০১:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সার নিয়ে কৃষকের স্বস্তি, তদারকিতে মোহনপুর কৃষি অফিস

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৬:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৫৬২ বার পড়া হয়েছে

মনিরুজ্জামান, (মোহনপুর) রাজশাহী :

রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় আমন মৌসুমে সার নিয়ে কৃষকদের মধ্যে নানা অভিযোগ থাকলেও মোহনপুরে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে দাবি করেছে উপজেলা কৃষি অফিস। ভরা আমন মৌসুমে উপজেলার কৃষকরা সরকারি নির্ধারিত মূল্যে প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন। একই সঙ্গে আমন ধানের উপরি প্রয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় সার মজুত রয়েছে বলেও জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

কৃষিনির্ভর মোহনপুর উপজেলায় ধান, পান, ভুট্টা, আলু ও বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হয়ে থাকে। এর পাশাপাশি গত কয়েক বছরে পুকুর ও বিলে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষও বেড়েছে। ফলে সারা বছরই এখানে রাসায়নিক সারের চাহিদা তুলনামূলক বেশি। আমন মৌসুমে সেই চাহিদা আরও বেড়ে যায়। এ অবস্থায় সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে উপজেলা কৃষি অফিসের নিয়মিত তদারকি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে মোহনপুরে ৪ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। এরই মধ্যে অধিকাংশ জমিতে ধান রোপণের কাজ শেষ হয়েছে। এখন ধানের জমিতে উপরি প্রয়োগের জন্য ইউরিয়া ও অন্যান্য সারের প্রয়োজন হচ্ছে।

চলতি আগস্ট মাসে মোহনপুর উপজেলায় ইউরিয়া ৫৫০ মেট্রিক টন, টিএসপি ৮০ মেট্রিক টন, ডিএপি ২২০ মেট্রিক টন এবং এমওপি ১১০ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ২৫ আগস্ট পর্যন্ত মজুত রয়েছে ইউরিয়া ১৮৫ টন, ডিএপি ২৫ টন, টিএসপি ১৫ টন এবং এমওপি ৩৬ টন। বরাদ্দকৃত সার পর্যায়ক্রমে কৃষকদের মধ্যে সরবরাহ করা হচ্ছে।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আমন ধান রোপণ শেষ হলেও এখনো ফসলের পরিচর্যার গুরুত্বপূর্ণ সময় চলছে। বিশেষ করে উপরি প্রয়োগের জন্য ইউরিয়া সারের চাহিদা রয়েছে। এ কারণে ডিলার পর্যায়ে পর্যাপ্ত সার মজুত রাখা হচ্ছে। সামনের মাসের বরাদ্দের সারও ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে কৃষি অফিস।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার পাওয়ায় অধিকাংশ কৃষকের মধ্যে স্বস্তি রয়েছে। বাকশিমইল ইউনিয়নের বাকশিমইল গ্রামের কৃষক এনামুল চার বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘ডিলারের দোকান থেকে সরকারি মূল্যে সার পেয়েছি। সার পেতে এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা হয়নি।’

ধুরইল ইউনিয়নের কৃষক মোতালেব বলেন, ‘আমি আড়াই বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছি। ডিলারের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্যে সার পেয়েছি। সার কেনার ক্ষেত্রে বাড়তি কোনো টাকা দিতে হয়নি।’

কেশরহাট পৌরসভার ধামিন নওগাঁ গ্রামের কৃষক শমশের বলেন, ‘আমাদের এলাকায় সার পেতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। সরকারি মূল্যে সার পাচ্ছি। ধানের জমির প্রয়োজন অনুযায়ী সার কিনতে পারছি।’

তবে সব ধরনের সারের সরবরাহ পরিস্থিতি সমান নয় বলে জানিয়েছেন কয়েকজন কৃষক। জাহানাবাদ ইউনিয়নের জাহানাবাদ গ্রামের কৃষক মুসলেম আলী বলেন, ‘আমরা ঠিকভাবে এবং সরকারি মূল্যে সার পাচ্ছি। তবে মাঝে মাঝে ডিএপি সারের সংকট দেখা দেয়। তখন কিছুটা সমস্যা হয়।’

মোহনপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে আরও জানা গেছে, উপজেলায় বর্তমানে মোট ২৫ জন অনুমোদিত সার ডিলার রয়েছেন। এর মধ্যে সাতজন বিসিআইসি এবং ১৮ জন বিএডিসির সার ডিলার। ইউনিয়নভিত্তিক এসব ডিলারের মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী সার সরবরাহ করা হচ্ছে।

বিসিআইসি অনুমোদিত ডিলারদের মধ্যে ধুরইল ইউনিয়নে মেসার্স আল-হেরা ট্রেডার্স, ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নে মেসার্স মোশারফ ট্রেডার্স, রায়ঘাটি ইউনিয়নে মেসার্স রহমান ট্রেডার্স, জাহানাবাদ ইউনিয়নে মেসার্স ইউসুফ ট্রেডার্স, বাকশিমইল ইউনিয়নে মেসার্স সোহেল ট্রেডার্স, মৌগাছি ইউনিয়নে মেসার্স মহসিন ট্রেডার্স এবং কেশরহাট পৌরসভায় মেসার্স ওসমান অ্যান্ড সন্স ট্রেডার্স রয়েছে।

এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৮ জন বিএডিসি অনুমোদিত ডিলারের মাধ্যমেও সার বিক্রি করা হচ্ছে। কৃষি অফিসের দাবি, অনুমোদিত ডিলারদের মাধ্যমে সরকারি বরাদ্দের সার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে এবং এ কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।

বাকশিমইল ইউনিয়নের বিসিআইসি অনুমোদিত সার ডিলার মেসার্স সোহেল ট্রেডার্সের কর্ণধার মো. আনোয়ার হোসেন সরকার বলেন, ‘মোহনপুরে নিয়োজিত সব সার ডিলার সরকার এবং উপজেলা কৃষি অফিসের নির্দেশনা মেনে সার বিক্রি করছেন। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহের চেষ্টা করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিয়মিত মনিটরিং করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।’

মোহনপুর উপজেলা সার ডিলার সমিতির সভাপতি ও জাহানাবাদ ইউনিয়নের বিসিআইসি সার ডিলার ইউসুফ আলী বলেন, ‘সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী প্রাপ্ত সার কৃষকদের নামে তালিকা ও রেজিস্ট্রেশন করে সঠিকভাবে বিক্রি করা হচ্ছে। মোহনপুরের ডিলারদের কাছে প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার রয়েছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সারের সংকট নেই।’

তবে কৃষকদের মধ্যে কেউ যেন প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার কিনে মজুত করতে না পারেন এবং কোনো ডিলার যেন সরকারি নির্ধারিত মূল্যের বাইরে সার বিক্রি করতে না পারেন, সে বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে ডিএপি ও টিএসপির চাহিদা বেশি থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর বিশেষ নজর রাখার কথাও জানিয়েছেন কৃষকরা।

মোহনপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার উপজেলায় সার নিয়ে কোনো অনিয়ম হওয়ার সুযোগ নেই। কৃষকদের যাতে সার পেতে কোনো ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে না হয়, সে বিষয়ে আমরা নিয়মিত তদারকি করছি। ভরা আমন মৌসুমে উপরি প্রয়োগের প্রয়োজনীয় সার মজুত রয়েছে। সামনের মাসের বরাদ্দের সারও ইতোমধ্যে আমরা পেয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ডিলারদের সরকারি নির্দেশনা মেনে সার বিক্রির জন্য বলা হয়েছে। কোথাও কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখা হবে। বর্তমান মজুত ও বরাদ্দ বিবেচনায় আগামী দিনগুলোতে মোহনপুরে সার নিয়ে বড় ধরনের সংকট হওয়ার আশঙ্কা নেই।’

কৃষক ও কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি আমন মৌসুমে মোহনপুরে সার সরবরাহ পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত মোটামুটি স্বাভাবিক। সময়মতো বরাদ্দ পাওয়া, ডিলারদের মাধ্যমে বিতরণ এবং কৃষি বিভাগের তদারকির কারণে কৃষকদের মধ্যে সার নিয়ে স্বস্তি রয়েছে। তবে আমন ধানের উপরি প্রয়োগের সময়টিতে চাহিদা বাড়ায় সার সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন কৃষি বিভাগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সার নিয়ে কৃষকের স্বস্তি, তদারকিতে মোহনপুর কৃষি অফিস

