০৯:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে লাইসেন্সবিহীন কেমিক্যাল ব্যবসায় নীরব প্রশাসন

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৬:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৫৬৩ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী প্রতিনিধি: এসিড নিয়ন্ত্রণ আইন চরমভাবে অমান্য করা হচ্ছে রাজশাহীতে। সরকারি অনুমোদন বা লাইসেন্স ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে এসিড আমদানি, ব্যবহার ও বিক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে নগরীর বোসপাড়া এলাকায় অবস্থিত মেসার্স আনোয়ার কেমিক্যাল বাংলাদেশ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এসিড নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স ছাড়া এসিড আমদানি, পরিবহন, সংরক্ষণ, ব্যবহার বা বিক্রি করতে পারে না। আইনটি মূলত এসিডের অপব্যবহার রোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রণীত। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, আনোয়ার কেমিক্যাল লাইসেন্স ছাড়াই এসিড আমদানি করে ড্যাম ফিক্সসহ বিভিন্ন কেমিক্যাল পণ্য উৎপাদন করছে এবং বাজারে বিক্রি করছে। এছাড়া লাইসেন্সবিহীন অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কাছেও বেআইনিভাবে এসিড বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বৈধ লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলো অভিযোগ করছেন, তারা নিয়ম মেনে ব্যবসা চালাচ্ছেন, কিন্তু লাইসেন্স ছাড়া এসিড বিক্রি হওয়ায় অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন। ওয়ারিশ শাহ কেমিক্যাল বাংলাদেশ-এর স্বত্বাধিকারী মোঃ কাওসার আলী লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, তিনি ২০১৬ সালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এসিড লাইসেন্স গ্রহণ করেছেন এবং প্রতিবছর নবায়ন করছেন। তিনি বলেন, “লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের ক্ষতি করছে। পাশাপাশি, এসিডের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।”

অভিযোগকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন, যেখানে বৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে কঠোর নিয়ম, নবায়ন প্রক্রিয়া ও তদারকির মধ্যে রাখতে হচ্ছে, সেখানে কীভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন লাইসেন্স ছাড়া কার্যক্রম চালাতে পারছে। এটি প্রশাসনের নজরদারিতে ঘাটতির ইঙ্গিত দিচ্ছে কি, নাকি বিষয়টি জানাজানি হলেও উপেক্ষা করা হচ্ছে?

অভিযোগে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে, রাজশাহীতে এসিড ব্যবহার ও বিক্রয়ের সঙ্গে যুক্ত সব প্রতিষ্ঠান বৈধ লাইসেন্সের আওতায় আছে কি না তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মেসার্স আনোয়ার কেমিক্যালের কতৃপক্ষ আনোয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি এবং আমার পার্টনার প্রতিষ্ঠান কনফিডেন্স কেমিক্যাল যৌথভাবে বৈধ প্রক্রিয়ায় সব কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আমাদের কোনো অবৈধ কার্যক্রম নেই।”

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাজশাহীতে লাইসেন্সবিহীন কেমিক্যাল ব্যবসায় নীরব প্রশাসন

আপডেট সময় : ১১:২৬:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজশাহী প্রতিনিধি: এসিড নিয়ন্ত্রণ আইন চরমভাবে অমান্য করা হচ্ছে রাজশাহীতে। সরকারি অনুমোদন বা লাইসেন্স ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে এসিড আমদানি, ব্যবহার ও বিক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে নগরীর বোসপাড়া এলাকায় অবস্থিত মেসার্স আনোয়ার কেমিক্যাল বাংলাদেশ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এসিড নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স ছাড়া এসিড আমদানি, পরিবহন, সংরক্ষণ, ব্যবহার বা বিক্রি করতে পারে না। আইনটি মূলত এসিডের অপব্যবহার রোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রণীত। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, আনোয়ার কেমিক্যাল লাইসেন্স ছাড়াই এসিড আমদানি করে ড্যাম ফিক্সসহ বিভিন্ন কেমিক্যাল পণ্য উৎপাদন করছে এবং বাজারে বিক্রি করছে। এছাড়া লাইসেন্সবিহীন অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কাছেও বেআইনিভাবে এসিড বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বৈধ লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলো অভিযোগ করছেন, তারা নিয়ম মেনে ব্যবসা চালাচ্ছেন, কিন্তু লাইসেন্স ছাড়া এসিড বিক্রি হওয়ায় অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন। ওয়ারিশ শাহ কেমিক্যাল বাংলাদেশ-এর স্বত্বাধিকারী মোঃ কাওসার আলী লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, তিনি ২০১৬ সালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এসিড লাইসেন্স গ্রহণ করেছেন এবং প্রতিবছর নবায়ন করছেন। তিনি বলেন, “লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের ক্ষতি করছে। পাশাপাশি, এসিডের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।”

অভিযোগকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন, যেখানে বৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে কঠোর নিয়ম, নবায়ন প্রক্রিয়া ও তদারকির মধ্যে রাখতে হচ্ছে, সেখানে কীভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন লাইসেন্স ছাড়া কার্যক্রম চালাতে পারছে। এটি প্রশাসনের নজরদারিতে ঘাটতির ইঙ্গিত দিচ্ছে কি, নাকি বিষয়টি জানাজানি হলেও উপেক্ষা করা হচ্ছে?

অভিযোগে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে, রাজশাহীতে এসিড ব্যবহার ও বিক্রয়ের সঙ্গে যুক্ত সব প্রতিষ্ঠান বৈধ লাইসেন্সের আওতায় আছে কি না তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মেসার্স আনোয়ার কেমিক্যালের কতৃপক্ষ আনোয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি এবং আমার পার্টনার প্রতিষ্ঠান কনফিডেন্স কেমিক্যাল যৌথভাবে বৈধ প্রক্রিয়ায় সব কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আমাদের কোনো অবৈধ কার্যক্রম নেই।”