০৮:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে কৃষক ও উত্তরবঙ্গকে স্বপ্নের বার্তা দিলেন তারেক রহমান

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:২৫:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৫১৫ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী প্রতিনিধি: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান।


বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। দীর্ঘ ২২ বছর পর রাজশাহীতে এটিই ছিল তারেক রহমানের প্রথম জনসভা। তার আগমনকে ঘিরে মাদরাসা মাঠে জনস্রোত সৃষ্টি হয়।


তারেক রহমান বলেন, “গত ১৭ বছরে দেশের মানুষের জন্য কোনো বাস্তব উন্নয়ন হয়নি। উন্নয়নের নামে হয়েছে মেগা দুর্নীতি।” তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে শুরু হওয়া বরেন্দ্র প্রকল্প বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শাসনামলে আরও সম্প্রসারিত হয়েছিল। “বর্তমানে প্রকল্পটি প্রায় অচল। আমরা ক্ষমতায় গেলে বরেন্দ্র প্রকল্প পুনরায় চালু করব, খাল খনন করা হবে এবং পদ্মা নদী পুনরায় খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে,” বলেন তিনি।


পদ্মা পাড়ের মানুষের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, “ধানের শীষ সরকার গঠন করলে ইনশাআল্লাহ আমরা পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের কাজে হাত দিব। পদ্মা ব্যারেজ তৈরি হলে রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলের কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা ও জীবিকার ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হবে।”
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “বিএনপি শান্তিতে বিশ্বাস করে, সংঘাতের রাজনীতি করে না। আমি কাউকে সমালোচনা করতে চাই না। সমালোচনা করে কারও পেট ভরে না। আমাদের লক্ষ্য দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন।” তিনি উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নের স্বার্থে রাজশাহীসহ প্রতিটি আসনে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।


রাজশাহী শিক্ষা নগরী হিসেবে পরিচিত হলেও এখানে কর্মসংস্থানের বড় সংকট রয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “রাজশাহীতে একটি আইটি পার্ক থাকলেও সেটি কার্যত অচল অবস্থায় আছে। বিএনপি সরকার গঠন করলে আমরা এই আইটি পার্ক সচল করব এবং দক্ষ তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করব।” তরুণদের বেকারত্ব নিরসনে তিনি আরও বলেন, “ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট স্থাপনের মাধ্যমে তরুণ ও নারীদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা হবে। প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা দেশে নিজস্ব ব্যবসা করতে পারবেন কিংবা বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন।”


কৃষকদের আর্থিকভাবে লাভবান করতে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলে আধুনিক হিমাগার স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ আম উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত হলেও এখানে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই, ফলে চাষিরা ন্যায্য মূল্য পান না। বিএনপি সরকার গঠন করলে আম সংরক্ষণের জন্য আধুনিক হিমাগার নির্মাণ করা হবে।”


নারীদের ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রতিটি পরিবারের নারীর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। এছাড়া উন্নত চিকিৎসা সেবার জন্য রাজশাহীতে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে।”
জনসভা শেষে রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মোট ১৩ জন বিএনপি মনোনীত সংসদীয় প্রার্থীর পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামনুর রশীদ মামুন, সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন।
এতে বক্তব্য দেন বিএনপির রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকতসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।


কর্মসূচি অনুযায়ী, রাজশাহী জনসভা শেষে তিনি নওগাঁর উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে এটিম মাঠে আরেকটি সমাবেশে বক্তব্য দিয়ে রাতেই বগুড়ার আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আরেকটি জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাজশাহীতে কৃষক ও উত্তরবঙ্গকে স্বপ্নের বার্তা দিলেন তারেক রহমান

আপডেট সময় : ০৪:২৫:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

রাজশাহী প্রতিনিধি: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান।


বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। দীর্ঘ ২২ বছর পর রাজশাহীতে এটিই ছিল তারেক রহমানের প্রথম জনসভা। তার আগমনকে ঘিরে মাদরাসা মাঠে জনস্রোত সৃষ্টি হয়।


তারেক রহমান বলেন, “গত ১৭ বছরে দেশের মানুষের জন্য কোনো বাস্তব উন্নয়ন হয়নি। উন্নয়নের নামে হয়েছে মেগা দুর্নীতি।” তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে শুরু হওয়া বরেন্দ্র প্রকল্প বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শাসনামলে আরও সম্প্রসারিত হয়েছিল। “বর্তমানে প্রকল্পটি প্রায় অচল। আমরা ক্ষমতায় গেলে বরেন্দ্র প্রকল্প পুনরায় চালু করব, খাল খনন করা হবে এবং পদ্মা নদী পুনরায় খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে,” বলেন তিনি।


পদ্মা পাড়ের মানুষের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, “ধানের শীষ সরকার গঠন করলে ইনশাআল্লাহ আমরা পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের কাজে হাত দিব। পদ্মা ব্যারেজ তৈরি হলে রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলের কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা ও জীবিকার ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হবে।”
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “বিএনপি শান্তিতে বিশ্বাস করে, সংঘাতের রাজনীতি করে না। আমি কাউকে সমালোচনা করতে চাই না। সমালোচনা করে কারও পেট ভরে না। আমাদের লক্ষ্য দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন।” তিনি উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নের স্বার্থে রাজশাহীসহ প্রতিটি আসনে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।


রাজশাহী শিক্ষা নগরী হিসেবে পরিচিত হলেও এখানে কর্মসংস্থানের বড় সংকট রয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “রাজশাহীতে একটি আইটি পার্ক থাকলেও সেটি কার্যত অচল অবস্থায় আছে। বিএনপি সরকার গঠন করলে আমরা এই আইটি পার্ক সচল করব এবং দক্ষ তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করব।” তরুণদের বেকারত্ব নিরসনে তিনি আরও বলেন, “ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট স্থাপনের মাধ্যমে তরুণ ও নারীদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা হবে। প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা দেশে নিজস্ব ব্যবসা করতে পারবেন কিংবা বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন।”


কৃষকদের আর্থিকভাবে লাভবান করতে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলে আধুনিক হিমাগার স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ আম উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত হলেও এখানে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই, ফলে চাষিরা ন্যায্য মূল্য পান না। বিএনপি সরকার গঠন করলে আম সংরক্ষণের জন্য আধুনিক হিমাগার নির্মাণ করা হবে।”


নারীদের ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রতিটি পরিবারের নারীর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। এছাড়া উন্নত চিকিৎসা সেবার জন্য রাজশাহীতে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে।”
জনসভা শেষে রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মোট ১৩ জন বিএনপি মনোনীত সংসদীয় প্রার্থীর পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামনুর রশীদ মামুন, সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন।
এতে বক্তব্য দেন বিএনপির রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকতসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।


কর্মসূচি অনুযায়ী, রাজশাহী জনসভা শেষে তিনি নওগাঁর উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে এটিম মাঠে আরেকটি সমাবেশে বক্তব্য দিয়ে রাতেই বগুড়ার আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আরেকটি জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।