০২:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মোহনপুরে ফসলি জমি নষ্ট করে চলছে পুকুর খনন

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:১১:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৬৯৫ বার পড়া হয়েছে

মোহনপুর প্রতিনিধি: রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় কৃষিজমি নষ্ট করে চলছে পুকুর খননের মহোৎসব। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে এক্সেভেটর (ভেকু) মেশিন দিয়ে দিনরাত চলছে জমি কাটার কাজ। এতে একদিকে যেমন নষ্ট হচ্ছে উর্বর ফসলি জমি, অন্যদিকে হুমকির মুখে পড়ছে এলাকার পরিবেশ ও জলাধার ভারসাম্য।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি নিয়ম-নীতি ও পরিবেশ আইন অমান্য করে উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে দ্রুতগতিতে চলছে পুকুর খনন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়—জাহানাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বিরহী বিলে প্রায় ১০ বিঘা কৃষিজমিতে এক্সেভেটর মেশিন দিয়ে পুকুর খনন করছেন।

একই ইউনিয়নের মতিহার বিল এলাকায় প্রায় ১৪ বিঘা জমিতে পুকুর খননের কাজ করছেন সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ভুট্টু।

বাকশিমইল ইউনিয়নের ভেটুপাড়া বিলে আরও ৬ বিঘা কৃষিজমি কেটে পুকুর তৈরি করছেন স্থানীয় ব্যক্তি হেলাল উদ্দিন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব কাজের ফলে এলাকার আবাদি জমি ধ্বংস হচ্ছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাচ্ছে এবং কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

অবৈধভাবে পুকুর খননের বিষয়ে জানতে চাইলে জাহানাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বলেন, “আমরা উপজেলা পর্যায়ে সকলের সাথে বলে পুকুর খনন কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। এলাকাতেও আমরা সব কিছু ম্যানেজ করেছি।”

তার এই মন্তব্য স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন— “আইন অমান্য করে কীভাবে এমন প্রকাশ্যে পুকুর খনন চলছে?”

স্থানীয় একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রছায়ায় প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে চলছে এক প্রকার ‘পুকুর খনন বাণিজ্য’। তিনি পুকুর খনন করতে পুকুর মালিকদের থেকে বিপুল পরিমান টাকা নিয়ে পুকুর খননে সার্বিক সহায়তা করছেন বলেও অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফাহিমা বিনতে আখতার বলেন, “তদন্ত সাপেক্ষে পুকুর খননকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষিজমি নষ্টের কোনো সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।”

এলাকার সচেতন মহল ও কৃষক সমাজ বলছেন, “যেভাবে পুকুর খনন চলছে, তাতে কয়েক বছরের মধ্যে মোহনপুরের ফসলি জমি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। প্রশাসনের কঠোর অভিযান ছাড়া এই অনিয়ম থামানো সম্ভব নয়।”

তারা জরুরি ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও ভেকু মেশিন জব্দের দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মোহনপুরে ফসলি জমি নষ্ট করে চলছে পুকুর খনন

আপডেট সময় : ০১:১১:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

মোহনপুর প্রতিনিধি: রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় কৃষিজমি নষ্ট করে চলছে পুকুর খননের মহোৎসব। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে এক্সেভেটর (ভেকু) মেশিন দিয়ে দিনরাত চলছে জমি কাটার কাজ। এতে একদিকে যেমন নষ্ট হচ্ছে উর্বর ফসলি জমি, অন্যদিকে হুমকির মুখে পড়ছে এলাকার পরিবেশ ও জলাধার ভারসাম্য।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি নিয়ম-নীতি ও পরিবেশ আইন অমান্য করে উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে দ্রুতগতিতে চলছে পুকুর খনন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়—জাহানাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বিরহী বিলে প্রায় ১০ বিঘা কৃষিজমিতে এক্সেভেটর মেশিন দিয়ে পুকুর খনন করছেন।

একই ইউনিয়নের মতিহার বিল এলাকায় প্রায় ১৪ বিঘা জমিতে পুকুর খননের কাজ করছেন সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ভুট্টু।

বাকশিমইল ইউনিয়নের ভেটুপাড়া বিলে আরও ৬ বিঘা কৃষিজমি কেটে পুকুর তৈরি করছেন স্থানীয় ব্যক্তি হেলাল উদ্দিন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব কাজের ফলে এলাকার আবাদি জমি ধ্বংস হচ্ছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাচ্ছে এবং কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

অবৈধভাবে পুকুর খননের বিষয়ে জানতে চাইলে জাহানাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বলেন, “আমরা উপজেলা পর্যায়ে সকলের সাথে বলে পুকুর খনন কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। এলাকাতেও আমরা সব কিছু ম্যানেজ করেছি।”

তার এই মন্তব্য স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন— “আইন অমান্য করে কীভাবে এমন প্রকাশ্যে পুকুর খনন চলছে?”

স্থানীয় একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রছায়ায় প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে চলছে এক প্রকার ‘পুকুর খনন বাণিজ্য’। তিনি পুকুর খনন করতে পুকুর মালিকদের থেকে বিপুল পরিমান টাকা নিয়ে পুকুর খননে সার্বিক সহায়তা করছেন বলেও অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফাহিমা বিনতে আখতার বলেন, “তদন্ত সাপেক্ষে পুকুর খননকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষিজমি নষ্টের কোনো সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।”

এলাকার সচেতন মহল ও কৃষক সমাজ বলছেন, “যেভাবে পুকুর খনন চলছে, তাতে কয়েক বছরের মধ্যে মোহনপুরের ফসলি জমি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। প্রশাসনের কঠোর অভিযান ছাড়া এই অনিয়ম থামানো সম্ভব নয়।”

তারা জরুরি ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও ভেকু মেশিন জব্দের দাবি জানিয়েছেন।