০৯:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভাইরাল নারী পুলিশ নন, তবুও পুলিশের পোশাক পরে টিকটক ভিডিও

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২২:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৯৫৮ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী প্রতিনিধি: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে পুলিশের পোশাক পরে ভিডিও বানিয়ে ভাইরাল হয়েছেন এক নারী। ভিডিওগুলোতে কখনও তাকে পুলিশের ইউনিফর্মে, আবার কখনও সাধারণ পোশাকে দেখা গেছে। বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
ভিডিওগুলো ছড়িয়ে পড়ার পর কমেন্টবক্সে চলছে সমালোচনার ঝড়। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন— পুলিশের পোশাক পরে সাধারণ একজন নারী কীভাবে এমন কনটেন্ট বানাতে পারেন?

ভিডিওর নেপথ্যে পাওয়া গেল নতুন তথ্য

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে সাংবাদিকরা অনুসন্ধানে গেলে টিকটকে ভাইরাল সেই নারীকে রাজশাহী কোর্ট স্টেশন এলাকার হাবিবুর রহমানের বাসাবাড়িতে পাওয়া যায়। সেখানে তিনি পুলিশের এক কনস্টেবল সাইফুজ্জামান–এর সঙ্গে বসবাস করছিলেন।

জানা গেছে, সাইফুজ্জামান রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি)কাশিয়াডাঙ্গা থানায় কর্মরত।

টিকটকে যিনি নিজেকে নুসরাত জাহান (Nusrat Jahan) নামে পরিচয় দেন, তার প্রকৃত নাম সীমা খাতুন। তিনি কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার কেউপুর গ্রামের বাদশা মালিথার মেয়ে।

স্থানীয় সূত্র ও পারিবারিক অভিযোগ অনুযায়ী, তারা বিয়ে না করেই একসঙ্গে বসবাস করছেন (লিভ টুগেদার)। সাংবাদিকরা উপস্থিত হলে দুজনই নিজেদের বিয়ের কথা বললেও, বিয়ের তারিখ ও কাজীর নাম কেউই সঠিকভাবে জানাতে পারেননি।

পরবর্তীতে ওই নারীর পরিবারের সঙ্গে কথা বললে, তার মা ও ভাই জানান— তাদের মেয়ে সীমা এখনো বিয়ে করেননি।


এ বিষয়ে কাশিয়াডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)–কে অবহিত করা হলে, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

আইনগত দিক থেকে কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, পুলিশের পোশাক পরিধান করে ভিডিও বানানো বা তা সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা কোনোভাবেই বৈধ নয়।

বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৭০ ও ১৭১ ধারা অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীর ছদ্মবেশ ধারণ করা বা অনুমতি ছাড়া সরকারি ইউনিফর্ম ব্যবহার করা ফৌজদারি অপরাধ, যার জন্য কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে।

একজন আইনজীবী বলেন, “পুলিশের পোশাক রাষ্ট্রের প্রতীক। এটি পরিধান করে টিকটক ভিডিও বানানো জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে।”

পুলিশের প্রতিক্রিয়া
বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে আরএমপি’র মিডিয়া মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, “এই ধরনের ভিডিও বা ঘটনা আমাদের নজরে আসেনি। যেহেতু বিষয়টি আমাদের জানানো হয়েছে, আমরা খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। অপরাধ করলে কেউ ছাড় পাবে না।”

পেছনে নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, ওই নারীর টিকটক কর্মকাণ্ড ছাড়াও তার বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেন ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। একাধিক অডিও কথোপকথন ও যোগাযোগের তথ্য ইতোমধ্যে সাংবাদিকদের হাতে এসেছে, যা তদন্তাধীন রয়েছে।
একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “পুলিশের পোশাকের অপব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যদি কেউ তা করে, কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে— এটি কি কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জনের প্রয়াস, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো উদ্দেশ্য? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এখন এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ভাইরাল নারী পুলিশ নন, তবুও পুলিশের পোশাক পরে টিকটক ভিডিও

