সবাইকে সঙ্গে নিয়ে পবা-মোহনপুরের উন্নয়নে কাজ করতে চাই
১৭ বছরে মানুষ খুন-গুম আর গায়েবি মামলার নাম শিখেছে: এ্যাড. শফিকুল হক মিলন
- আপডেট সময় : ০৪:২৩:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫
- / ১০২৭ বার পড়া হয়েছে
রাজশাহী প্রতিনিধি: বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক এবং রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেছেন,
“বাংলাদেশের মানুষ গত সতের বছরে খুন, গুম ও গায়েবি মামলার নাম শিখেছে। শিখেছে মেগা প্রকল্প বানিয়ে কিভাবে কোটি কোটি টাকা লোপাট করা যায়, দিনের ভোট রাতে কিভাবে নেয়া যায়, এবং ডামি নির্বাচনের নামে কিভাবে প্রহসন চালানো হয়।”
তিনি আরও বলেন, “নিলর্জ দলীয়করণ, মেগা প্রকল্প ও কুইক রেন্টালের নামে এই পতিত সরকারের দোসর, কিছু আমলা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য গত সতের বছরে প্রায় চৌদ্দ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। দেশ আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।”
শনিবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে নির্বাচন প্রস্তুতি ও গণসচেতনতামূলক প্রচারণা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ্যাড. মিলন বলেন, “খুনি হাসিনা দেশের অবস্থা এতটাই খারাপ করেছিল যে, মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল। অবশেষে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতা একত্রিত হয়ে খুনি হাসিনাকে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য করে। এরপর সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য আওয়ামী লীগের আরও সাড়ে ছয়শ নেতা-কর্মীকে বিদেশে যেতে সহায়তা করে। কিন্তু বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শত চেষ্টা করেও দেশ থেকে বের করতে পারেনি।”
তিনি আরও বলেন, “বেগম জিয়া আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনটি আসনে প্রার্থী হবেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া থেকে নির্বাচন করবেন। বিএনপি একটি বৃহৎ দল — এখানে অনেকেই মনোনয়ন আশা করেছিলেন, কিন্তু মনোনয়ন না পাওয়া কারও প্রতি কটুক্তি করা যাবে না। তারা সবাই ধানের শীষের সৈনিক ও প্রচারক।”
পবা-মোহনপুর আসনে নিজের মনোনয়ন প্রসঙ্গে এ্যাড. মিলন বলেন, “এই আসনে আমার সিনিয়র ও জুনিয়র অনেকেই মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে তারা অযোগ্য। তারা সকলেই যোগ্য, এবং আমি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে পবা-মোহনপুরের উন্নয়নে কাজ করতে চাই।”
তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, নির্বাচিত হলে পবা-মোহনপুর অঞ্চলের রাস্তাঘাট, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে। পাশাপাশি কৃষিখাত উন্নয়নে কৃষি কার্ড এবং নারীদের জন্য পারিবারিক কার্ড চালু করা হবে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচন বানচাল করতে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। জামায়াতে ইসলামী নামে একটি দল একবার বলছে পিআর পদ্ধতি না হলে নির্বাচনে যাবে না, আবার বলছে সংস্কার শেষ না হলে যাবে না। এখন আবার আট দফা দাবি দিয়েছে। অথচ তারা ছয় মাস আগেই মনোনয়ন ফরম বিতরণ ও প্রচারণা শুরু করেছে— এটি ভণ্ডামি ছাড়া কিছু নয়।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন মোহনপুর উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুব আর রশিদ, সঞ্চালনা করেন সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজিম উদ্দিন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোহনপুর উপজেলা বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক বাচ্চু রহমান, শাহীন আক্তার সামসুজ্জোহা, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম, ছাত্রদল সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকসহ উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে দুপুর ২টায় কেশরহাট ও সর্বশেষ পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নে পৃথক সমাবেশে অংশ নেন এ্যাড. শফিকুল হক মিলন।














