১১:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মোহনপুরে জুয়েলারি দোকানে স্বর্ণালঙ্কার ও বিদ্যালয়ে ১৫টি ল্যাপটপ চুরি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০২:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১০৮৫ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীর মোহনপুরে একই রাতে দুটি স্থানে সংঘটিত হয়েছে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে উপজেলার ধুরইল ইউনিয়নের ধুরইল বাজারে ‘সাদাত জুয়েলার্স অ্যান্ড ক্লথ স্টোর’ এবং ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নের আথরাই উচ্চ বিদ্যালয়ে এই দুই চুরির ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, ধুরইল বাজারে নাইট গার্ডের অবহেলা ও বিদ্যালয়ে নাইট গার্ড না থাকায় এসব চুরির ঘটনা ঘটেছে।

ধুরইল বাজারের জহির মার্কেটে অবস্থিত মেসার্স সাদাত জুয়েলার্সের মালিক কাওসার জানান, প্রতিদিনের মতো গত ২০ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে দোকান বন্ধ করে তিনি বাড়ি যান। পরদিন সকালে দোকান খুলতে এসে দেখতে পান, দোকানের পশ্চিম-দক্ষিণ কোণে টিনের ছাউনি কেটে ভেতরে প্রবেশ করেছে দুর্বৃত্তরা।

পাশের দোকানদার ও বাজার কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে তল্লাশি চালিয়ে দেখতে পান, দোকানের সুকেচের ড্রয়ার ভেঙে স্বর্ণ, রুপা ও নগদ অর্থ চুরি হয়েছে।

চুরি হওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে—স্বর্ণের নাকফুল ২০ পিস, ছোট স্বর্ণের বালা ১টি, ছোট স্বর্ণের কানের দুল ১ জোড়া, রূপার নুপুর, চুড়ি, আংটি, বালা ও ভাঙা রূপাসহ মোট ৮০ ভরি, ১০টি লুঙ্গি এবং নগদ ৫,০০০ টাকা।

দোকান মালিক কাওসার জানান, সর্বমোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা।

অন্যদিকে, একই রাতে উপজেলার আথরাই উচ্চ বিদ্যালয়ের ল্যাব কক্ষের তালা ভেঙে ১৫টি ল্যাপটপ, ১টি প্রজেক্টর, রাউটার ও অন্যান্য সরঞ্জাম চুরি হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম এ কাইয়ুম জানান, চুরি হওয়া সরঞ্জামের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭ লাখ টাকা।

চুরির খবর পেয়ে মোহনপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মোহনপুর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মোদাস্সের হোসেন খান জানান, ধুরইল বাজারের চুরির ঘটনায় সন্দেহভাজন তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুউদ্দীন বলেন, “দুটি চুরির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়েছে। চোরদের শনাক্ত ও চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে।”

স্থানীয়রা জানান, ধুরইল বাজারে সাম্প্রতিক সময়ে অন্তত চারটি চুরির ঘটনা ঘটলেও এখনো কোনো চোর ধরা না পড়ায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, দ্রুতই চোরদের শনাক্ত করে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার করা হবে।

ধুরইল বাজারে তিনজন নাইট গার্ড মাদকাসক্ত হওয়ায় দ্বায়িত্বে অবহেলা ও আথরাই উচ্চ বিদ্যালয়ে নাইট গার্ড না থাকায় ল্যাপটপ চুরি হয়েছে বলেও জানায় স্থানীয়রা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মোহনপুরে জুয়েলারি দোকানে স্বর্ণালঙ্কার ও বিদ্যালয়ে ১৫টি ল্যাপটপ চুরি

আপডেট সময় : ০১:০২:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

রাজশাহীর মোহনপুরে একই রাতে দুটি স্থানে সংঘটিত হয়েছে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে উপজেলার ধুরইল ইউনিয়নের ধুরইল বাজারে ‘সাদাত জুয়েলার্স অ্যান্ড ক্লথ স্টোর’ এবং ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নের আথরাই উচ্চ বিদ্যালয়ে এই দুই চুরির ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, ধুরইল বাজারে নাইট গার্ডের অবহেলা ও বিদ্যালয়ে নাইট গার্ড না থাকায় এসব চুরির ঘটনা ঘটেছে।

ধুরইল বাজারের জহির মার্কেটে অবস্থিত মেসার্স সাদাত জুয়েলার্সের মালিক কাওসার জানান, প্রতিদিনের মতো গত ২০ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে দোকান বন্ধ করে তিনি বাড়ি যান। পরদিন সকালে দোকান খুলতে এসে দেখতে পান, দোকানের পশ্চিম-দক্ষিণ কোণে টিনের ছাউনি কেটে ভেতরে প্রবেশ করেছে দুর্বৃত্তরা।

পাশের দোকানদার ও বাজার কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে তল্লাশি চালিয়ে দেখতে পান, দোকানের সুকেচের ড্রয়ার ভেঙে স্বর্ণ, রুপা ও নগদ অর্থ চুরি হয়েছে।

চুরি হওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে—স্বর্ণের নাকফুল ২০ পিস, ছোট স্বর্ণের বালা ১টি, ছোট স্বর্ণের কানের দুল ১ জোড়া, রূপার নুপুর, চুড়ি, আংটি, বালা ও ভাঙা রূপাসহ মোট ৮০ ভরি, ১০টি লুঙ্গি এবং নগদ ৫,০০০ টাকা।

দোকান মালিক কাওসার জানান, সর্বমোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা।

অন্যদিকে, একই রাতে উপজেলার আথরাই উচ্চ বিদ্যালয়ের ল্যাব কক্ষের তালা ভেঙে ১৫টি ল্যাপটপ, ১টি প্রজেক্টর, রাউটার ও অন্যান্য সরঞ্জাম চুরি হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম এ কাইয়ুম জানান, চুরি হওয়া সরঞ্জামের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭ লাখ টাকা।

চুরির খবর পেয়ে মোহনপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মোহনপুর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মোদাস্সের হোসেন খান জানান, ধুরইল বাজারের চুরির ঘটনায় সন্দেহভাজন তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুউদ্দীন বলেন, “দুটি চুরির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়েছে। চোরদের শনাক্ত ও চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে।”

স্থানীয়রা জানান, ধুরইল বাজারে সাম্প্রতিক সময়ে অন্তত চারটি চুরির ঘটনা ঘটলেও এখনো কোনো চোর ধরা না পড়ায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, দ্রুতই চোরদের শনাক্ত করে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার করা হবে।

ধুরইল বাজারে তিনজন নাইট গার্ড মাদকাসক্ত হওয়ায় দ্বায়িত্বে অবহেলা ও আথরাই উচ্চ বিদ্যালয়ে নাইট গার্ড না থাকায় ল্যাপটপ চুরি হয়েছে বলেও জানায় স্থানীয়রা।