আপডেট সময় : ০২:২২:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

রাজশাহী প্রতিনিধি: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে পুলিশের পোশাক পরে ভিডিও বানিয়ে ভাইরাল হয়েছেন এক নারী। ভিডিওগুলোতে কখনও তাকে পুলিশের ইউনিফর্মে, আবার কখনও সাধারণ পোশাকে দেখা গেছে। বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
ভিডিওগুলো ছড়িয়ে পড়ার পর কমেন্টবক্সে চলছে সমালোচনার ঝড়। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন— পুলিশের পোশাক পরে সাধারণ একজন নারী কীভাবে এমন কনটেন্ট বানাতে পারেন?

ভিডিওর নেপথ্যে পাওয়া গেল নতুন তথ্য

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে সাংবাদিকরা অনুসন্ধানে গেলে টিকটকে ভাইরাল সেই নারীকে রাজশাহী কোর্ট স্টেশন এলাকার হাবিবুর রহমানের বাসাবাড়িতে পাওয়া যায়। সেখানে তিনি পুলিশের এক কনস্টেবল সাইফুজ্জামান–এর সঙ্গে বসবাস করছিলেন।

জানা গেছে, সাইফুজ্জামান রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি)কাশিয়াডাঙ্গা থানায় কর্মরত।

টিকটকে যিনি নিজেকে নুসরাত জাহান (Nusrat Jahan) নামে পরিচয় দেন, তার প্রকৃত নাম সীমা খাতুন। তিনি কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার কেউপুর গ্রামের বাদশা মালিথার মেয়ে।

স্থানীয় সূত্র ও পারিবারিক অভিযোগ অনুযায়ী, তারা বিয়ে না করেই একসঙ্গে বসবাস করছেন (লিভ টুগেদার)। সাংবাদিকরা উপস্থিত হলে দুজনই নিজেদের বিয়ের কথা বললেও, বিয়ের তারিখ ও কাজীর নাম কেউই সঠিকভাবে জানাতে পারেননি।

পরবর্তীতে ওই নারীর পরিবারের সঙ্গে কথা বললে, তার মা ও ভাই জানান— তাদের মেয়ে সীমা এখনো বিয়ে করেননি।


এ বিষয়ে কাশিয়াডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)–কে অবহিত করা হলে, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

আইনগত দিক থেকে কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, পুলিশের পোশাক পরিধান করে ভিডিও বানানো বা তা সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা কোনোভাবেই বৈধ নয়।

বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৭০ ও ১৭১ ধারা অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীর ছদ্মবেশ ধারণ করা বা অনুমতি ছাড়া সরকারি ইউনিফর্ম ব্যবহার করা ফৌজদারি অপরাধ, যার জন্য কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে।

একজন আইনজীবী বলেন, “পুলিশের পোশাক রাষ্ট্রের প্রতীক। এটি পরিধান করে টিকটক ভিডিও বানানো জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে।”

পুলিশের প্রতিক্রিয়া
বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে আরএমপি’র মিডিয়া মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, “এই ধরনের ভিডিও বা ঘটনা আমাদের নজরে আসেনি। যেহেতু বিষয়টি আমাদের জানানো হয়েছে, আমরা খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। অপরাধ করলে কেউ ছাড় পাবে না।”

পেছনে নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, ওই নারীর টিকটক কর্মকাণ্ড ছাড়াও তার বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেন ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। একাধিক অডিও কথোপকথন ও যোগাযোগের তথ্য ইতোমধ্যে সাংবাদিকদের হাতে এসেছে, যা তদন্তাধীন রয়েছে।
একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “পুলিশের পোশাকের অপব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যদি কেউ তা করে, কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে— এটি কি কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জনের প্রয়াস, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো উদ্দেশ্য? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এখন এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করায়।