নির্বাচনী সহিংসতায় উত্তপ্ত দেশ, জামায়াত নেতার মৃত্যুতে বিক্ষোভ-বিশৃঙ্খলা
- আপডেট সময় : ০৫:১০:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৫১০ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরুর পর থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা ও সহিংসতার ঘটনা বেড়েই চলেছে। সর্বশেষ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) শেরপুরে নির্বাচনী সহিংসতায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গন আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সারাদেশে বিক্ষোভ, রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এবং দলীয় সমাবেশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা
জামায়াত নেতার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বুধবার গভীর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতৃত্বে শতাধিক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এরপর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও একই দাবিতে প্রতিবাদে যোগ দেন।
এছাড়া বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দেশব্যাপী সহিংসতা ও রেজাউল করিমের মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ আয়োজন করে।
ঘটনার পর প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে শেরপুরের সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “এই নিন্দনীয় ঘটনার প্রেক্ষিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমরা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছি।”
জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিমের মৃত্যুর জন্য বিএনপিকে দায়ী করে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন,
“প্রয়োজনে দেশের জন্য জীবন দেবো, কিন্তু জনগণের অধিকার হরণ হতে দেবো না। ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশের চিত্র পাল্টে যাবে।” তিনি আরও বলেন, “এখন ভরা মাঘ মাস, এখনই মাথা এত গরম হলে চৈত্র মাসে কী হবে? গায়ের জোরে কিছু করা যাবে না।”
দেশব্যাপী সহিংসতার বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “জনগণ যার পাশে থাকে, তাকে কেউ আটকাতে পারে না। বিএনপি আজ মানুষের ভালোবাসায় টিকে আছে। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো।”
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “এক স্বৈরাচারকে হটিয়ে আরেক স্বৈরাচারকে ক্ষমতায় বসাতে চাই না। চাঁদাবাজির রাজনীতির কারণে দেশের সম্ভাবনা ধ্বংস হচ্ছে।”
অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, “জামায়াতসহ ৮ দলীয় জোট গঠন করে আমরা এগোচ্ছিলাম। কিন্তু জামায়াত একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্য দল যুক্ত করেছে। আমাদের ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে।”
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, “সরকার, এনসিপি ও জামায়াত এখন এক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন সংঘর্ষ হচ্ছে, মানুষ মারা যাচ্ছে—এ অবস্থায় সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।”
সরকারের আশ্বাস ও নিরাপত্তা জোরদার
সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন,
“১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ করতে সব বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভোটের দিন কোনো ধরনের সহিংসতা বরদাস্ত করা হবে না।” তিনি আরও বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে। জনগণকে নিশ্চিন্তে ভোট দিতে আমরা প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিয়েছি।”
নির্বাচন ঘিরে সহিংসতার মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিক্ষোভ, প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে আগামী নির্বাচনের আগে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তা ও শঙ্কা বিরাজ করছে।












