শান্তি, স্বচ্ছতা ও উন্নয়নের প্রত্যাশায় ভোটাররা
নির্বাচনকে ঘিরে সরগরম পবা-মোহনপুরের ভোটের মাঠ, ধানের শীষ নাকি দাঁড়িপাল্লা
- আপডেট সময় : ০১:৩৯:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ৫৩৭ বার পড়া হয়েছে
মোঃ শাহীন সাগর: দরজায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। ভোটের আর মাত্র ৩ দিন বাকি। ৫৪, রাজশাহী-৩ পবা–মোহনপুর আসনে এখন ভোটের হাওয়া বইছে প্রবলভাবে। প্রার্থীদের ব্যস্ততা, প্রচার মিছিল, উঠান বৈঠক আর থিম সং এর সুরে সরগরম নির্বাচনী মাঠ। মাঘের হালকা শীতও জমে থাকা উত্তেজনায় যেন উড়ে গেছে।
প্রথমবারের মতো পোস্টারবিহীন নির্বাচন, তাই এবার জোর পড়েছে ডিজিটাল প্রচারণায়। ফেসবুক, ইউটিউব, এমনকি লাউডস্পিকারে বাজছে দলের নিজস্ব থিম সং। গ্রাম থেকে গ্রাম, পাড়া থেকে মহল্লা—সবখানেই চলছে ভোটের আলোচনা। ভোট কেন্দ্রগুলিতে লাগানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। খোলা হয়েছে মনিটরিং সেল। চলছে পোস্টাল ব্যালটের ভোট।
পবা–মোহনপুর আসনে এবার বিএনপি, ১০ দল সমর্থিত জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, আমজনতার দল এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচন কমিশন আওয়ামীলীগ দলটির নিবন্ধনও বাতিল করায় এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেনা আওয়ামীলীগ।

প্রার্থীরা নিজেদের সমর্থকদের নিয়ে একের পর এক সভা-সমাবেশ, গণসংযোগ আর মিছিল-মিটিং করছেন। কোথাও কোথাও পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণেও উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। এবারের নির্বাচনে বিএনপির স্লোগান সবার আগে বাংলাদেশ আর জামায়াতে ইসলামির স্লোগান চলো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ।
আগে যারা আওয়ামী লীগকে ভোট দিতেন, তাদের বড় একটি অংশ এবার অন্য দলের দিকে ঝুঁকছেন। বিশেষ করে দলটির প্রায় ৪৮.৯ শতাংশ ভোটারের পছন্দ এখন বিএনপি। এছাড়া তরুণ ভোটারদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে জামায়াতে ইসলামীর নাম। ২৯.৯ শতাংশ জামায়াতকে, ৬.৯ শতাংশ জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপিকে ও ১৩ শতাংশ অন্যান্যদলকে ভোট দিতে চান ভোটাররা। এবার নির্বাচনে ভোট দিতে চান ৯০ শতাংশের বেশি ভোটার। ‘আনকভারিং দ্য পাবলিক পালস’ শীর্ষক এক জরিপে উঠে এসেছে এমন আভাস।
পবা–মোহনপুরের নবীন ও প্রবীণ ভোটাররা এবার বলছেন-“প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি নয়, আমরা চাই কাজের প্রমাণ। শান্তিপূর্ণ, সহিংসতামুক্ত ভোটই হোক আগামী দিনের প্রথম শর্ত।”
তরুণ ভোটারদের দাবি—নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না হলে নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এবারের ভোটে এ আসনে ছয়জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করলেও ভোটের মঞ্চে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে। এবার নারী ভোটাররাই নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবেন। ভোট বিশ্লেষকরা বলছেন এ আসনে এখন পর্যন্ত ভোট যুদ্ধে এগিয়ে আছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এ্যাড. শফিকুল হক মিলন।
ভোটারদের প্রত্যাশা: শান্তি, উন্নয়ন ও সত্যিকারের জনসেবককে তারা সংসদে পাঠাবেন।
এবিষয়ে মোহনপুর উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুব আর রশিদ বলেন, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে মানুষ যদি ভোট সেন্টারে যেতে পারে তাহলে ধানের শীষের ভুমিধ্বস বিজয় হবে ইনশাআল্লাহ।
সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজিম উদ্দিন বলেন, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলনের জনপ্রিয়তা তৃণমূলে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তৃণমূল মানুষের সাড়া–উৎসাহ দেখে বোঝা যায়, পবা–মোহনপুরে এক ভোট বিপ্লব ঘটবে। তারেক রহমানের পরেই সবচেয়ে বেশি ভোটের ব্যবধান হবে এই আসনে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেন, “আমি পবা–মোহনপুরবাসীর সুখ–দুঃখের অংশীদার। নির্বাচিত হলে রাস্তাঘাট উন্নয়ন, কৃষি হাব, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আধুনিকায়ন ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার কাজ করব। মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সংসদে কথা বলব।
অন্যদিকে, মোহনপুর উপজেলা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমির ও প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট (সদস্য সচিব) অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল আওয়াল বলেছেন, কিছু এলাকায় মহিলা কর্মীদের হেনস্তার অভিযোগ পাওয়া গেলেও সামগ্রিকভাবে নির্বাচনী পরিবেশ শান্ত রয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠন যেভাবে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে, আমরাও এই আসনে তেমনই এক ভূমিধ্বস বিজয় অর্জন করব ইনশাআল্লাহ। নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে আমরা শতভাগ আশাবাদী।” ন্যায় ও নিঃস্বার্থ রাষ্ট্র গঠনই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী অধ্যাপক মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, “মানুষ পরিবর্তন চায়। ন্যায়ভিত্তিক কল্যাণকর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট হবে জনগণের জাগরণের দিন। ইনশাআল্লাহ দাঁড়িপাল্লার বিজয়ের মধ্য দিয়ে সুশাসনের নতুন যাত্রা শুরু হবে।”
রাজশাহী-৩ (পবা–মোহনপুর) আসনে মোট ৪ লাখ ২৩ হাজার ৭৩৮ জন ভোটার রয়েছেন। পুরুষ ভোটার: ২,১০,৮৯৭ জন, নারী ভোটার: ২,১২,৮৩৫ জন, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার: ৬ জন, মোট কেন্দ্র: ১৩১টি।
এ আসনে অন্যান্য যারা প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন তারা হলেন মোঃ আফজাল হোসেন-জাতীয় পার্টি (লাঙল), মোঃ ফজলুর রহমান-ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (হাতপাখা), মোঃ সাইদ পরভেজ-আমজনতার দল (প্রজাতি), হাবিবা বেগম-স্বতন্ত্র (ফুটবল)
অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে এ আসনে নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা, আচরণবিধি রক্ষার্থে দুইজন করে ৪জন নির্বাচনী দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটসহ যৌথ বাহিনীর চেক পোস্ট ও নির্বাচনের স্বচ্ছতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। আধুনিক প্রযুক্তি—বডি ওর্ন ক্যামেরা, ড্রোনসহ—ব্যবহার করে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি দ্রুত শনাক্ত ও মোকাবিলা করা হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে র্যাপিড অ্যাকশন টিম ও কুইক রেসপন্স ফোর্স সর্বদা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে হেলিকপ্টার ব্যবহারের ব্যবস্থাও রয়েছে।
বিগত সালগুলোতে এ আসনে বিএনপি, আওয়ামীলীগ, জাতীয়পার্টি পাল্টাপাল্টি আধিপত্য ছিল। এ আসনে আওয়ামীলীগ নৌকা প্রতীক নিয়ে ২০০৮ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত টানা ৪বার, ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ পর্যন্ত ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপি ২ বার, ১৯৯১ সালে জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীক ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।









