০১:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝকঝকে মলাটে নতুন বই, রাজশাহীতে বই হাতে উচ্ছ্বাস শিক্ষার্থীদের

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪১:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৭০০ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী প্রতিনিধি: নতুন বছরের প্রথম দিন মানেই নতুন বইয়ের আনন্দ। সারাদেশের মতো রাজশাহীতেও আজ প্রাক্‌-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে নতুন পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হয়েছে। বইয়ের গন্ধ, ঝকঝকে মলাট আর নতুন পাতার উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে উঠেছে বিদ্যালয়গুলো।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই বিতরণ করা হয়।

নওহাটা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাহিয়ান হাসান বলেন, “নতুন বছরের প্রথম দিনেই বই পেয়ে খুব ভালো লাগছে। নতুন বই মানেই নতুন প্রস্তুতি—এখন থেকেই পড়াশোনা শুরু করতে পারব।”

একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাইশা নিশাত জানান, “নতুন বইয়ের গন্ধ আর নতুন পাতা উল্টানোর আনন্দ আলাদা। উৎসব না হলেও বই পেয়ে খুব খুশি হয়েছি।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওমর আলী বলেন, “শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই বই না পেলে পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটে। সময়মতো বই পেলে শিক্ষার্থীরা ক্লাসের পাঠ ঠিকভাবে অনুসরণ করতে পারে। ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণির বই পাওয়া গেছে, তবে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই এখনো আসেনি। আশা করি জানুয়ারির মধ্যেই সব বই পাওয়া যাবে।”

সহকারী প্রধান শিক্ষক আখতার ফারুক বলেন, “বছরের শুরুতেই পাঠ্যবই হাতে পাওয়া শিক্ষার্থীদের মানসিক প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এতে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়।”

রাষ্ট্রীয় শোক, তাই উৎসব ছাড়াই বই বিতরণ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঘোষিত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে এবার বই উৎসবের আয়োজন না করে বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই বই সংগ্রহ করেছে।

বই বিতরণের অগ্রগতি
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীর প্রাথমিক পর্যায়ে বই বিতরণের প্রস্তুতি শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। প্রি-প্রাথমিক স্তরে মোট ৪১,৬২৬টি বই, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১১,১৯,২০৪টি বই— ইতোমধ্যেই জেলার সব বিদ্যালয়ে পৌঁছে গেছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এ.কে.এম আনোয়ার হোসেন বলেন, “নির্ধারিত সময়ের আগেই বই সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে জেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতভাগ শিক্ষার্থী বিনামূল্যে বই পাচ্ছে।”

অন্যদিকে মাধ্যমিক স্তরে কিছু ঘাটতি রয়েছে। জেলা শিক্ষা অফিসার মো. জায়েদুর রহমান জানান, ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ২৩ লাখ ৩৫ হাজার ৪৬৫ কপি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে এখন পর্যন্ত ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬৭৫ কপি (৪১.৯০%) বই পাওয়া গেছে।

ভোকেশনাল পর্যায়ে বই সরবরাহের হার ৬৬.৬৩% এবং দাখিল–ইবতেদায়ি পর্যায়ে ৫৯.৫০%।

তিনি আরও জানান, “যেসব বই পাওয়া গেছে, সেগুলো ইতোমধ্যে বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই এখনো আসেনি। ১৫ জানুয়ারির মধ্যে অবশিষ্ট বই সরবরাহ সম্পন্ন হবে।”

এনসিটিবির অগ্রগতি
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) জানিয়েছে, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক্‌-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৮ কোটি ৫৯ লাখ ২৫ হাজার বইয়ের ছাপা ও বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে।

অন্যদিকে মাধ্যমিক, দাখিল ও কারিগরি স্তরের ১৮ কোটি ৩২ লাখ বইয়ের মধ্যে ৭৮.৭২% ছাপা সম্পন্ন এবং ৫৮.৬৮% সরবরাহ শেষ হয়েছে।

শিক্ষার প্রতি নতুন উদ্দীপনা শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বছরের শুরুতেই হাতে নতুন বই পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ও আগ্রহ বাড়ে। তারা আশা করছেন, অবশিষ্ট বই দ্রুত বিতরণ করা গেলে শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই নিয়মিত পাঠদান সুষ্ঠুভাবে শুরু করা সম্ভব হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ঝকঝকে মলাটে নতুন বই, রাজশাহীতে বই হাতে উচ্ছ্বাস শিক্ষার্থীদের

