সেবার আড়ালে দুর্নীতি, রামেক হাসপাতালে সিন্ডিকেট নিয়ে ক্ষোভ
- আপডেট সময় : ০৭:১২:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
- / ৫০৯ বার পড়া হয়েছে
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (রামেক) হাসপাতালের টেন্ডার বাণিজ্য, আউটসোর্সিং, নিয়োগ ও বিভিন্ন সেবা খাতে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রণ করছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, হাসপাতালের এক পি-এ’র নেতৃত্বে ওয়ার্ড মাস্টারসহ ৮-১০ জনের একটি চক্র এখনও সক্রিয় রয়েছে।
ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ২০০৪ সাল থেকে এই সিন্ডিকেটের আধিপত্য চলে আসলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠলেও তাদের অন্যত্র বদলি বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর রাজশাহী নগরীর রাজপাড়া এলাকার এক নারীর কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার নামে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা নেন হাসপাতালের দুই কর্মচারী। তাকে পরিচ্ছন্নকর্মী হিসেবে নিয়োগের আশ্বাস দিয়ে পরিচয়পত্র ও পোশাক দেওয়া হলেও নিয়মিত বেতন দেওয়া হয়নি। কখনও ২,৫০০ আবার কখনও ৪,৫০০ টাকা দেওয়া হতো বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, অসুস্থতা শেষে কাজে যোগ দিয়ে চাকরি স্থায়ী করার কথা বললে অভিযুক্তরা অনৈতিক প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হওয়ায় তার কাছ থেকে জোরপূর্বক পরিচয়পত্র ও পোশাক কেড়ে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় প্রতিকার না পেয়ে তিনি রাজপাড়া আমলী আদালতে মামলা করেন (মামলা নং- ৪৩৭, তারিখ: ০১/১২/২০২৪)। তবে এখনো তিনি টাকা ফেরত পাননি বলে জানিয়েছেন।
এছাড়া হাসপাতালের এক ওয়ার্ড মাস্টারের বিরুদ্ধে কোয়ার্টারে বিনা অনুমতিতে অতিরিক্ত ইউনিট ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে ২০২৪ সালের ১ জুন তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, নতুন পরিচালককে সহযোগিতা না করে নিজেদের মতো করে হাসপাতাল পরিচালনার চেষ্টা চলছে, যার প্রভাব পড়ছে সেবার মানে।
সম্প্রতি শিশু মৃত্যুর একটি ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনা তৈরি হলেও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো প্রতিকার বা দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
এর আগে রামেক হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সেসব প্রতিবেদনে চাকরির নামে প্রতারণা, ঘুষ গ্রহণ ও কর্মচারীদের অসদাচরণের অভিযোগ উঠে আসে।
এ বিষয়ে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) বলেন, সার্বিক বিষয় পরিচালক তদারকি করেন এবং বিস্তারিত জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। উপপরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
অভিযুক্ত পি-এ’র সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। আর হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সিন্ডিকেটের কারণে হাসপাতালের সেবার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সাধারণ রোগী ও চাকরি প্রত্যাশীরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন।



















