জিয়াউর রহমান ও তারেক রহমানকে নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্যের অভিযোগ, বহাল তবিয়তে অধ্যক্ষ আব্দুল মালেক
- আপডেট সময় : ০৫:০৭:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
- / ৫১৪ বার পড়া হয়েছে
রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার মোহনপুর গার্লস ডিগ্রি কলেজে ২০১৯ সালে কলেজ সরকারিকরণের প্রক্রিয়াকরণ উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অনুষ্ঠান-সংক্রান্ত ছবি, ব্যানার, সংশ্লিষ্ট নথি এবং একাধিক শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যে কলেজটির অধ্যক্ষ মো. আব্দুল মালেক মণ্ডলের রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রশাসনিক আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর কলেজ প্রাঙ্গণে কলেজ সরকারিকরণের প্রক্রিয়াকরণ উপলক্ষে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিনকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুল মালেক মণ্ডল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তৎকালীন সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোহনপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মেহেবুব হাসান রাসেল, এনামুল হকসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা।
প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত অনুষ্ঠান-সংক্রান্ত ছবি ও ব্যানারে ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের তথ্যের সঙ্গে উল্লিখিত তথ্যের মিল পাওয়া গেছে।
কলেজের একাধিক শিক্ষক, যারা পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন, তারা দাবি করেন যে ওই অনুষ্ঠানে অধ্যক্ষ মো. আব্দুল মালেক মণ্ডল সাবেক এমপি আয়েন উদ্দিনের হাতে নৌকা তুলে দিয়ে তাঁর বক্তব্যে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে “রাজাকার” এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে “কুলাঙ্গার সন্তান” বলে মন্তব্য করেছিলেন। তাঁদের ভাষ্য, ওই বক্তব্যে উপস্থিত বিএনপি-সমর্থক শিক্ষক-কর্মচারীরা ক্ষুব্ধ ও বিব্রত হন।
একাধিক শিক্ষক আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিএনপি-সমর্থক হিসেবে পরিচিত শিক্ষকদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। তাঁদের দাবি, প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে কয়েকজন শিক্ষককে শোকজ করা, অপমান-অপদস্ত করা এবং নানা ধরনের চাপ প্রয়োগের ঘটনাও ঘটেছে। প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলা কয়েকজন ভুক্তভোগী শিক্ষকও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে কলেজটিকে ঘিরে আর্থিক অনিয়ম, ভূয়া নিয়োগ বোর্ড দেখিয়ে রোকসানা নামে তার আত্মীয়ের এমপিও ভুক্তির জন্য মাউশি-তে আবেদন। কলেজ তহবিলের অর্থ ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে কলেজের গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতি দিলিপ কুমার সরকারের পক্ষ থেকে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি এবং পরবর্তীতে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল।
তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, জালিয়াতি, ভুয়া তথ্যের মাধ্যমে এমপিও সুবিধা গ্রহণ এবং কলেজের অর্থ আত্মসাতসহ প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ এনে কলেজের গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতি দিলিপ কুমার সরকার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছিলেন। (নথি সংরক্ষিত)
অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রতিবেদক কলেজে গিয়ে সরাসরি তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অধ্যক্ষ মো. আব্দুল মালেক মণ্ডল সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।
এদিকে প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত ছবি, ব্যানার এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করা হয়েছে।অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনের বক্তব্য সংগ্রহেরও চেষ্টা চলছে। তদন্ত বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।