আপডেট সময় : ০৬:৫৬:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

মনিরুজ্জামান, (মোহনপুর) রাজশাহী :

রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় আমন মৌসুমে সার নিয়ে কৃষকদের মধ্যে নানা অভিযোগ থাকলেও মোহনপুরে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে দাবি করেছে উপজেলা কৃষি অফিস। ভরা আমন মৌসুমে উপজেলার কৃষকরা সরকারি নির্ধারিত মূল্যে প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন। একই সঙ্গে আমন ধানের উপরি প্রয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় সার মজুত রয়েছে বলেও জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

কৃষিনির্ভর মোহনপুর উপজেলায় ধান, পান, ভুট্টা, আলু ও বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হয়ে থাকে। এর পাশাপাশি গত কয়েক বছরে পুকুর ও বিলে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষও বেড়েছে। ফলে সারা বছরই এখানে রাসায়নিক সারের চাহিদা তুলনামূলক বেশি। আমন মৌসুমে সেই চাহিদা আরও বেড়ে যায়। এ অবস্থায় সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে উপজেলা কৃষি অফিসের নিয়মিত তদারকি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে মোহনপুরে ৪ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। এরই মধ্যে অধিকাংশ জমিতে ধান রোপণের কাজ শেষ হয়েছে। এখন ধানের জমিতে উপরি প্রয়োগের জন্য ইউরিয়া ও অন্যান্য সারের প্রয়োজন হচ্ছে।

চলতি আগস্ট মাসে মোহনপুর উপজেলায় ইউরিয়া ৫৫০ মেট্রিক টন, টিএসপি ৮০ মেট্রিক টন, ডিএপি ২২০ মেট্রিক টন এবং এমওপি ১১০ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ২৫ আগস্ট পর্যন্ত মজুত রয়েছে ইউরিয়া ১৮৫ টন, ডিএপি ২৫ টন, টিএসপি ১৫ টন এবং এমওপি ৩৬ টন। বরাদ্দকৃত সার পর্যায়ক্রমে কৃষকদের মধ্যে সরবরাহ করা হচ্ছে।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আমন ধান রোপণ শেষ হলেও এখনো ফসলের পরিচর্যার গুরুত্বপূর্ণ সময় চলছে। বিশেষ করে উপরি প্রয়োগের জন্য ইউরিয়া সারের চাহিদা রয়েছে। এ কারণে ডিলার পর্যায়ে পর্যাপ্ত সার মজুত রাখা হচ্ছে। সামনের মাসের বরাদ্দের সারও ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে কৃষি অফিস।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার পাওয়ায় অধিকাংশ কৃষকের মধ্যে স্বস্তি রয়েছে। বাকশিমইল ইউনিয়নের বাকশিমইল গ্রামের কৃষক এনামুল চার বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘ডিলারের দোকান থেকে সরকারি মূল্যে সার পেয়েছি। সার পেতে এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা হয়নি।’

ধুরইল ইউনিয়নের কৃষক মোতালেব বলেন, ‘আমি আড়াই বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছি। ডিলারের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্যে সার পেয়েছি। সার কেনার ক্ষেত্রে বাড়তি কোনো টাকা দিতে হয়নি।’

কেশরহাট পৌরসভার ধামিন নওগাঁ গ্রামের কৃষক শমশের বলেন, ‘আমাদের এলাকায় সার পেতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। সরকারি মূল্যে সার পাচ্ছি। ধানের জমির প্রয়োজন অনুযায়ী সার কিনতে পারছি।’

তবে সব ধরনের সারের সরবরাহ পরিস্থিতি সমান নয় বলে জানিয়েছেন কয়েকজন কৃষক। জাহানাবাদ ইউনিয়নের জাহানাবাদ গ্রামের কৃষক মুসলেম আলী বলেন, ‘আমরা ঠিকভাবে এবং সরকারি মূল্যে সার পাচ্ছি। তবে মাঝে মাঝে ডিএপি সারের সংকট দেখা দেয়। তখন কিছুটা সমস্যা হয়।’

মোহনপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে আরও জানা গেছে, উপজেলায় বর্তমানে মোট ২৫ জন অনুমোদিত সার ডিলার রয়েছেন। এর মধ্যে সাতজন বিসিআইসি এবং ১৮ জন বিএডিসির সার ডিলার। ইউনিয়নভিত্তিক এসব ডিলারের মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী সার সরবরাহ করা হচ্ছে।

বিসিআইসি অনুমোদিত ডিলারদের মধ্যে ধুরইল ইউনিয়নে মেসার্স আল-হেরা ট্রেডার্স, ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নে মেসার্স মোশারফ ট্রেডার্স, রায়ঘাটি ইউনিয়নে মেসার্স রহমান ট্রেডার্স, জাহানাবাদ ইউনিয়নে মেসার্স ইউসুফ ট্রেডার্স, বাকশিমইল ইউনিয়নে মেসার্স সোহেল ট্রেডার্স, মৌগাছি ইউনিয়নে মেসার্স মহসিন ট্রেডার্স এবং কেশরহাট পৌরসভায় মেসার্স ওসমান অ্যান্ড সন্স ট্রেডার্স রয়েছে।

এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৮ জন বিএডিসি অনুমোদিত ডিলারের মাধ্যমেও সার বিক্রি করা হচ্ছে। কৃষি অফিসের দাবি, অনুমোদিত ডিলারদের মাধ্যমে সরকারি বরাদ্দের সার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে এবং এ কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।

বাকশিমইল ইউনিয়নের বিসিআইসি অনুমোদিত সার ডিলার মেসার্স সোহেল ট্রেডার্সের কর্ণধার মো. আনোয়ার হোসেন সরকার বলেন, ‘মোহনপুরে নিয়োজিত সব সার ডিলার সরকার এবং উপজেলা কৃষি অফিসের নির্দেশনা মেনে সার বিক্রি করছেন। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহের চেষ্টা করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিয়মিত মনিটরিং করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।’

মোহনপুর উপজেলা সার ডিলার সমিতির সভাপতি ও জাহানাবাদ ইউনিয়নের বিসিআইসি সার ডিলার ইউসুফ আলী বলেন, ‘সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী প্রাপ্ত সার কৃষকদের নামে তালিকা ও রেজিস্ট্রেশন করে সঠিকভাবে বিক্রি করা হচ্ছে। মোহনপুরের ডিলারদের কাছে প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার রয়েছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সারের সংকট নেই।’

তবে কৃষকদের মধ্যে কেউ যেন প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার কিনে মজুত করতে না পারেন এবং কোনো ডিলার যেন সরকারি নির্ধারিত মূল্যের বাইরে সার বিক্রি করতে না পারেন, সে বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে ডিএপি ও টিএসপির চাহিদা বেশি থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর বিশেষ নজর রাখার কথাও জানিয়েছেন কৃষকরা।

মোহনপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার উপজেলায় সার নিয়ে কোনো অনিয়ম হওয়ার সুযোগ নেই। কৃষকদের যাতে সার পেতে কোনো ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে না হয়, সে বিষয়ে আমরা নিয়মিত তদারকি করছি। ভরা আমন মৌসুমে উপরি প্রয়োগের প্রয়োজনীয় সার মজুত রয়েছে। সামনের মাসের বরাদ্দের সারও ইতোমধ্যে আমরা পেয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ডিলারদের সরকারি নির্দেশনা মেনে সার বিক্রির জন্য বলা হয়েছে। কোথাও কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখা হবে। বর্তমান মজুত ও বরাদ্দ বিবেচনায় আগামী দিনগুলোতে মোহনপুরে সার নিয়ে বড় ধরনের সংকট হওয়ার আশঙ্কা নেই।’

কৃষক ও কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি আমন মৌসুমে মোহনপুরে সার সরবরাহ পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত মোটামুটি স্বাভাবিক। সময়মতো বরাদ্দ পাওয়া, ডিলারদের মাধ্যমে বিতরণ এবং কৃষি বিভাগের তদারকির কারণে কৃষকদের মধ্যে সার নিয়ে স্বস্তি রয়েছে। তবে আমন ধানের উপরি প্রয়োগের সময়টিতে চাহিদা বাড়ায় সার সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন কৃষি বিভাগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।