মাদকমুক্ত, উন্নত ও শিক্ষিত পবা-মোহনপুর গড়তে চাই: মিলন
- আপডেট সময় : ০১:২৫:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ৫৪৪ বার পড়া হয়েছে
রাজশাহী প্রতিনিধি: জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র চার দিন বাকি। শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় প্রার্থীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। কিন্তু পবা–মোহনপুর আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রার্থী, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলনও পিছিয়ে নেই।
শনিবার দুপুরে পবার নওহাটা এলাকা থেকে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন। গণসংযোগকালে মিলন বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে পবা–মোহনপুরবাসীর সঙ্গে রয়েছি। এ এলাকার মানুষের চাহিদা, সমস্যা ও করণীয় সম্পর্কে আমি সম্পূর্ণ অবগত। নির্বাচিত হলে অগ্রাধিকারভিত্তিতে এসব সমস্যার সমাধানে কার্যক্রম গ্রহণ করব।”
তিনি আরও বলেন, “পবা ও মোহনপুরের অধিকাংশ রাস্তাঘাট ভাঙাচোরা এবং চলাচলের অনুপযোগী। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে নির্বাচনের ছয় মাসের মধ্যেই রাস্তাঘাটের উন্নয়নকাজ শুরু করা হবে।”
কৃষি সংক্রান্ত পরিকল্পনা নিয়ে মিলন জানান, “পবা–মোহনপুর একটি কৃষিপ্রধান এলাকা। ধান, পান, মাছসহ বিভিন্ন ফসল ব্যাপকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে। কিন্তু সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নির্বাচিত হলে আমি কৃষি হাব, বীজ সংরক্ষণাগার এবং একটি কৃষি ইপিজেড স্থাপনের উদ্যোগ নেব।”
মিলন বেকার যুবক ও উদ্যোক্তা তৈরির প্রশিক্ষণের প্রতিশ্রুতিও দেন। এছাড়াও তিনি বলেন, “কৃষি কলেজ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং বিসিক-২ এর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেওয়া হবে।”
মাদক দমন প্রসঙ্গে মিলন জানান, “পবা–মোহনপুর এলাকা থেকে মাদক সেবন ও ব্যবসা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা হবে। মাদকের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় কঠোর শাস্তি প্রদান করা হবে।”
শিক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। বর্তমান সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। নির্বাচিত হলে প্রকৃত ইতিহাসভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণি থেকে ক্রীড়া শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে।”
স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিও দেন মিলন, “প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আধুনিকায়ন করা হবে এবং পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে, যাতে গ্রামীণ মানুষ বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে।”
পানি দূষণ দূরীকরণের প্রতিশ্রুতিও তিনি দেন। “রাজশাহীর খাল ও নদীতে দূষিত পানি পড়ছে, যা কৃষকের সেচের কাজে ব্যবহার হচ্ছে। এটি সমাধানে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে।”
মিলন বলেন, “বিএনপি চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস বা ভূমি দখলের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। যারা এসব অপকর্মে জড়িত, তাদের নির্বাচিত হলে আইনের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “নির্বাচনী ষড়যন্ত্রে জড়ানো যাবে না। আসুন সবাই নির্বাচনে অংশ নেই এবং পবা–মোহনপুরের উন্নয়নে ভোট দিই।”
গণসংযোগকালে বিভিন্ন এলাকার ভোটাররা জানান, “যত ষড়যন্ত্রই হোক না কেন, উন্নয়নের স্বার্থে আমরা ভোট দেব। ধানের শীষের পক্ষে আমরা আছি এবং থাকব।”
সংযোগকালে বিএনপিপন্থী আইনজীবী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।









