০১:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
অফিস টেবিলে টাকা দিয়ে অনুমোদন—জাল এনআইডি, কার্ড ও উপ-আইনের ব্যবহার

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ভুয়া কাগজে শতাধিক মৎস্যজীবী সমিতি নিবন্ধনের অভিযোগ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৫:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
  • / ৬০১ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে সমবায় সমিতি ও মৎস্যজীবী সমিতি নিবন্ধনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে—জাল এনআইডি, ভুয়া মৎস্যজীবী কার্ড এবং জাল উপ-আইন ব্যবহার করে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে শতাধিক সমিতির।


দীর্ঘ অনুসন্ধানে জানা গেছে, একই ব্যক্তি অদৃশ্য এনআইডি নম্বর ব্যবহার করে একাই শতাধিক সমিতির নিবন্ধন নিয়েছেন। এতে জড়িত রয়েছেন স্থানীয় সমবায় দপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীও। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি সমিতির নিবন্ধন পেতে অফিসের টেবিলে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ—গাঙ্গোবাড়ি এলাকার কুখ্যাত “বিশু” নামের এক ব্যক্তি এখন “ভয়ঙ্কর বিশু” হিসেবে পরিচিত। তিনি অবৈধ কাগজপত্র ও জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করে হাইকোর্টে রিট পিটিশন করে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ পুকুর নিজের কব্জায় নিয়েছেন বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর স্বাক্ষর জাল করা ও ট্রেজারি অফিস এর চালান জালিয়াতির অভিযোগও উঠেছে। এসব কর্মকাণ্ডে জেলা সমবায় অফিসের অফিস সহায়ক ফেরদৌসীর সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে।


তদন্তে একতা, মাধবপুর, গোদাগাড়ী, ফরিদপুর, রামনগর, গোলাপফুল, কাঁকনহাট ও বরেন্দ্র মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিসহ একাধিক সমিতির অফিস, এনআইডি, মৎস্যজীবী কার্ড ও উপ-আইনের সঙ্গে বাস্তব কোনো মিল পাওয়া যায়নি।

এমনকি হাটপুকুর মৎস্যজীবী সমিতির তথাকথিত সভাপতি খালিদ হাসানকে ফোন করলে তিনি জানান, “আমি এসব বিষয়ে কিছুই জানি না। আমি চারঘাটে থাকি, সমিতির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।”



গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মুক্তার হোসেন নামে এক ব্যক্তি জেলা সমবায় দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে তিনি বলেন, “রসুলপুর নুন্দাপুর মৎস্যজীবী সমিতি নামে একটি ভুয়া সমিতি নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে, যার ঠিকানা ও সদস্যদের তথ্য সম্পূর্ণ জাল।”

এছাড়া গত ২৫ ফেব্রুয়ারি মো. এমদাদুল হকের পক্ষে আইনজীবী মোসাম্মাৎ শামীম আরা খাতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নাজমুস শাদাৎ রত্ন বরাবর লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। নোটিশে বলা হয়, অন্যান্য উপজেলার মৎস্যজীবী সমিতিকে গোদাগাড়ী উপজেলার ইজারা প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হলে ২০০৯ সালের জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতিমালার ৬(৪) ধারা লঙ্ঘন হবে।


গোদাগাড়ী উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা জিগার হাসরত বলেন, “অর্থ লেনদেনের অভিযোগ সঠিক নয়। তবে জেলা সমবায় কর্মকর্তা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জাল সমিতির নিবন্ধন বাতিল করা হবে।”


রাজশাহী জেলা সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন ইসলাম বলেন, “আমি অভিযোগের বিষয়টি এখনো জানি না। তবে কেউ ভুয়া তথ্য বা জাল নথি ব্যবহার করে নিবন্ধন নিয়ে থাকলে তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ভুয়া কাগজপত্রে গঠিত এসব সমিতির মাধ্যমে গোদাগাড়ীর পুকুর ও জলাশয় সিন্ডিকেটের দখলে চলে যাচ্ছে। ফলে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা ইজারায় অংশ নিতে পারছেন না। দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

