গোদাগাড়ীতে ডেঙ্গু ঝুঁকি মোকাবিলায় সচেতনতার আহ্বান
- আপডেট সময় : ০৯:১৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
- / ৫১০ বার পড়া হয়েছে
মো. রবিউল ইসলাম মিনাল, গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধি: বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাণী হিসেবে পরিচিত মশা এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ডেঙ্গুতে ১ হাজার ৭০৯ জন এবং ২০২৩ সালে ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০২৫ সালেও এই মৃত্যুর মিছিল থামেনি।
এ পরিস্থিতিতে গোদাগাড়ী পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে জনস্বার্থে বিশেষ কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মশাবাহিত রোগ যেমন ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও জাপানিজ এনসেফালাইটিসে প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। বিশেষ করে এডিস প্রজাতির মশা জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে বংশবৃদ্ধি করে এবং ঘরবাড়ির আশপাশে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করে।
এদিকে মশা তাড়াতে ব্যবহৃত কয়েলও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, একটি মশার কয়েলের ধোঁয়া ৭৫ থেকে ১৩৭টি সিগারেটের সমপরিমাণ বিষাক্ত কণা (PM2.5) তৈরি করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি ফুসফুসের ক্যান্সার, ব্রঙ্কাইটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের জন্য কয়েলের ধোঁয়া আরও বেশি ক্ষতিকর। এতে শিশুদের শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, চোখ জ্বালাপোড়া এবং ফুসফুসের সংক্রমণ হতে পারে। এছাড়া অসাবধানতাবশত জ্বলন্ত কয়েলে পুড়ে যাওয়া বা বিষক্রিয়ার ঝুঁকিও থাকে।
ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ থেকে সুরক্ষায় পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে টব, পুরনো টায়ার বা ডাবের খোসাসহ কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে না দেওয়া, অব্যবহৃত পাত্র উল্টে রাখা, দিনের বেলা বা রাতে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করা এবং ঘরের জানালায় নেট লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখা এবং ঝোপঝাড় কেটে ফেলারও আহ্বান জানানো হয়েছে। গোদাগাড়ী উপজেলার বাসিন্দাদের ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখতে এসব নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।


















