পরিমাণ ২২০ হেক্টরেরও বেশি।
এদিকে মোহনপুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট ৩৬০টি মাছের পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব পুকুরের আয়তন প্রায় ১,৮০০ বিঘা।
উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ১০ হাজার ২২৫টি। এর মধ্যে ৪১৪টি ঘরবাড়ি, ৮৩৯টি পুকুর এবং ২ হাজার ৭৪৭টি পান বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়া ফুলকপি, বাঁধাকপি, মরিচ, পটল, মুলা, সরিষা, রসুন, পেয়াজ, পেঁপে, বরবটি, শাক, পালং, লালশাক, পুইশাক, সিমসহ বিভিন্ন রবি মৌসুমের ফসল বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, এই বৃষ্টির কারণে রবি মৌসুমের বপন ও রোপণে বিলম্ব হবে, যা সামগ্রিক কৃষি উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও মাছচাষিরা দ্রুত সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।














