বদলির পরও বহাল তবিয়তে রাজশাহী বিএডিসি শ্রমিকলীগ সভাপতি হারুন
- আপডেট সময় : ১০:১৩:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৫৩২ বার পড়া হয়েছে
রাজশাহী প্রতিনিধি: বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)-এর একটি সাম্প্রতিক বদলি আদেশ নিয়ে সংস্থার অভ্যন্তরে নতুন করে চলছে আলোচনা ও সমালোচনা। রাজশাহী থেকে বগুড়ায় বদলির আদেশ হওয়া সত্ত্বেও উপপরিচালক (পাটবীজ) মো. হারুন অর রশিদ এখনও রাজশাহীতেই বহাল আছেন—এ নিয়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে প্রশ্নের সাথে চলছে নানা জল্পনা কল্পনা।

বিএডিসির সংস্থাপন বিভাগ সম্প্রতি এক অফিস আদেশে সীড টেস্টার পদে রাজশাহীতে কর্মরত মো. হারুন অর রশিদকে রাজশাহী থেকে একই পদে বগুড়া দপ্তরে বদলি করা হয়েছে। আদেশটি “অবিলম্বে কার্যকর” বলেও উল্লেখ করা হয়। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তিনি রাজশাহী দপ্তরেই বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।
প্রশাসনিকভাবে এটি একটি নিয়মিত বদলি হলেও, অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে—এটি শুধুই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং বিএডিসির ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক প্রভাব ও শ্রমিক রাজনীতির জটিল সমীকরণের প্রতিফলন।

সূত্রগুলোর দাবি, হারুন অর রশিদ শুধু একজন কর্মকর্তা নন, তিনি রাজশাহী অঞ্চলে বিএডিসি শ্রমিক কর্মচারী লীগের (সিবিএ) সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি জাতীয় শ্রমিক লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতেন।
একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বদলি কাগজে হয়েছে, কিন্তু মাঠে তাঁর দাপট আগের মতোই আছে। প্রশাসনিক নির্দেশ বাস্তবে কার্যকর হয়নি।”
রাজশাহী দপ্তরের আরেকজন কর্মকর্তা জানান, “হারুন অর রশিদের রাজনৈতিক যোগাযোগ ও শ্রমিক সংগঠনে প্রভাব এমন পর্যায়ে যে, তাঁকে সরানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।”
একাধিক সূত্র বলছে, রাজশাহী জেলা শাখায় তাঁর বিকল্প নেতৃত্ব এখনও দৃশ্যমান নয়। ফলে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকেও তাঁকে সরানোর বিষয়ে অনীহা রয়েছে। মাঠপর্যায়ে শ্রমিকদের ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ, কেন্দ্রীয় শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং অতীত রাজনৈতিক সক্রিয়তা মিলিয়ে তিনি এখনও প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছেন।
একজন শ্রমিক সংগঠক বলেন, “জাতীয় শ্রমিক লীগের যেকোনো বড় কর্মসূচিতে হারুন অর রশিদ মানেই সামনের সারি। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানই এখন তাঁকে সুরক্ষা দিচ্ছে।”
বিএডিসির রাজশাহী দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারাও বিষয়টি অস্বীকার করেননি। তাঁদের ভাষায়, “কিছু কর্মকর্তা আছেন যাদের বদলি কেবল কাগজে হয়—হারুন অর রশিদ তাঁদেরই একজন।”
সব মিলিয়ে চিত্রটি স্পষ্ট—প্রশাসনিকভাবে বদলি হলেও রাজনৈতিক বাস্তবতা, শ্রমিক রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের সক্রিয়তা এবং প্রভাববলয়ের কারণে হারুন অর রশিদ এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছেন। রাজশাহীতে তিনি প্রায় ১৬ বছর ধরে কর্মরত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপপরিচালক (পাটবীজ) মো. হারুন অর রশিদ বলেন, “আমি বিএডিসি শ্রমিক লীগের সভাপতি ছিলাম, তবে কোনো অন্যায় বা অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত নই।”
বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য জানতে রাজশাহী বিএডিসির উপপরিচালক এইচ.এস. জাহিদুল ফেরদৌসের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)-এর একটি সাম্প্রতিক বদলি আদেশ এখন কেবল প্রশাসনিক নথির বিষয় নয়; বরং এটি কর্পোরেশনের ভেতরে-বাইরে রাজনৈতিক প্রভাব, শ্রমিক রাজনীতি ও ক্ষমতার সমীকরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজশাহী থেকে বগুড়ায় বদলি হওয়া সত্ত্বেও মো. হারুন অর রশিদ যেভাবে বহাল তবিয়তেই রয়ে গেছেন, তাতে সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট—এটি শুধু বদলির গল্প নয়, এটি রাজনৈতিক দাপট ও দীর্ঘদিনের প্রভাব বলয়ের প্রতিফলন। তিনি বিএডিসি শ্রমিক লীগের সভাপতি ছিলেন। এছাড়াও দীর্ঘদিন দিন উপ- পরিচালকের দ্বায়িত্ব পালন কালে নানা অনিয়ম দূর্নীতি সাথে জড়িয়ে পড়েন। তার বিরুদ্ধে এর আগেও দূর্নীতির সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।
