০৬:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মোহনপুরে মিলনকে ঘিরে জনতার ঢল, ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ জনতা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:০৭:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৫২৫ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী প্রতিনিধি: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশের মতো রাজশাহী–৩ (পবা–মোহনপুর) আসনেও জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন।


রোববার সকালে মোহনপুর উপজেলার রায়ঘাটি ইউনিয়নের কামারপাড়া বাজার এলাকা থেকে তিনি নির্বাচনী গণসংযোগ শুরু করেন। এ সময় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা তার সঙ্গে অংশ নেন।
গণসংযোগকালে অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেন, নির্বাচিত হলে পবা–মোহনপুর উপজেলাকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তিনি দাবি করেন, মোহনপুরের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ধর্মীয় বিষয়কে নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত করে মানুষের অনুভূতি নিয়ে রাজনীতি করছে। “তারা নির্বাচন নিয়ে খেলা করেই ক্ষান্ত হয়নি, মানুষের কাছে বেহেশতের টিকিট বিক্রি করছে। মানুষের ঈমান-আমান নিয়ে ছিনিমিনি খেলা থেকে তাদের বিরত থাকা উচিত,” বলেন তিনি। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “মিথ্যাচার ও প্ররোচনার ফাঁদে পড়ে ঈমান হারা হবেন না।”


বিএনপি ক্ষমতায় গেলে নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে বিশেষ ভূমিকা রাখা হবে উল্লেখ করে মিলন নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি প্রাথমিক স্তর থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার কথাও বলেন।
তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে পতিত সরকার জনগণের ওপর অন্যায় অত্যাচার চালিয়েছে। বিএনপির বহু নেতাকর্মী হত্যা, গুম ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করে রাষ্ট্রকে অকার্যকর করা হয়েছে।” এ সময় তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন।


স্থানীয় উন্নয়ন প্রসঙ্গে মিলন বলেন, মোহনপুরের রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করা হবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, পুরোহিত ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের জন্য সম্মানজনক ভাতার ব্যবস্থা এবং কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে শিল্পকারখানা স্থাপনের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।


গণসংযোগ চলাকালে নারী-পুরুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অনেক প্রবীণ ব্যক্তি মিলনকে দোয়া করেন এবং সমর্থনের আশ্বাস দেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, তাদের এলাকার রাস্তাগুলোর অবস্থা নাজুক এবং সংস্কারের নামে দুর্নীতির কারণে তারা ভোগান্তিতে আছেন। মিলন নির্বাচিত হলে দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।


এদিকে বিকেলে তিনি মোহনপুর উপজেলার ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নেও গণসংযোগ করেন। সেখানেও সাধারণ মানুষের ঢল নামে। নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ ও শিশুরা রাস্তায় নেমে তাকে স্বাগত জানান। মিলন সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের অভিযোগ শোনেন।

গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামিমুল ইসলাম মুন, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর আর রশিদ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজিম উদ্দিন সরকার, ঘাসিগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল মালেক, সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী মৃধা, কেশরহাট বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন আলো, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোজাদ্দেদ জামানি সুমনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মোহনপুরে মিলনকে ঘিরে জনতার ঢল, ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ জনতা

আপডেট সময় : ০৪:০৭:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

রাজশাহী প্রতিনিধি: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশের মতো রাজশাহী–৩ (পবা–মোহনপুর) আসনেও জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন।


রোববার সকালে মোহনপুর উপজেলার রায়ঘাটি ইউনিয়নের কামারপাড়া বাজার এলাকা থেকে তিনি নির্বাচনী গণসংযোগ শুরু করেন। এ সময় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা তার সঙ্গে অংশ নেন।
গণসংযোগকালে অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেন, নির্বাচিত হলে পবা–মোহনপুর উপজেলাকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তিনি দাবি করেন, মোহনপুরের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ধর্মীয় বিষয়কে নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত করে মানুষের অনুভূতি নিয়ে রাজনীতি করছে। “তারা নির্বাচন নিয়ে খেলা করেই ক্ষান্ত হয়নি, মানুষের কাছে বেহেশতের টিকিট বিক্রি করছে। মানুষের ঈমান-আমান নিয়ে ছিনিমিনি খেলা থেকে তাদের বিরত থাকা উচিত,” বলেন তিনি। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “মিথ্যাচার ও প্ররোচনার ফাঁদে পড়ে ঈমান হারা হবেন না।”


বিএনপি ক্ষমতায় গেলে নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে বিশেষ ভূমিকা রাখা হবে উল্লেখ করে মিলন নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি প্রাথমিক স্তর থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার কথাও বলেন।
তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে পতিত সরকার জনগণের ওপর অন্যায় অত্যাচার চালিয়েছে। বিএনপির বহু নেতাকর্মী হত্যা, গুম ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করে রাষ্ট্রকে অকার্যকর করা হয়েছে।” এ সময় তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন।


স্থানীয় উন্নয়ন প্রসঙ্গে মিলন বলেন, মোহনপুরের রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করা হবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, পুরোহিত ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের জন্য সম্মানজনক ভাতার ব্যবস্থা এবং কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে শিল্পকারখানা স্থাপনের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।


গণসংযোগ চলাকালে নারী-পুরুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অনেক প্রবীণ ব্যক্তি মিলনকে দোয়া করেন এবং সমর্থনের আশ্বাস দেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, তাদের এলাকার রাস্তাগুলোর অবস্থা নাজুক এবং সংস্কারের নামে দুর্নীতির কারণে তারা ভোগান্তিতে আছেন। মিলন নির্বাচিত হলে দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।


এদিকে বিকেলে তিনি মোহনপুর উপজেলার ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নেও গণসংযোগ করেন। সেখানেও সাধারণ মানুষের ঢল নামে। নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ ও শিশুরা রাস্তায় নেমে তাকে স্বাগত জানান। মিলন সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের অভিযোগ শোনেন।

গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামিমুল ইসলাম মুন, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর আর রশিদ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজিম উদ্দিন সরকার, ঘাসিগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল মালেক, সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী মৃধা, কেশরহাট বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন আলো, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোজাদ্দেদ জামানি সুমনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।