মোহনপুরে ইমাম নিয়োগ বিরোধে মৃত্যু, মামলা শেষে দাফন
- আপডেট সময় : ০১:৩৯:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
- / ৭০১ বার পড়া হয়েছে
রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার সাঁকোয়া গ্রামে ঈদগাহে ঈদের নামাজের ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনায় মারা যাওয়া স্থানীয় মসজিদের মুয়াজ্জিন আলাউদ্দিনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
রোববার (৮ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সাঁকোয়া মাদ্রাসা মাঠে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে শনিবার (৭ মার্চ) রাতে উপজেলার সাঁকোয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী এমরান মোহনপুর থানায় আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৪০–৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর আলাউদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে রোববার বিকেলে জানাজার আয়োজন করা হয়।
জানাজার নামাজে ইমামতি করেন জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সংগঠনের নায়েবে আমির গোদাগাড়ি-তানোর আসন সংসদ সদস্য অধ্যাপক মজিবর রহমান।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাগমারা আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সংসদ সদস্য ডাঃ আঃ বারী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী মহানগর ত্রাণ ও পূর্ণবাসন বিষয়ক সম্পাদক পবা-মোহনপুর আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী জেলা শাখা সুরা কর্ম পরিষদ সদস্য বেলঘরিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল আলহাজ্ব মাওলানা এফ এম ইসমাইল আলম আল হাসানি, কেন্দ্রীয় সংগঠনের সুরা পরিষদ সদস্য, রাজশাহী জেলা শাখা নায়েবে আমির সহকারি অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল খালেক, জেলা শাখা আমির কেন্দ্রীয় সংগঠনের সুরা সদস্য অধ্যাপক আব্দুল খালেক, মোহনপুর উপজেলা শাখা আমির অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল আওয়াল, নায়েবে আমির ভাইস প্রিন্সিপাল আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদ।
আরো উপস্থিত ছিলেন মোহনপুর উপজেলা বিএনপি সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক কাজিম উদ্দিন, মরহুম আলাউদ্দিনের বড় ছেলে ইমরান নাজিরসহ বিভিন্ন প্রান্ত হতে আগত বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আলাউদ্দিন স্ত্রী, ছয় ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
এদিকে জানাজার আগে সাঁকোয়া মোড়ে ‘শহীদ আলাউদ্দিন চত্বর’ ঘোষণা করা হয়।
উল্লেখ্য, সাঁকোয়া গ্রামের ঈদগাহে ঈদের নামাজ পড়ানোর জন্য ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে শনিবার রাতে স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে বৈঠকের সময় বাকবিতণ্ডা শুরু হয়ে একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালে আলাউদ্দিন তার দুই ছেলেকে ঘটনাস্থল থেকে বাড়ি ফেরাতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে যান। পরে তাকে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারেন। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এবিষয়ে মোহনপুর থানা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন জানান, মোয়াজ্জিন আলাউদ্দিন হত্যা মামলার আসামীদের গ্রেফতারে কাজ করছে পুলিশ। শীঘ্রই আসামীদের গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হবে।













