কুষ্টিয়ার আলাউদ্দিন নগরে পিঠা উৎসব ও কৃষি মেলা অনুষ্ঠিত
- আপডেট সময় : ১১:৩৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
- / ১০৯৪ বার পড়া হয়েছে
কে এম শাহীন রেজা, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি: বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির সাথে মিশে আছে পিঠা-পুলি। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় আমাদের হাজার বছরের এ সংস্কৃতি বিলুপ্তির পথে। বাঙালির পিঠা উৎসবের মধ্য দিয়ে এই সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে প্রতি বছরেরর ন্যয় এবারো কুষ্টিয়া কুমারখালীর আলাউদ্দিন নগর শিক্ষাপল্লী পার্কের মাঠ প্রাঙ্গনে পিঠা উৎসব, ফার্নিচার ও কৃষি মেলার আয়োজন করেন আলাউদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেশন। প্রতি শীতেই গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে শুরু হয় পিঠা পুলির উৎসব। তবে পিঠা সর্বাধিক গুরুত্বের দাবিদার। শুধু খাবার হিসেবেই নয় বরং লোকজ ঐতিহ্য এবং নারী সমাজের শিল্প নৈপুণ্যের স্মারক রূপেও পিঠা বিবেচিত হয়।
গত শনিবার সকাল ৯টার সময় কুষ্টিয়া কুমারখালীর আলাউদ্দিন নগর শিক্ষাপল্লী পার্কের মাঠ প্রাঙ্গনে প্রায় ৬০টি স্টলে হরেক রকম পিঠা সাজিয়ে এ উৎসবের আয়োজন করেন। পিঠা উৎসবে হৃদয় হরণ, বাহারি গোলাপ, বউপিঠা, জামাই পিঠা, ভাপা রোল পুলি, কদম ও চন্দ্র পুলি, চিংড়ি পিঠা, মুরালী, সতির মোচড়, মুচমুচে মিষ্টি পিঠা, ক্ষীর, সেমাই সন্দেশ, ঝাল টুসি, নকশি পিঠা, গুড় পিঠা, পোয়া পিঠা, পাকন পিঠা, ঝিনুক পিঠা, পাটিসাপটা, কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহি চিতই পিঠাসহ বিভিন্ন নামের ও রংয়ের মুখরোচক পিঠা স্থান পায়। একদিকে যেমন দিনব্যপী পিঠা ও কৃষি পণ্যের ষ্টলে চলছে অন্যদিকে চলছে গ্রাম বাংলার ঐতিয্যবাহী লাঠি খেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
প্রাণের টানে ছুটে আসা সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুখরিত হয়ে ওঠেছে উৎসবস্থল। শীতের পিঠা-পুলিসহ নানা বৈচিত্রময় পিঠার পসরা সাজিয়ে উৎসবে আগত দর্শনার্থীদের মনোযোগ কেড়েছে পিঠা উৎসবে অংশ নেয় স্টল গুলো। সেই পসরায় মুগ্ধ হয়ে স্টলে স্টলে পিঠা খেতে ভিড় জমিয়েছেন সকল বয়সের মানুষ। আলাউদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে শনিবার সকাল ৯টার সময় পিঠা উৎসব ও কৃষি মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপিস্থিত ছিলেন, বিশিষ্ঠ শিল্পপতি, সমাজসেবক আলাউদ্দিন নগরের রূপকার ও শিক্ষাপল্লীর জনক দানবীর আলাউদ্দিন আহমেদ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাঙালির ঐতিহ্য প্রবাহেরই একটি অংশ হচ্ছে পিঠা। এ দেশের লোক সংস্কৃতিরও অংশ সবার প্রিয় এই খাদ্যটি। আর পিঠা শিল্পীদের বানানো প্রতিটি পিঠায় থাকে প্রাণের ছোঁয়া, মিশে থাকে আবেগ যা পৃথিবীতে বিরল। পিঠা উৎসবের মুলেই রয়েছে ঢেঁকি। অথচ এখনকার মানুষ এই ঢেঁকি সম্পর্কে জানেই না। ঢেঁকি যেন জাদুঘরে রাখা লাগবে আগামীতে। তিনি আরো বলেন, শীতের সময় বাহারি পিঠার উপস্থাপন ও আধিক্য দেখা যায়। বাঙালির লোক ইতিহাস ও ঐতিহ্যে পিঠা-পুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে বহুকাল ধরে। এটি লোকজ ও নান্দনিক সংস্কৃতিরই বহি:প্রকাশ। যান্ত্রিক সভ্যতার এই ইট-কাঠের নগরীতে হারিয়ে যেতে বসেছে পিঠার ঐতিহ্য। সময়ের স্রোত গড়িয়ে লোকজ এই শিল্প আবহমান বাংলার অপরিহার্য অঙ্গ হয়ে উঠলেও এ যুগে সামাজিকতার ক্ষেত্রে পিঠার প্রচলন অনেকটাই কমে এসেছে। আগামীতে আরো বৃহত পরিসরে পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হবে, সেই সাথে আয়োজকদেরকে ধন্যবাদ জানান।














