রামেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের সন্ত্রাস: গুরুতর আহত আনসার সদস্য-আটক ৩
- আপডেট সময় : ০৭:০০:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
- / ৬২৭ বার পড়া হয়েছে
রাজশাহী প্রতিনিধি।এশিয়ান ভয়েস ২৪.কম:রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে বেপরোয়া অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের হামলায় এক আনসার সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার ১১ নভেম্বর দুপুর ২টার দিকে। আহত আনসার সদস্যের নাম ফিরোজ সরকার।
আনসার সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের ৪ নম্বর ফটকে দায়িত্বে থাকা ফিরোজ সরকার একটি অ্যাম্বুলেন্সকে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও প্রবেশ করতে দেখে বিষয়টি জানতে চান। তখন অ্যাম্বুলেন্স চালকের সঙ্গে কথার কারণে ঝগড়া হয় এবং অন্য এক চালক ফিরোজ সরকারকে ঘুষি মারে, যার ফলে তার নাক ফেটে রক্ত ঝরে।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অন্য আনসার সদস্যরা দুইজনকে আটক করেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর বাকি চালকরা জোরপূর্বক তাদের ছাড়িয়ে নেন। পরে সিন্ডিকেটের সদস্যরা লাঠি, সোটা ও হাসুয়া নিয়ে হাসপাতালের বাইরে অবস্থান নেন।
খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করে। ঘটনাস্থল থেকে অ্যাম্বুলেন্স জব্দ করা হয়েছে।
রামেক হাসপাতাল ঘিরে বহিরাগত অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে। সিন্ডিকেটের সদস্যরা রোগী ও মরদেহ জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে। তারা রোগী ও তাদের স্বজনসহ আনসার সদস্যদের ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়।
সিন্ডিকেটের মূল হোতা হিসেবে পরিচিত রাব্বুল, বাদশা, ডালিম ও আলিম ঘটনার খবর পেয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের হাতে রাজশাহীতে চলাচলকারী মাইক্রোবাস চালক ও মালিকরাও জিম্মি।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (রামেক) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফ এম শামীম আহাম্মদ বলেন, বহিরাগত অ্যাম্বুলেন্স চালকেরা অত্যন্ত বেপরোয়া ও মানবিকতার বাইরে। তারা রীতিমতো সন্ত্রাসী আচরণ করছে। বিষয়টি নিয়ে আগেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল।”
তিনি আরও জানান, আটককৃত তিনজনের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
হাসপাতালের পরিচালক র্যাব, পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছেন, সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা না হলে রামেক হাসপাতালের দুর্ভোগ বন্ধ হবে না।
রামেক হাসপাতালের নিরাপত্তা ও রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য অবিলম্বে দমন করা জরুরি। যৌথভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকর ব্যবস্থা নিলে হাসপাতালের শৃঙ্খলা ও সেবার মান বৃদ্ধি পাবে।

