বিএডিসির সংস্থাপন বিভাগ থেকে জারিকৃত অফিস আদেশে সীড টেস্টার পদে কর্মরত মো. হারুন অর রশিদকে উপপরিচালক (পাটবীজ) দপ্তর, বিএডিসি রাজশাহী থেকে একই পদে উপপরিচালক (পাটবীজ) দপ্তর, বিএডিসি বগুড়ায় বদলি করা হয় এবং আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর বলেও উল্লেখ থাকে। প্রশাসনিক দৃষ্টিতে এটি একটি নিয়মিত বদলি হলেও আদেশ জারির পরপরই কর্পোরেশনের অন্দরমহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে—যদি বদলি কার্যকরই হয়, তাহলে কেন তাঁর সাংগঠনিক অবস্থান অটুট রইলো, কেন তিনি এখনও বিএডিসি শ্রমিক কর্মচারী লীগ (সিবিএ)-এর রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতির দায়িত্বে বহাল।
বিএডিসির অভ্যন্তরীণ একাধিক অফিস সূত্র নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থেকে জানায়, এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে মো. হারুন অর রশিদের রাজনৈতিক পরিচয়, মাঠপর্যায়ের দাপট ও দীর্ঘদিনের প্রভাব বলয়ের মধ্যে। সূত্রগুলোর মতে, তিনি কেবল একজন কর্মচারী নন; তিনি রাজশাহী অঞ্চলের শ্রমিক রাজনীতির এমন এক অবস্থানে রয়েছেন, যেখানে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তও রাজনৈতিক বাস্তবতার সীমা অতিক্রম করতে পারে না। এক অফিস সূত্রের ভাষায়, “বদলি কাগজে হয়, কিন্তু ক্ষমতা মাঠে—হারুন অর রশিদের ক্ষেত্রে সেটাই দেখা যাচ্ছে।”
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে উঠে আসে আরও স্পষ্ট চিত্র। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে মো. হারুন অর রশিদ জাতীয় শ্রমিক লীগের ঘনিষ্ঠ দোসর হিসেবেই পরিচিত ছিলেন বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা। একাধিক অফিস সূত্র জানায়, জাতীয় শ্রমিক লীগের মিছিল, সভা ও সমাবেশে তাঁকে নিয়মিত সামনের কাতারে থাকতে দেখা যেত। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এই দৃশ্যমান উপস্থিতি তাঁকে শাসকদলের শ্রমিক রাজনীতির একজন প্রভাবশালী মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে, যার রেশ এখনও কাটেনি বলেই মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।
একজন শ্রমিক সংগঠক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জাতীয় শ্রমিক লীগের যেকোনো বড় কর্মসূচিতে হারুন অর রশিদ মানেই সামনের সারি—এই বিষয়টি অস্বীকার করার সুযোগ নেই।” আরেকটি সূত্র আরও সরাসরি মন্তব্য করে জানায়, “এই রাজনৈতিক পরিচয়ই আজও তাঁকে শক্ত অবস্থানে রেখেছে; বদলি হলেও তাঁকে সাংগঠনিকভাবে স্পর্শ করা হয়নি।”
সূত্রগুলো আরও জানায়, রাজশাহী জেলা শাখায় তাঁর বিকল্প নেতৃত্ব এখনো দৃশ্যমানভাবে গড়ে না ওঠায় তাঁকে সরানোর বিষয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায়েও অনীহা ছিল। কেন্দ্রীয় শ্রমিক নেতৃত্বের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ, মাঠপর্যায়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং অতীতের রাজনৈতিক সক্রিয়তা—সব মিলিয়ে তাঁকে বাদ দিয়ে সংগঠন চালানোর ঝুঁকি নিতে চায়নি সংশ্লিষ্ট মহল।
রাজশাহী অঞ্চলের শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যেও তাঁর অবস্থান এখনো শক্ত। কেউ কেউ তাঁকে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের পরীক্ষিত নেতা হিসেবে দেখেন, আবার কেউ কেউ নীরবে স্বীকার করেন—তাঁর প্রভাব উপেক্ষা করা বাস্তবে কঠিন। এক জ্যেষ্ঠ কর্মচারী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, “তিনি যেটা বলেন, সেটার পেছনে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ওজন থাকে—এটাই বাস্তবতা।”
বিএডিসির প্রশাসনিক অন্দরমহলেও এই প্রভাব অস্বীকার করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা। তাঁদের মতে, কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে বদলি একটি কাগুজে সিদ্ধান্তে সীমাবদ্ধ থাকে; বাস্তব ব্যবস্থাপনায় তাঁদের অবস্থান হিসাবের বাইরে রাখা যায় না। মো. হারুন অর রশিদের ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই ঘটেছে বলে মনে করছেন তাঁরা।
সব মিলিয়ে চিত্রটি স্পষ্ট—প্রশাসনিকভাবে বদলি হলেও রাজনৈতিক বাস্তবতা, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার সক্রিয় ভূমিকা, জাতীয় শ্রমিক লীগের মিছিল-মিটিংয়ে সামনের কাতারে উপস্থিতি এবং শ্রমিক রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের দাপটের কারণেই মো. হারুন অর রশিদ আজও বহাল তবিয়তেই রয়েছেন। বদলেছে তাঁর কর্মস্থলের ঠিকানা, কিন্তু বদলায়নি তাঁর ক্ষমতার অবস্থান কিংবা প্রভাব বলয়। ১৬ বছর যাবৎ তিনি রাজশাহীতে কর্মরত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (পাটবীজ) রাজশাহী জেলার উপ-পরিচালক হারুন অর রশীদ বলেন, আমি বিএডিসি শ্রমিক লীগের সভাপতি ছিলাম। তবে কোনো অন্যায় কাজে ছিলাম না।
এবিষয়ে জানতে বিএডিসি রাজশাহী উপ-পরিচালক (পাটবীজ) একাধিকবার ফোন দিলেও এইচ এস জাহিদুল ফেরদৌস ফোন রিসিভ করেননি। তাই তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।