অফিস টেবিলে টাকা দিয়ে অনুমোদন—জাল এনআইডি, কার্ড ও উপ-আইনের ব্যবহার

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ভুয়া কাগজে শতাধিক মৎস্যজীবী সমিতি নিবন্ধনের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৩:৩৫:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে সমবায় সমিতি ও মৎস্যজীবী সমিতি নিবন্ধনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে—জাল এনআইডি, ভুয়া মৎস্যজীবী কার্ড এবং জাল উপ-আইন ব্যবহার করে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে শতাধিক সমিতির।


দীর্ঘ অনুসন্ধানে জানা গেছে, একই ব্যক্তি অদৃশ্য এনআইডি নম্বর ব্যবহার করে একাই শতাধিক সমিতির নিবন্ধন নিয়েছেন। এতে জড়িত রয়েছেন স্থানীয় সমবায় দপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীও। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি সমিতির নিবন্ধন পেতে অফিসের টেবিলে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ—গাঙ্গোবাড়ি এলাকার কুখ্যাত “বিশু” নামের এক ব্যক্তি এখন “ভয়ঙ্কর বিশু” হিসেবে পরিচিত। তিনি অবৈধ কাগজপত্র ও জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করে হাইকোর্টে রিট পিটিশন করে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ পুকুর নিজের কব্জায় নিয়েছেন বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর স্বাক্ষর জাল করা ও ট্রেজারি অফিস এর চালান জালিয়াতির অভিযোগও উঠেছে। এসব কর্মকাণ্ডে জেলা সমবায় অফিসের অফিস সহায়ক ফেরদৌসীর সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে।


তদন্তে একতা, মাধবপুর, গোদাগাড়ী, ফরিদপুর, রামনগর, গোলাপফুল, কাঁকনহাট ও বরেন্দ্র মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিসহ একাধিক সমিতির অফিস, এনআইডি, মৎস্যজীবী কার্ড ও উপ-আইনের সঙ্গে বাস্তব কোনো মিল পাওয়া যায়নি।

এমনকি হাটপুকুর মৎস্যজীবী সমিতির তথাকথিত সভাপতি খালিদ হাসানকে ফোন করলে তিনি জানান, “আমি এসব বিষয়ে কিছুই জানি না। আমি চারঘাটে থাকি, সমিতির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।”



গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মুক্তার হোসেন নামে এক ব্যক্তি জেলা সমবায় দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে তিনি বলেন, “রসুলপুর নুন্দাপুর মৎস্যজীবী সমিতি নামে একটি ভুয়া সমিতি নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে, যার ঠিকানা ও সদস্যদের তথ্য সম্পূর্ণ জাল।”

এছাড়া গত ২৫ ফেব্রুয়ারি মো. এমদাদুল হকের পক্ষে আইনজীবী মোসাম্মাৎ শামীম আরা খাতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নাজমুস শাদাৎ রত্ন বরাবর লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। নোটিশে বলা হয়, অন্যান্য উপজেলার মৎস্যজীবী সমিতিকে গোদাগাড়ী উপজেলার ইজারা প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হলে ২০০৯ সালের জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতিমালার ৬(৪) ধারা লঙ্ঘন হবে।


গোদাগাড়ী উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা জিগার হাসরত বলেন, “অর্থ লেনদেনের অভিযোগ সঠিক নয়। তবে জেলা সমবায় কর্মকর্তা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জাল সমিতির নিবন্ধন বাতিল করা হবে।”


রাজশাহী জেলা সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন ইসলাম বলেন, “আমি অভিযোগের বিষয়টি এখনো জানি না। তবে কেউ ভুয়া তথ্য বা জাল নথি ব্যবহার করে নিবন্ধন নিয়ে থাকলে তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ভুয়া কাগজপত্রে গঠিত এসব সমিতির মাধ্যমে গোদাগাড়ীর পুকুর ও জলাশয় সিন্ডিকেটের দখলে চলে যাচ্ছে। ফলে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা ইজারায় অংশ নিতে পারছেন না। দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।