০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউএনও আয়শার নেতৃত্বে বদলে যাচ্ছে রাজশাহীর মোহনপুর

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০৬:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫
  • / ৯২৪ বার পড়া হয়েছে

মোঃ শাহীন সাগর, মোহনপুর: রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলা—যেখানে একসময় পরিচয় ছিল ধান, পেঁয়াজ ও পান উৎপাদনের অঞ্চল হিসেবে—আজ পরিচিত হচ্ছে ব্যতিক্রমধর্মী উন্নয়ন, আইনের শাসন এবং প্রশাসনিক গতিশীলতার নতুন মডেল হিসেবে।

মাত্র কয়েক মাসে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আয়শা সিদ্দিকা।

বরনাই নদীর তীরবর্তী এই কৃষিপ্রধান উপজেলায় রয়েছে ৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা। নানা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সহাবস্থান এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মোহনপুরকে দিয়েছে ভিন্নতর পরিচিতি।

উন্নয়ন প্রকল্প সমূহ: ২১টি প্রটেকশন ওয়াল ও ১৬টি বক্স কালভার্ট/ব্রিজ, ৩৫টি এইচবিবি ও সিসি ঢালাই রাস্তা, ৩টি পাবলিক টয়লেট,
৬৫টি মসজিদে কার্পেট ও সিলিং ফ্যান,
নারী শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ১০টি স্কুলে ৬০টি সিলিং ফ্যান ও বেঞ্চ,২১টি ক্লাব/প্রতিষ্ঠানে খেলাধুলার সামগ্রী, দরিদ্র নারীদের মাঝে ১৫টি সেলাই মেশিন, ৪০ জন প্রতিবন্ধীকে হুইলচেয়ার, হেলিপ্যাড নির্মাণ, ব্যাটস ফিলিং, স্কাউট ক্যাম্প উপকরণ বিতরণ।

প্রশাসনিক তৎপরতায় পরিচালিত হয়েছে ৫৯টি ভ্রাম্যমাণ আদালত, যার মাধ্যমে মাদক, বাল্যবিবাহ, অবৈধ ইটভাটা, ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনসহ নানা অপরাধের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে আইনগত ব্যবস্থা। এতে আদায় হয়েছে ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২০০ টাকা রাজস্ব।

নারী শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল ও স্যানিটারি পণ্য বিতরণ এবং দরিদ্র নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন দেওয়ার উদ্যোগ নারীর আত্মবিশ্বাস ও স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

এক নারী শিক্ষক শর্মিলা সরকার বলেন, “মেয়েদের স্কুলে যাওয়া সহজ করে দিয়েছেন ইউএনও ম্যাডাম। এমন কাজ আগে কেউ করেননি।”

বরনাই নদীর পাড়ে গড়ে উঠছে সম্ভাবনাময় একটি পর্যটন কেন্দ্র, যা স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘মিনি কক্সবাজার’ হিসেবে। ইতোমধ্যে নদীকেন্দ্রিক পর্যটন উন্নয়নে প্রশাসন কাজ শুরু করেছে।

মোহনপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং কেশরহাট পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা জোবায়দা সুলতানা দায়িত্ব নিয়েছেন একদম ভগ্নপ্রায়, আগুনে পোড়া পৌরসভায়।
কঠিন পরিস্থিতিতেও তিনি অকুতোভয় মনোবলে নতুনভাবে চালু করেছেন পৌর পরিষেবা। নারী প্রশাসক হিসেবে তাঁর সাহসী পদক্ষেপ হয়ে উঠেছে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) তারিকুল ইসলাম তাঁর টিম নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করছেন প্রতিটি প্রকল্প বাস্তবায়নে। প্রশাসনিক দিকনির্দেশনা মেনে মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়ন, গুণগত মান এবং অগ্রগতিতে তার অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আয়শা সিদ্দিকা বলেন, “মান্যবর জেলা প্রশাসক আফিয়া আক্তার স্যারের দিকনির্দেশনায় আমরা প্রতিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উন্নয়ন ও শৃঙ্খলা দুটোই নিশ্চিত করতে কাজ করছি। জনগণের করের প্রতিটি টাকা যেন মানুষের কল্যাণে ব্যয় হয়, সেটাই আমাদের অঙ্গীকার।”

বইমেলা, নাট্যসংগঠন, সরকারি গ্রন্থাগার ও যাত্রাগানের দল সাংস্কৃতিক পরিবেশকে সমৃদ্ধ করছে।

উন্নয়ন বাঁধাগ্রস্ত করতে ইউএনও আয়শা সিদ্দিকার বিরুদ্ধে পূর্ব সরকারের আমলে একাধিক মিথ্যা মামলার নজিরও রয়েছে।

কিন্তু সবকিছুকে পাশ কাটিয়ে সৎ, সাহসী ও মানবিক নেতৃত্বের মাধ্যমে মোহনপুর হয়ে উঠেছে উন্নয়নের অনন্য মডেল।
এটি শুধু একটি উপজেলা নয়, বরং প্রমাণ—যদি নেতৃত্ব সৎ হয়, বদলে যায় একটি জনপদ।

ছবি ক্যাপশন: মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথে প্রকল্প পরিদর্শন করছেন
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ডিজি রেজওয়ানুর রহমান

