০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বেতন বন্ধ, প্রশাসনিক কাজে স্থবিরতা

দুই মাস ধরে ইউএনও শূন্য মোহনপুর উপজেলা ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫১:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৫৮৪ বার পড়া হয়েছে

মোঃ শাহীন সাগর, রাজশাহী: রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় দুই মাস ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদটি শূন্য রয়েছে। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে, ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

গত ৯ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন মোহনপুরের তৎকালীন ইউএনও আয়শা সিদ্দিকা। এরপর ৬ অক্টোবর নওগাঁর সাপাহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদকে মোহনপুরের ইউএনও হিসেবে পদায়ন করা হলেও তিনি যোগদান করেননি। পরবর্তীতে ২ নভেম্বর তাঁকে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়। ফলে দীর্ঘ দুই মাস ধরে শূন্য রয়েছে মোহনপুর ইউএনওর পদ।

ইউএনও না থাকায় উপজেলা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সভা, প্রকল্প অনুমোদন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, ভূমি শুনানি, আইনশৃঙ্খলা সভা ও অন্যান্য দাপ্তরিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

দুই মাস ধরে ইউএনও অফিসের স্টাফ, ইউপি সচিব, চেয়ারম্যান-মেম্বার, চৌকিদারসহ নিম্নআয়ের কর্মচারীরা বেতন না পেয়ে পরিবার নিয়ে অসহায় জীবন যাপন করছেন।

জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রণোদনা বিতরণ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ডিপ টিউবওয়েল প্রকল্প, এলজিইডির উন্নয়নকাজ, সরকারি এডিবি, টিআর ও কাবিখা প্রকল্পের কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়েছে।

উপজেলা অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ জানান, ইউএনও না থাকায় তাদের অনেক কাজ ঝুলে আছে।
ধুরইল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “ইউএনও সাহেব মাঠ প্রশাসনের প্রাণ। দীর্ঘদিন ইউএনও না থাকায় সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়েছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফাইল জেলা প্রশাসকের অনুমোদনের অপেক্ষায় পড়ে আছে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জোবায়দা সুলতানা ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে আছেন। তবে অর্থনৈতিক ক্ষমতা না থাকায় অনেক কাজ সম্পন্ন করা যাচ্ছে না, ফলে সাধারণ সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে।

স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন, “দুই মাস ধরে ইউএনও পদ শূন্য থাকা সত্ত্বেও কেন নতুন কর্মকর্তা পদায়ন করা হচ্ছে না?” তারা দ্রুত একজন দক্ষ ও দায়িত্বশীল ইউএনও নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন, যাতে উন্নয়ন ও জনসেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়।

এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আতার বলেন,“ বিভাগীয় কমিশনার স্যার সাপাহার উপজেলার ইউএনওকে মোহনপুরে বদলি করেছিলেন। তবে হঠাৎ করেই গতকাল তার বদলি আদেশ পরিবর্তন হয়েছে। খুব শিগগিরই নতুন একজন ইউএনও পদায়ন করা হবে।

আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। যেহেতু অফিসার সংকট রয়েছে, তাই কিছুটা সময় লাগছে। বর্তমানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) দায়িত্বে আছেন। তবে অর্থনৈতিক ক্ষমতা না থাকায় কিছু জায়গায় সীমিত সমস্যা হচ্ছে— সেটি আমাদের জানা আছে।

আপনারা জানেন, কিছুদিন আগেও পাঁচজন এসিল্যান্ডের পদ শূন্য ছিল, এখন সরকার নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিয়েছে। আশা করছি, মোহনপুরেও দ্রুত একজন ইউএনও যোগ দেবেন।”

এ বিষয়ে জানতে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার আজিম আহমেদ, এনডিসি’র সরকারি নম্বরে যোগাযোগ করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বেতন বন্ধ, প্রশাসনিক কাজে স্থবিরতা

দুই মাস ধরে ইউএনও শূন্য মোহনপুর উপজেলা ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

আপডেট সময় : ০৯:৫১:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫

মোঃ শাহীন সাগর, রাজশাহী: রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় দুই মাস ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদটি শূন্য রয়েছে। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে, ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

গত ৯ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন মোহনপুরের তৎকালীন ইউএনও আয়শা সিদ্দিকা। এরপর ৬ অক্টোবর নওগাঁর সাপাহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদকে মোহনপুরের ইউএনও হিসেবে পদায়ন করা হলেও তিনি যোগদান করেননি। পরবর্তীতে ২ নভেম্বর তাঁকে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়। ফলে দীর্ঘ দুই মাস ধরে শূন্য রয়েছে মোহনপুর ইউএনওর পদ।

ইউএনও না থাকায় উপজেলা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সভা, প্রকল্প অনুমোদন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, ভূমি শুনানি, আইনশৃঙ্খলা সভা ও অন্যান্য দাপ্তরিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

দুই মাস ধরে ইউএনও অফিসের স্টাফ, ইউপি সচিব, চেয়ারম্যান-মেম্বার, চৌকিদারসহ নিম্নআয়ের কর্মচারীরা বেতন না পেয়ে পরিবার নিয়ে অসহায় জীবন যাপন করছেন।

জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রণোদনা বিতরণ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ডিপ টিউবওয়েল প্রকল্প, এলজিইডির উন্নয়নকাজ, সরকারি এডিবি, টিআর ও কাবিখা প্রকল্পের কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়েছে।

উপজেলা অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ জানান, ইউএনও না থাকায় তাদের অনেক কাজ ঝুলে আছে।
ধুরইল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “ইউএনও সাহেব মাঠ প্রশাসনের প্রাণ। দীর্ঘদিন ইউএনও না থাকায় সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়েছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফাইল জেলা প্রশাসকের অনুমোদনের অপেক্ষায় পড়ে আছে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জোবায়দা সুলতানা ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে আছেন। তবে অর্থনৈতিক ক্ষমতা না থাকায় অনেক কাজ সম্পন্ন করা যাচ্ছে না, ফলে সাধারণ সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে।

স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন, “দুই মাস ধরে ইউএনও পদ শূন্য থাকা সত্ত্বেও কেন নতুন কর্মকর্তা পদায়ন করা হচ্ছে না?” তারা দ্রুত একজন দক্ষ ও দায়িত্বশীল ইউএনও নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন, যাতে উন্নয়ন ও জনসেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়।

এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আতার বলেন,“ বিভাগীয় কমিশনার স্যার সাপাহার উপজেলার ইউএনওকে মোহনপুরে বদলি করেছিলেন। তবে হঠাৎ করেই গতকাল তার বদলি আদেশ পরিবর্তন হয়েছে। খুব শিগগিরই নতুন একজন ইউএনও পদায়ন করা হবে।

আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। যেহেতু অফিসার সংকট রয়েছে, তাই কিছুটা সময় লাগছে। বর্তমানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) দায়িত্বে আছেন। তবে অর্থনৈতিক ক্ষমতা না থাকায় কিছু জায়গায় সীমিত সমস্যা হচ্ছে— সেটি আমাদের জানা আছে।

আপনারা জানেন, কিছুদিন আগেও পাঁচজন এসিল্যান্ডের পদ শূন্য ছিল, এখন সরকার নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিয়েছে। আশা করছি, মোহনপুরেও দ্রুত একজন ইউএনও যোগ দেবেন।”

এ বিষয়ে জানতে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার আজিম আহমেদ, এনডিসি’র সরকারি নম্বরে যোগাযোগ করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।