০৪:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মোহনপুরে হানিট্র্যাপ ফাঁদে সরকারি চাকরিজীবী-গ্রেপ্তার ২

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫৩:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
  • / ৮৭৯ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর মোহনপুরে নার্সিং সেবা দেওয়ার কথা বলে এক সরকারি চাকরিজীবীকে ফাঁদে ফেলে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ ও অর্থ আদায়ের অভিযোগে হানিট্র্যাপ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৪ মার্চ) মোহনপুর উপজেলা চত্বর এলাকা থেকে চক্রের সদস্য আপেল আহমেদ হৃদয় (৩২) ও তার স্ত্রী তানজিলা খাতুন তমা (২৫)কে গ্রেপ্তার করে মোহনপুর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় তাদের পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী মো. বুলবুল হোসেন (৩৩) বাদী হয়ে ১৪ মার্চ মোহনপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় শরিফা আক্তার সাথী, তানজিলা খাতুন তমা, আপেল আহমেদ হৃদয়, সবুজ আলী ও সোহেল রানাসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামি শরিফা আক্তার সাথী তার মায়ের অসুস্থতার কথা বলে বুলবুল হোসেনকে নার্সিং সেবা দেওয়ার জন্য রাজি করান। গত ১০ মার্চ রাতে রাজশাহী শহরের রেলগেট এলাকা থেকে তাকে সিএনজিযোগে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে নওহাটা এলাকা পার হয়ে মোহনপুর উপজেলার বিদিরপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোর্তজার ছেলে সবুজ এর বাড়িতে নেওয়া হয়।

সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে চা ও নাস্তা দেওয়া হয়। চা পান করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে জ্ঞান ফিরে দেখেন, তিনি উলঙ্গ অবস্থায় বিছানায় পড়ে আছেন এবং কয়েকজন ব্যক্তি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছে।

এ সময় তিনি বাধা দিলে আসামিরা তাকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। পরে তার কাছ থেকে নগদ ৫২ হাজার ৫৩৫ টাকা ছিনিয়ে নেয়। পাশাপাশি বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব থেকে আরও প্রায় ১৬ হাজার ৬১০ টাকা নিয়ে নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে তার কাছ থেকে মোট ৬৯ হাজার ১৪৫ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


এ ছাড়া আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছে আরও চার লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে তিনি মোহনপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

মোহনপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়ামিন আলী জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের ভূমিকা, অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের পরিচয় এবং ধারণ করা ভিডিও কোথায় ছড়ানো হয়েছে তা জানতে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।


পুলিশ আরও জানায়, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে চাকরিজীবীদের টার্গেট করে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল। জব্দ করা মোবাইল ফোনে ব্ল্যাকমেইলের জন্য ধারণ করা পৃথক ৫ থেকে ৭টি ভিডিও পাওয়া গেছে।


প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার আপেল আহমেদ হৃদয়ের বিরুদ্ধে আগেও একই ধরনের একটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মোহনপুরে হানিট্র্যাপ ফাঁদে সরকারি চাকরিজীবী-গ্রেপ্তার ২

আপডেট সময় : ১২:৫৩:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর মোহনপুরে নার্সিং সেবা দেওয়ার কথা বলে এক সরকারি চাকরিজীবীকে ফাঁদে ফেলে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ ও অর্থ আদায়ের অভিযোগে হানিট্র্যাপ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৪ মার্চ) মোহনপুর উপজেলা চত্বর এলাকা থেকে চক্রের সদস্য আপেল আহমেদ হৃদয় (৩২) ও তার স্ত্রী তানজিলা খাতুন তমা (২৫)কে গ্রেপ্তার করে মোহনপুর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় তাদের পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী মো. বুলবুল হোসেন (৩৩) বাদী হয়ে ১৪ মার্চ মোহনপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় শরিফা আক্তার সাথী, তানজিলা খাতুন তমা, আপেল আহমেদ হৃদয়, সবুজ আলী ও সোহেল রানাসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামি শরিফা আক্তার সাথী তার মায়ের অসুস্থতার কথা বলে বুলবুল হোসেনকে নার্সিং সেবা দেওয়ার জন্য রাজি করান। গত ১০ মার্চ রাতে রাজশাহী শহরের রেলগেট এলাকা থেকে তাকে সিএনজিযোগে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে নওহাটা এলাকা পার হয়ে মোহনপুর উপজেলার বিদিরপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোর্তজার ছেলে সবুজ এর বাড়িতে নেওয়া হয়।

সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে চা ও নাস্তা দেওয়া হয়। চা পান করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে জ্ঞান ফিরে দেখেন, তিনি উলঙ্গ অবস্থায় বিছানায় পড়ে আছেন এবং কয়েকজন ব্যক্তি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছে।

এ সময় তিনি বাধা দিলে আসামিরা তাকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। পরে তার কাছ থেকে নগদ ৫২ হাজার ৫৩৫ টাকা ছিনিয়ে নেয়। পাশাপাশি বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব থেকে আরও প্রায় ১৬ হাজার ৬১০ টাকা নিয়ে নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে তার কাছ থেকে মোট ৬৯ হাজার ১৪৫ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


এ ছাড়া আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছে আরও চার লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে তিনি মোহনপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

মোহনপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়ামিন আলী জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের ভূমিকা, অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের পরিচয় এবং ধারণ করা ভিডিও কোথায় ছড়ানো হয়েছে তা জানতে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।


পুলিশ আরও জানায়, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে চাকরিজীবীদের টার্গেট করে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল। জব্দ করা মোবাইল ফোনে ব্ল্যাকমেইলের জন্য ধারণ করা পৃথক ৫ থেকে ৭টি ভিডিও পাওয়া গেছে।


প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার আপেল আহমেদ হৃদয়ের বিরুদ্ধে আগেও একই ধরনের একটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।