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইউএনও আয়শার নেতৃত্বে বদলে যাচ্ছে রাজশাহীর মোহনপুর

আপডেট সময় : ০৫:০৬:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫

মোঃ শাহীন সাগর, মোহনপুর: রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলা—যেখানে একসময় পরিচয় ছিল ধান, পেঁয়াজ ও পান উৎপাদনের অঞ্চল হিসেবে—আজ পরিচিত হচ্ছে ব্যতিক্রমধর্মী উন্নয়ন, আইনের শাসন এবং প্রশাসনিক গতিশীলতার নতুন মডেল হিসেবে।

মাত্র কয়েক মাসে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আয়শা সিদ্দিকা।

বরনাই নদীর তীরবর্তী এই কৃষিপ্রধান উপজেলায় রয়েছে ৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা। নানা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সহাবস্থান এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মোহনপুরকে দিয়েছে ভিন্নতর পরিচিতি।

উন্নয়ন প্রকল্প সমূহ: ২১টি প্রটেকশন ওয়াল ও ১৬টি বক্স কালভার্ট/ব্রিজ, ৩৫টি এইচবিবি ও সিসি ঢালাই রাস্তা, ৩টি পাবলিক টয়লেট,
৬৫টি মসজিদে কার্পেট ও সিলিং ফ্যান,
নারী শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ১০টি স্কুলে ৬০টি সিলিং ফ্যান ও বেঞ্চ,২১টি ক্লাব/প্রতিষ্ঠানে খেলাধুলার সামগ্রী, দরিদ্র নারীদের মাঝে ১৫টি সেলাই মেশিন, ৪০ জন প্রতিবন্ধীকে হুইলচেয়ার, হেলিপ্যাড নির্মাণ, ব্যাটস ফিলিং, স্কাউট ক্যাম্প উপকরণ বিতরণ।

প্রশাসনিক তৎপরতায় পরিচালিত হয়েছে ৫৯টি ভ্রাম্যমাণ আদালত, যার মাধ্যমে মাদক, বাল্যবিবাহ, অবৈধ ইটভাটা, ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনসহ নানা অপরাধের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে আইনগত ব্যবস্থা। এতে আদায় হয়েছে ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২০০ টাকা রাজস্ব।

নারী শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল ও স্যানিটারি পণ্য বিতরণ এবং দরিদ্র নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন দেওয়ার উদ্যোগ নারীর আত্মবিশ্বাস ও স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

এক নারী শিক্ষক শর্মিলা সরকার বলেন, “মেয়েদের স্কুলে যাওয়া সহজ করে দিয়েছেন ইউএনও ম্যাডাম। এমন কাজ আগে কেউ করেননি।”

বরনাই নদীর পাড়ে গড়ে উঠছে সম্ভাবনাময় একটি পর্যটন কেন্দ্র, যা স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘মিনি কক্সবাজার’ হিসেবে। ইতোমধ্যে নদীকেন্দ্রিক পর্যটন উন্নয়নে প্রশাসন কাজ শুরু করেছে।

মোহনপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং কেশরহাট পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা জোবায়দা সুলতানা দায়িত্ব নিয়েছেন একদম ভগ্নপ্রায়, আগুনে পোড়া পৌরসভায়।
কঠিন পরিস্থিতিতেও তিনি অকুতোভয় মনোবলে নতুনভাবে চালু করেছেন পৌর পরিষেবা। নারী প্রশাসক হিসেবে তাঁর সাহসী পদক্ষেপ হয়ে উঠেছে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) তারিকুল ইসলাম তাঁর টিম নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করছেন প্রতিটি প্রকল্প বাস্তবায়নে। প্রশাসনিক দিকনির্দেশনা মেনে মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়ন, গুণগত মান এবং অগ্রগতিতে তার অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আয়শা সিদ্দিকা বলেন, “মান্যবর জেলা প্রশাসক আফিয়া আক্তার স্যারের দিকনির্দেশনায় আমরা প্রতিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উন্নয়ন ও শৃঙ্খলা দুটোই নিশ্চিত করতে কাজ করছি। জনগণের করের প্রতিটি টাকা যেন মানুষের কল্যাণে ব্যয় হয়, সেটাই আমাদের অঙ্গীকার।”

বইমেলা, নাট্যসংগঠন, সরকারি গ্রন্থাগার ও যাত্রাগানের দল সাংস্কৃতিক পরিবেশকে সমৃদ্ধ করছে।

উন্নয়ন বাঁধাগ্রস্ত করতে ইউএনও আয়শা সিদ্দিকার বিরুদ্ধে পূর্ব সরকারের আমলে একাধিক মিথ্যা মামলার নজিরও রয়েছে।

কিন্তু সবকিছুকে পাশ কাটিয়ে সৎ, সাহসী ও মানবিক নেতৃত্বের মাধ্যমে মোহনপুর হয়ে উঠেছে উন্নয়নের অনন্য মডেল।
এটি শুধু একটি উপজেলা নয়, বরং প্রমাণ—যদি নেতৃত্ব সৎ হয়, বদলে যায় একটি জনপদ।

ছবি ক্যাপশন: মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথে প্রকল্প পরিদর্শন করছেন
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ডিজি রেজওয়ানুর রহমান