আপডেট সময় : ০৯:৪১:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

রাজশাহী প্রতিনিধি: নতুন বছরের প্রথম দিন মানেই নতুন বইয়ের আনন্দ। সারাদেশের মতো রাজশাহীতেও আজ প্রাক্‌-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে নতুন পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হয়েছে। বইয়ের গন্ধ, ঝকঝকে মলাট আর নতুন পাতার উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে উঠেছে বিদ্যালয়গুলো।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই বিতরণ করা হয়।

নওহাটা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাহিয়ান হাসান বলেন, “নতুন বছরের প্রথম দিনেই বই পেয়ে খুব ভালো লাগছে। নতুন বই মানেই নতুন প্রস্তুতি—এখন থেকেই পড়াশোনা শুরু করতে পারব।”

একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাইশা নিশাত জানান, “নতুন বইয়ের গন্ধ আর নতুন পাতা উল্টানোর আনন্দ আলাদা। উৎসব না হলেও বই পেয়ে খুব খুশি হয়েছি।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওমর আলী বলেন, “শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই বই না পেলে পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটে। সময়মতো বই পেলে শিক্ষার্থীরা ক্লাসের পাঠ ঠিকভাবে অনুসরণ করতে পারে। ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণির বই পাওয়া গেছে, তবে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই এখনো আসেনি। আশা করি জানুয়ারির মধ্যেই সব বই পাওয়া যাবে।”

সহকারী প্রধান শিক্ষক আখতার ফারুক বলেন, “বছরের শুরুতেই পাঠ্যবই হাতে পাওয়া শিক্ষার্থীদের মানসিক প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এতে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়।”

রাষ্ট্রীয় শোক, তাই উৎসব ছাড়াই বই বিতরণ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঘোষিত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে এবার বই উৎসবের আয়োজন না করে বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই বই সংগ্রহ করেছে।

বই বিতরণের অগ্রগতি
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীর প্রাথমিক পর্যায়ে বই বিতরণের প্রস্তুতি শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। প্রি-প্রাথমিক স্তরে মোট ৪১,৬২৬টি বই, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১১,১৯,২০৪টি বই— ইতোমধ্যেই জেলার সব বিদ্যালয়ে পৌঁছে গেছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এ.কে.এম আনোয়ার হোসেন বলেন, “নির্ধারিত সময়ের আগেই বই সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে জেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতভাগ শিক্ষার্থী বিনামূল্যে বই পাচ্ছে।”

অন্যদিকে মাধ্যমিক স্তরে কিছু ঘাটতি রয়েছে। জেলা শিক্ষা অফিসার মো. জায়েদুর রহমান জানান, ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ২৩ লাখ ৩৫ হাজার ৪৬৫ কপি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে এখন পর্যন্ত ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬৭৫ কপি (৪১.৯০%) বই পাওয়া গেছে।

ভোকেশনাল পর্যায়ে বই সরবরাহের হার ৬৬.৬৩% এবং দাখিল–ইবতেদায়ি পর্যায়ে ৫৯.৫০%।

তিনি আরও জানান, “যেসব বই পাওয়া গেছে, সেগুলো ইতোমধ্যে বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই এখনো আসেনি। ১৫ জানুয়ারির মধ্যে অবশিষ্ট বই সরবরাহ সম্পন্ন হবে।”

এনসিটিবির অগ্রগতি
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) জানিয়েছে, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক্‌-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৮ কোটি ৫৯ লাখ ২৫ হাজার বইয়ের ছাপা ও বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে।

অন্যদিকে মাধ্যমিক, দাখিল ও কারিগরি স্তরের ১৮ কোটি ৩২ লাখ বইয়ের মধ্যে ৭৮.৭২% ছাপা সম্পন্ন এবং ৫৮.৬৮% সরবরাহ শেষ হয়েছে।

শিক্ষার প্রতি নতুন উদ্দীপনা শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বছরের শুরুতেই হাতে নতুন বই পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ও আগ্রহ বাড়ে। তারা আশা করছেন, অবশিষ্ট বই দ্রুত বিতরণ করা গেলে শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই নিয়মিত পাঠদান সুষ্ঠুভাবে শুরু করা সম্ভব হবে।