০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাগমারায় ভ্যানচালক ওমর ফারুক হত্যা মামলায় ৬ আসামি গ্রেপ্তার

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০৭:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৫৭০ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারায় চুরির অভিযোগে নির্যাতনের শিকার হয়ে নিহত ভ্যানচালক ওমর ফারুক হত্যা মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মঙ্গলবার রাতে নাটোর থেকে তাদের আটক করে র‌্যাব-৫, পরে বাগমারা থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদুল আলম।

গ্রেপ্তাররা হলেন— দেউলা গ্রামের সিএনজিচালক রেজাউল করিম (৪৭) ও হাবিবুর রহমান (৫৫), মাঝিগ্রামের আবদুল মতিন (৪০), দরগামড়িয়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিক ড্রাইভার (৪০), ভবানীগঞ্জ গ্রামের চা দোকানি আসাদুল ইসলাম (৩৬) এবং মধুপুর গ্রামের আবদুল হান্নান (৩৮)।

বাগমারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আবু জাহিদ শেখ জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই এজাহারভুক্ত আসামি। গত বৃহস্পতিবার নিহতের বাবা মোসলেম আলী সরদার বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও ১০–১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ১৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ভবানীগঞ্জ সিএনজি স্ট্যান্ডে ভ্যানচালক ওমর ফারুককে চুরির অভিযোগে আটকে নির্যাতন চালানো হয়। সমিতির সভাপতি রেজাউল করিম ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিনের নির্দেশে অন্য সদস্যরা লোহার রড দিয়ে পেটায়। একপর্যায়ে ফারুক মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে প্রাচীরের পাশে দাঁড় করিয়ে আবারও নির্যাতন করা হয়।

নির্যাতনের পর তার কাছ থেকে ‘গাঁজা উদ্ধারের’ নাটক সাজিয়ে বিষয়টি ভ্রাম্যমাণ আদালতে জানানো হয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভূঞা তখন ফারুককে ১০০ টাকা অর্থদণ্ড ও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

পরবর্তীতে অসুস্থ অবস্থায় তাকে প্রথমে বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ২০ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ওসি সাইদুল আলম বলেন, “র‌্যাবের সহযোগিতায় মামলার এজাহারভুক্ত ৬ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাগমারায় ভ্যানচালক ওমর ফারুক হত্যা মামলায় ৬ আসামি গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৭:০৭:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারায় চুরির অভিযোগে নির্যাতনের শিকার হয়ে নিহত ভ্যানচালক ওমর ফারুক হত্যা মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মঙ্গলবার রাতে নাটোর থেকে তাদের আটক করে র‌্যাব-৫, পরে বাগমারা থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদুল আলম।

গ্রেপ্তাররা হলেন— দেউলা গ্রামের সিএনজিচালক রেজাউল করিম (৪৭) ও হাবিবুর রহমান (৫৫), মাঝিগ্রামের আবদুল মতিন (৪০), দরগামড়িয়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিক ড্রাইভার (৪০), ভবানীগঞ্জ গ্রামের চা দোকানি আসাদুল ইসলাম (৩৬) এবং মধুপুর গ্রামের আবদুল হান্নান (৩৮)।

বাগমারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আবু জাহিদ শেখ জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই এজাহারভুক্ত আসামি। গত বৃহস্পতিবার নিহতের বাবা মোসলেম আলী সরদার বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও ১০–১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ১৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ভবানীগঞ্জ সিএনজি স্ট্যান্ডে ভ্যানচালক ওমর ফারুককে চুরির অভিযোগে আটকে নির্যাতন চালানো হয়। সমিতির সভাপতি রেজাউল করিম ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিনের নির্দেশে অন্য সদস্যরা লোহার রড দিয়ে পেটায়। একপর্যায়ে ফারুক মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে প্রাচীরের পাশে দাঁড় করিয়ে আবারও নির্যাতন করা হয়।

নির্যাতনের পর তার কাছ থেকে ‘গাঁজা উদ্ধারের’ নাটক সাজিয়ে বিষয়টি ভ্রাম্যমাণ আদালতে জানানো হয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভূঞা তখন ফারুককে ১০০ টাকা অর্থদণ্ড ও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

পরবর্তীতে অসুস্থ অবস্থায় তাকে প্রথমে বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ২০ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ওসি সাইদুল আলম বলেন, “র‌্যাবের সহযোগিতায় মামলার এজাহারভুক্ত ৬ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”